ঢাকা ০৭:১৮ , Mon, ৩১ Aug ২০২৬

নব্বইয়ের দশকের বিতর্কের মঞ্চ থেকে ক্যালটেক-হার্ভার্ড, রেবেকা শাফি এখন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক

শাহারিয়া নয়ন
  • প্রকাশঃ ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৫
  • / 2
নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিতার্কিক রেবেকা শাফি ছবি: গ্রাফিক্স- প্রজন্ম কথা

ব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কিশোরী রেবেকা শাফির বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্য ও সাবলীল উপস্থাপনা নজর কেড়েছিল। কয়েক দশক পর সেই বিতর্কের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি। তবে বিতর্কের সেই কিশোরী পরবর্তী সময়ে পাড়ি দিয়েছেন বিজ্ঞানের ভিন্ন ভিন্ন জগতে, পড়াশোনা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মানবমস্তিষ্ক ও জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করছেন।

বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা রেবেকার শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই ছিল বৈচিত্র্য। নিজের পরিচিতিতে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনার পাশাপাশি একই সময়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ও এবং এ লেভেলও সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি।

ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালটেকে পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেন রেবেকা। স্নাতক পর্যায়ে তিনি ৪-এর মধ্যে ৪.০০ সিজিপিএ অর্জন করেন। বিশ্বের অন্যতম কঠিন একাডেমিক পরিবেশে এই ফল তাঁর একাডেমিক দক্ষতার পরিচয় দেয়।

ক্যালটেকের পর রেবেকার পরবর্তী গন্তব্য ছিল বোস্টন। সেখানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি করেন তিনি। তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল ব্ল্যাক হোল, বিশেষ করে এর ঘূর্ণন বা স্পিন নিয়ে গবেষণা।

পদার্থবিদ্যা ও মহাকাশবিজ্ঞানের এই দীর্ঘ পথচলার পর রেবেকা গবেষণার ক্ষেত্র পরিবর্তন করেন। এবার তাঁর আগ্রহের কেন্দ্রে আসে মানুষের মস্তিষ্ক ও জেনেটিক্স। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথে গবেষণা ফেলো হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

বর্তমান গবেষণায় স্নায়ুবিজ্ঞান ও মানব জেনেটিক্সের সংযোগস্থল নিয়ে কাজ করছেন রেবেকা। মানুষের মস্তিষ্কের গঠন এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে, তাঁর গবেষণার অন্যতম বিষয় সেটি।

রেবেকার শিক্ষাজীবন ও গবেষণার পথ তাই একাধিক ভিন্ন অধ্যায়ের সমন্বয়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিতর্কের মঞ্চ থেকে শুরু করে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক, হার্ভার্ডে ব্ল্যাক হোল নিয়ে পিএইচডি এবং পরে মানবমস্তিষ্ক ও জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা, প্রতিটি পর্যায়েই তিনি নতুন জ্ঞানক্ষেত্রে প্রবেশ করেছেন।

তাঁর এই পথচলার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো গবেষণার বিষয় পরিবর্তনের মধ্যেও জ্ঞান অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। ছোটবেলার বিতর্কের মঞ্চে যে কৌতূহলী ও অনুসন্ধিৎসু মনোভাবের পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল, পরবর্তী একাডেমিক ও গবেষণাজীবনেও সেই অনুসন্ধানের বিস্তার ঘটেছে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে।

❤️
👏
🙂
😞

নব্বইয়ের দশকের বিতর্কের মঞ্চ থেকে ক্যালটেক-হার্ভার্ড, রেবেকা শাফি এখন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক

প্রকাশঃ ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৫

ব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কিশোরী রেবেকা শাফির বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্য ও সাবলীল উপস্থাপনা নজর কেড়েছিল। কয়েক দশক পর সেই বিতর্কের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি। তবে বিতর্কের সেই কিশোরী পরবর্তী সময়ে পাড়ি দিয়েছেন বিজ্ঞানের ভিন্ন ভিন্ন জগতে, পড়াশোনা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মানবমস্তিষ্ক ও জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করছেন।

বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা রেবেকার শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই ছিল বৈচিত্র্য। নিজের পরিচিতিতে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনার পাশাপাশি একই সময়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ও এবং এ লেভেলও সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি।

ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালটেকে পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেন রেবেকা। স্নাতক পর্যায়ে তিনি ৪-এর মধ্যে ৪.০০ সিজিপিএ অর্জন করেন। বিশ্বের অন্যতম কঠিন একাডেমিক পরিবেশে এই ফল তাঁর একাডেমিক দক্ষতার পরিচয় দেয়।

ক্যালটেকের পর রেবেকার পরবর্তী গন্তব্য ছিল বোস্টন। সেখানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি করেন তিনি। তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল ব্ল্যাক হোল, বিশেষ করে এর ঘূর্ণন বা স্পিন নিয়ে গবেষণা।

পদার্থবিদ্যা ও মহাকাশবিজ্ঞানের এই দীর্ঘ পথচলার পর রেবেকা গবেষণার ক্ষেত্র পরিবর্তন করেন। এবার তাঁর আগ্রহের কেন্দ্রে আসে মানুষের মস্তিষ্ক ও জেনেটিক্স। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথে গবেষণা ফেলো হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

বর্তমান গবেষণায় স্নায়ুবিজ্ঞান ও মানব জেনেটিক্সের সংযোগস্থল নিয়ে কাজ করছেন রেবেকা। মানুষের মস্তিষ্কের গঠন এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে, তাঁর গবেষণার অন্যতম বিষয় সেটি।

রেবেকার শিক্ষাজীবন ও গবেষণার পথ তাই একাধিক ভিন্ন অধ্যায়ের সমন্বয়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিতর্কের মঞ্চ থেকে শুরু করে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক, হার্ভার্ডে ব্ল্যাক হোল নিয়ে পিএইচডি এবং পরে মানবমস্তিষ্ক ও জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা, প্রতিটি পর্যায়েই তিনি নতুন জ্ঞানক্ষেত্রে প্রবেশ করেছেন।

তাঁর এই পথচলার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো গবেষণার বিষয় পরিবর্তনের মধ্যেও জ্ঞান অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। ছোটবেলার বিতর্কের মঞ্চে যে কৌতূহলী ও অনুসন্ধিৎসু মনোভাবের পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল, পরবর্তী একাডেমিক ও গবেষণাজীবনেও সেই অনুসন্ধানের বিস্তার ঘটেছে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে।