আমেরিকায় ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ নিয়ে নতুন নির্দেশনা, বাংলাদেশিদের জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ
- প্রকাশঃ ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০:০৪
- / 4
ওয়াশিংটন, ১৬ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন পিটিশনের যাচাই ও ভেটিং প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। একই সময়ে কংগ্রেসে এমন একটি বিল উত্থাপিত হয়েছে, যা পাস হলে বাবা-মা, ভাই-বোন ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য বর্তমান পারিবারিক স্পন্সরশিপ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে প্রস্তাবিত আইনটি এখনো পাস হয়নি। ফলে বর্তমানে প্রচলিত ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন আইন কার্যকর রয়েছে।
ইউএসসিআইএসের ১ আগস্ট ২০২৫-এর নীতিগত নির্দেশনা অনুযায়ী, ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পিটিশনে পারিবারিক সম্পর্কের বৈধতা, আবেদনকারীর যোগ্যতা, সাক্ষাৎকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। নির্দেশনাটি ১ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর এবং ওই তারিখে পেন্ডিং থাকা ও পরবর্তী সময়ে জমা দেওয়া পিটিশনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
নতুন নীতিতে বিশেষ করে বিয়ের ভিত্তিতে করা পিটিশনের ক্ষেত্রে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রকৃত, যাচাইযোগ্য এবং আইনসম্মত কি না, তা প্রমাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো মামলায় প্রয়োজন মনে করলে ইউএসসিআইএস পিটিশনার ও বেনিফিশিয়ারিকে সাক্ষাৎকারে ডাকতে পারে। তবে সব ফ্যামিলি-বেসড পিটিশনের জন্য বাধ্যতামূলক ইন-পারসন সাক্ষাৎকার চালু হয়েছে, এমনটি নির্দেশনায় বলা হয়নি।
নীতিতে নোটিস টু অ্যাপিয়ার বা NTA-এর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় রিমুভেবল হলে প্রযোজ্য পরিস্থিতিতে ইউএসসিআইএস তাকে ইমিগ্রেশন কোর্টের রিমুভাল প্রসিডিংসে পাঠানোর জন্য NTA দিতে পারে। তাই I-130 পিটিশন অনুমোদিত হওয়াকে নিজে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যায় না।
কংগ্রেসে ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন বদলের বিল
ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশনের কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাবও এসেছে কংগ্রেসে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ব্যারি মুর ২৯ এপ্রিল ২০২৬ প্রতিনিধি পরিষদে H.R. 8586, ‘Americans First Immigration Act’ উত্থাপন করেন। বিলটি হাউসের জুডিশিয়ারি এবং এডুকেশন অ্যান্ড ওয়ার্কফোর্স কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবটি পাস হলে মার্কিন নাগরিকদের পরিবারের সদস্য স্পন্সরের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে। বিলের প্রস্তাবিত কাঠামোয় ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ ক্যাটাগরিতে বাবা-মাকে বাদ দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি-বেসড প্রেফারেন্সের সম্প্রসারিত ক্যাটাগরিগুলো বাতিলের প্রস্তাব রয়েছে।
এর ফলে বাবা-মা, ভাই-বোন এবং প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য বর্তমানে থাকা বেশ কিছু গ্রিন কার্ডের পারিবারিক ক্যাটাগরি বিলুপ্ত হতে পারে। তবে এটি বর্তমানে কার্যকর আইন নয়। বিলটি এখনো কংগ্রেসের বিবেচনাধীন।
বর্তমান আইনে মার্কিন নাগরিকরা নির্দিষ্ট শর্তে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং ভাই-বোনের জন্য পিটিশন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানের জন্য পিটিশন করতে পারেন। ফলে বাবা-মা বা ভাই-বোনকে স্পন্সর করার বর্তমান সুযোগ ইতোমধ্যে বাতিল হয়েছে, এমন দাবি সঠিক নয়।
ডিভি লটারিতেও প্রস্তাবিত পরিবর্তন
H.R. 8586-এ ডাইভারসিটি ভিসা বা DV লটারি কর্মসূচি বাতিলের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ড ব্যবস্থার পরিবর্তে পয়েন্টভিত্তিক মেরিট সিস্টেম চালুর কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় শিক্ষা, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, চাকরির বেতনসহ বিভিন্ন যোগ্যতার ভিত্তিতে পয়েন্ট দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে DV লটারি আইনগতভাবে এখনো বিলুপ্ত হয়নি। ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা দেয়, ডাইভারসিটি ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দপ্তর জানিয়েছে, কর্মসূচির স্ক্রিনিং ও ভেটিং ব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আবেদন ও সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া চলতে পারলেও ওই নির্দেশনার অধীনে DV ইস্যু করা হচ্ছে না।
অর্থাৎ প্রশাসনিকভাবে ভিসা ইস্যু স্থগিত থাকা এবং কংগ্রেসের মাধ্যমে DV কর্মসূচি আইনগতভাবে বাতিল হওয়া পৃথক বিষয়।
বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ভিসা ইস্যুর পৃথক নীতি
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ফ্যামিলি-বেসড পিটিশনের পাশাপাশি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সংক্রান্ত পৃথক মার্কিন নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দপ্তরটি জানিয়েছে, এসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং ও ভেটিং নীতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফলে বাংলাদেশ থেকে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে I-130 পিটিশনের নিয়মের পাশাপাশি ভিসা ইস্যু সংক্রান্ত এই পৃথক নীতিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট বা Form I-864 নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়েছে। এর মধ্যে ক্রেডিট স্কোর, তিন বছরের সার্টিফায়েড ট্যাক্স রিটার্ন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সবার জন্য নতুন করে বাধ্যতামূলক হওয়ার দাবিও রয়েছে। এসব দাবিকে বর্তমান কার্যকর নিয়ম হিসেবে গ্রহণ করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত পরিবর্তন, প্রশাসনিক নির্দেশনা এবং কার্যকর আইনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নতুন কোনো বিধান কার্যকর হলে তার শর্ত ও কার্যকর হওয়ার তারিখ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার চূড়ান্ত ঘোষণায় নির্ধারিত হয়।
তবে I-864-এ স্বাক্ষর করার পর স্পন্সরের আর্থিক দায় দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। কেবল বিবাহবিচ্ছেদ হলে সাধারণভাবে এই দায়িত্ব শেষ হয় না। আইনে নির্ধারিত কিছু পরিস্থিতিতে স্পন্সরের দায় শেষ হতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ ব্যবস্থা বহাল আছে। বাবা-মা বা ভাই-বোনকে স্পন্সর করার সুযোগও বর্তমান আইনে রয়েছে। তবে ইউএসসিআইএসের নতুন যাচাই ও ভেটিং নির্দেশনা, বাংলাদেশি নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সংক্রান্ত পৃথক নীতি এবং H.R. 8586-এর মতো প্রস্তাবিত আইন ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন নিয়ে ভবিষ্যতের পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এনেছে। আবেদনকারীদের তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ওপর নির্ভর না করে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা উচিত।
সূত্র: ইউএসসিআইএস (USCIS), মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট (U.S. Department of State)





























