জর্জিয়ায় মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন মসজিদ নির্মাণে ২৯ লাখ ডলারের তহবিল, বাংলাদেশি কমিউনিটিকেও এগিয়ে আসার আহ্বান
- প্রকাশঃ ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৮:২৪
- / 0
জর্জিয়া, ২৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – জর্জিয়ার কামিং এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য জুমার দিনটি অনেক সময় কমিউনিটির সঙ্গে মিলিত হওয়ারও একটি সুযোগ। একই মসজিদে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই মিলনস্থলের প্রয়োজনও বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি জুমায় ৫০০ – ৫৫০ জনের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। জায়গা ও গাড়ি রাখার সংকটের পাশাপাশি রমজানে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত স্থান এবং বয়স্কদের চলাচলের উপযোগী সুবিধার ঘাটতিও রয়েছে।
এই চাহিদা সামনে রেখে মসজিদ আল-রহমানের উদ্যোগে কামিং এলাকায় নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি কেনাসহ মোট ২৯ লাখ ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৬৫ হাজার ৯১১ ডলার সংগ্রহ হয়েছে। যা মোট টাকার ৩৭ %- আগামী ৩১ আগস্ট জমি কেনার চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাকি অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
নতুন মসজিদের জন্য ১৩০০ পিচট্রি পার্কওয়েতে ৭ দশমিক ৫ একর জমি কেনার চুক্তি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে ৩০০টির বেশি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, একটি বহুমুখী হল এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগসহ নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হবে। নতুন স্থাপনাটিতে বর্তমান জায়গার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিশু ও তরুণদের জন্য পৃথক কার্যক্রম এবং বাইরে খেলাধুলার সুযোগ রাখার কথাও জানিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
নতুন মসজিদ নির্মাণের পর ১২৩৫ পিচট্রি পার্কওয়েতে অবস্থিত বর্তমান ভবনটিকে পূর্ণকালীন ইসলামিক স্কুল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুলটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। এর ফলে নতুন মসজিদের পাশাপাশি বর্তমান স্থাপনাটিও কমিউনিটির শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। মসজিদ কমিউনিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি কোনো একটি দেশের মানুষের জন্য তৈরি প্রতিষ্ঠান নয়। বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের অংশগ্রহণে কামিং এলাকায় একটি বৃহৎ মুসলিম কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।
বাংলাদেশি কমিউনিটির যাঁরা এখনো প্রকল্পটির বিষয়ে জানেন না, তাঁদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুণ- কামিং কমিউনিটি সেন্টার
তহবিল সংগ্রহ অভিযানে বিভিন্ন অঙ্কের অনুদানকে প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে প্রতীকীভাবে যুক্ত করা হয়েছে। ১০০ ডলারকে একটি ইট, ১ হাজার ডলারকে একটি নামাজের স্থান, ৬ হাজার ডলারকে একটি গাড়ি রাখার জায়গা এবং ২৫ হাজার ডলারকে একটি শ্রেণিকক্ষের প্রতীকী অনুদান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এককালীন অনুদানের পাশাপাশি মাসিক ভিত্তিতেও অর্থ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমান জায়গা ও গাড়ি রাখার সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী ইসলামিক ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। ৩১ আগস্ট জমি কেনার চুক্তি সম্পন্নের সময়সীমা সামনে রেখে বাংলাদেশিসহ বৃহত্তর মুসলিম কমিউনিটির মানুষের কাছে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।



























