বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
- প্রকাশঃ ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩
- / 1
ওয়াশিংটন, ১ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা ইস্যুর ওপর আরোপ করা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়েছে। নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতের রায়ের পর গত ২১ আগস্ট থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। ২৮ আগস্ট হালনাগাদ করা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর ফলে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার ক্ষেত্রে আগের নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। তবে ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের প্রচলিত সব যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হবে।
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। অভিবাসী ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি হয় এবং পরবর্তী সময়ে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথও খুলতে পারে।
তখন মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তালিকাভুক্ত কিছু দেশের আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে তাদের আবেদন আরও বিস্তারিতভাবে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। এই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক। মামলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিবাদী করা হয়।
নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস মামলাটির রায় দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিক হওয়ার কারণেই তাদের অভিবাসী ভিসা আটকে রাখা অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের অধীনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।
এর পরই ২১ আগস্ট থেকে স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা বন্ধ হয়ে যায়। ২৮ আগস্ট হালনাগাদ করা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটেও এই পরিবর্তন প্রতিফলিত হয়েছে। স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকার সময়ও আগে ইস্যু করা ভিসা বাতিল করা হয়নি। একই সময়ে নতুন অভিবাসী ভিসার আবেদন জমা দেওয়া এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগও ছিল।
মূলত আবেদন প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে ভিসা ইস্যু করার ওপরই স্থগিতাদেশ কার্যকর ছিল। এখন সেই বাধা উঠে যাওয়ায় তালিকাভুক্ত দেশগুলোর যোগ্য আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু করা সম্ভব হবে। তবে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা অনুমোদন পাওয়া নয়। প্রত্যেক আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত অভিবাসী ভিসার যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ছাড়াও তালিকায় ছিল আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বারবাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোত দিভোয়ার, কিউবা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, উরুগুয়ে ও ইয়েমেন।

















