যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা থেকে স্থায়ী বসবাস: এফ-১ শিক্ষার্থীদের গ্রিন কার্ডের সম্ভাব্য পথ
- প্রকাশঃ ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ২০:৪৯
- / 3
ওয়াশিংটন, ২৪ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ডের সুযোগ তৈরি হয় না। স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চাইলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট কোনো অভিবাসনভিত্তিক গ্রিন কার্ড ক্যাটাগরির যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরিদাতার স্পনসরশিপের পাশাপাশি ইবি-১এ এবং ইবি-২ ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউয়ের মতো স্ব-আবেদনভিত্তিক পথও বিবেচনা করা যায়। কোন পথটি উপযুক্ত হবে, তা শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা, কাজের ক্ষেত্র, জন্মদেশ এবং অন্যান্য অভিবাসনগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
এফ-১ একটি অ-অভিবাসী শিক্ষার্থী স্ট্যাটাস। ভিসার আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীকে পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার অভিপ্রায় দেখাতে হয়। তবে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে এবং কোনো গ্রিন কার্ড ক্যাটাগরির যোগ্যতা অর্জিত হলে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় থেকেই সম্ভাব্য অভিবাসন পথ নিয়ে পরিকল্পনা করা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রি শেষ করার পর অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা ওপিটির সময়ে ভবিষ্যতের অভিবাসন পরিকল্পনা শুরু করেন। সাধারণ ওপিটির মাধ্যমে পড়াশোনা শেষে সর্বোচ্চ ১২ মাস কাজের অনুমতি পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক ডিগ্রি এবং অন্যান্য যোগ্যতার ক্ষেত্রে কিছু এফ-১ গ্র্যাজুয়েট অতিরিক্ত ওপিটি মেয়াদ পাওয়ার সুযোগও পেতে পারেন।
বিশেষ করে মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ওপিটির সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ সময়ে কেউ চাকরিদাতার মাধ্যমে ইবি-২ বা ইবি-৩-এর প্রস্তুতি নিতে পারেন। আবার পেশাগত ও একাডেমিক অর্জন যথেষ্ট হলে ইবি-২ এনআইডব্লিউ বা ইবি-১এ-এর মতো স্ব-আবেদনভিত্তিক পথও বিবেচনা করা যায়। উচ্চতর ডিগ্রি কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ক্যাটাগরিতে সুবিধা দিলেও ডিগ্রি একাই গ্রিন কার্ডের যোগ্যতা নিশ্চিত করে না।
চাকরিদাতার স্পনসরশিপে ইবি-২ ও ইবি-৩
এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের পরিচিত পথগুলোর মধ্যে ইবি-২ ও ইবি-৩ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত একজন মার্কিন চাকরিদাতার স্পনসরশিপ প্রয়োজন হয়।
ইবি-২ ক্যাটাগরিতে সাধারণত উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবীরা যোগ্য হতে পারেন। ব্যাচেলর ডিগ্রির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের ক্রমবর্ধমান পেশাগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। অসাধারণ দক্ষতার ভিত্তিতেও কিছু আবেদনকারী এই ক্যাটাগরিতে যেতে পারেন।
ইবি-৩-এর আওতায় ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী, কমপক্ষে দুই বছরের প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দক্ষ কর্মী এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
চাকরিদাতা-স্পনসরড প্রক্রিয়ায় সাধারণত প্রথমে পার্ম শ্রম সনদ বা শ্রমবাজার যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এতে চাকরিদাতাকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে ওই পদের জন্য নির্ধারিত মজুরিতে উপযুক্ত মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না, তা শ্রম মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রমাণ করতে হয়। ২০২৬ সালের শুরুর দিকের তথ্য অনুযায়ী, পার্ম প্রক্রিয়ায় এক বছরের বেশি সময় লাগছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সময় ১৬ মাসের কাছাকাছি বা তারও বেশি হতে পারে। তবে প্রক্রিয়াকরণের সময় পরিবর্তনশীল হওয়ায় আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
পার্ম অনুমোদনের পর চাকরিদাতা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার কাছে আই-১৪০ আবেদন জমা দেন। নির্দিষ্ট ইবি-২ ও ইবি-৩ আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সরকারি ফি দিয়ে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ রয়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এর অতিরিক্ত ফি ২ হাজার ৯৬৫ ডলার এবং নির্দিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ১৫ কর্মদিবসের প্রক্রিয়াকরণ সময়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে।
আই-১৪০ অনুমোদন পেলেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ এবং জন্মদেশ অনুযায়ী অভিবাসী ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা বিবেচনা করা হয়। প্রয়োজনীয় তারিখ বর্তমান হলে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আবেদনকারী আই-৪৮৫-এর মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের জন্য স্ট্যাটাস সমন্বয়ের আবেদন করতে পারেন।
কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার সময় জন্মদেশভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে ভারত ও চীনে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীদের কিছু ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতে পারে। এ কারণে প্রতি মাসের ভিসা বুলেটিনের তথ্য দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রক্রিয়ায় চাকরিদাতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় শুরুতেই চাকরি পরিবর্তন করলে পার্ম প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এসি২১ আইনের অধীনে চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। আই-১৪০ অনুমোদিত হওয়ার পর আই-৪৮৫ আবেদন কমপক্ষে ১৮০ দিন মুলতুবি থাকলে একই বা কাছাকাছি পেশাগত শ্রেণির নতুন চাকরিতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আই-১৪০ অনুমোদনের পর সাধারণত ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনে অগ্রাধিকার তারিখ ধরে রাখার সুযোগও থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে।
চাকরিদাতা ছাড়াই ইবি-২ এনআইডব্লিউ
ইবি-২ ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ হলো ইবি-২-এর একটি স্ব-আবেদনভিত্তিক পথ। যোগ্য আবেদনকারী চাকরিদাতার স্পনসরশিপ ছাড়াই আবেদন করতে পারেন এবং অনুমোদন পেলে পার্ম শ্রম সনদের প্রয়োজন হয় না।
ম্যাটার অব ধানাসার মামলায় নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী এনআইডব্লিউ আবেদনে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীর প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব ও জাতীয় গুরুত্ব থাকতে হবে। ওই কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদনকারীকে উপযুক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। একই সঙ্গে চাকরির প্রস্তাব ও শ্রমবাজার যাচাইয়ের শর্ত বাদ দিলে তা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে উপকারী হবে, এমনটি প্রমাণ করতে হয়।
এ জন্য আবেদনকারীর প্রস্তাবিত কাজ, পেশাগত অর্জন, কাজের সম্ভাব্য প্রভাব এবং ভবিষ্যতে সেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। মাস্টার্স বা পিএইচডি ডিগ্রি অনেক আবেদনে সহায়ক হলেও এনআইডব্লিউয়ের জন্য এগুলো একমাত্র বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। একইভাবে এই ক্যাটাগরি কোনো নির্দিষ্ট বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
আই-১৪০ অনুমোদিত হওয়ার পরও এনআইডব্লিউ আবেদনকারী ইবি-২ ভিসা বুলেটিনের ব্যাকলগের আওতায় পড়তে পারেন। ফলে আবেদন অনুমোদনের পরও জন্মদেশ ও অগ্রাধিকার তারিখ অনুযায়ী গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।
ইবি-১এতে অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ
ইবি-১ ক্যাটাগরি নিজ নিজ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্জন থাকা ব্যক্তিদের জন্য। এর মধ্যে এফ-১ শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ক্ষেত্রে ইবি-১এ এবং ইবি-১বি বেশি প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
ইবি-১এ অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এবং এতে চাকরির প্রস্তাবের বাধ্যবাধকতা নেই। যোগ্য আবেদনকারী নিজেই আবেদন করতে পারেন। ইবি-১বি অসাধারণ অধ্যাপক ও গবেষকদের জন্য, যেখানে চাকরিদাতার ভূমিকা প্রয়োজন। আর ইবি-১সি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের জন্য প্রযোজ্য।
ইবি-১এ আবেদনে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রমাণ দিতে হয়। বড় কোনো আন্তর্জাতিক পুরস্কারের প্রমাণ থাকলে সেটি একটি পথ। অন্যথায় নির্ধারিত ১০টি মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটি পূরণের প্রমাণ দেখানোর সুযোগ রয়েছে।
গবেষণাপত্র প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অবদান, অন্যদের কাজ মূল্যায়ন বা পর্যালোচনা, বিশেষ অর্জনভিত্তিক পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ, তুলনামূলকভাবে উচ্চ পারিশ্রমিক এবং আবেদনকারীর কাজ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন এসব মানদণ্ডের উদাহরণ।
তবে তিনটি মানদণ্ড পূরণ করলেই ইবি-১এ অনুমোদন নিশ্চিত হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা পুরো আবেদনের প্রমাণ পর্যালোচনা করে আবেদনকারী সত্যিই অসাধারণ দক্ষতার পর্যায়ে পৌঁছেছেন কি না, তা নির্ধারণ করে। ফলে প্রমাণের সংখ্যা ছাড়াও সেগুলোর মান, গুরুত্ব ও প্রভাব বিবেচিত হয়।
ওপিটির পর ও-১ থেকে ইবি-১এ
কিছু এফ-১ শিক্ষার্থী ওপিটি শেষ হওয়ার পর ও-১ অ-অভিবাসী ভিসায় যাওয়ার পথ বিবেচনা করতে পারেন। যাদের ইবি-১এ-এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ এখনো যথেষ্ট হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে পেশাগত রেকর্ড আরও শক্তিশালী করার সময় দিতে পারে এই স্ট্যাটাস।
ও-১এ বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার অধিকারীদের জন্য প্রযোজ্য। ও-১বি শিল্পকলার পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ক্ষেত্রে অসাধারণ অর্জন থাকা ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত হয়।
ও-১ আবেদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চাকরিদাতা বা এজেন্টের পিটিশন প্রয়োজন হয়। অনুমোদিত হলে নির্দিষ্ট কাজ বা কার্যক্রমের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত প্রাথমিক স্ট্যাটাস দেওয়া যেতে পারে। কাজ অব্যাহত রাখার প্রয়োজন হলে সাধারণত এক বছর করে মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকে।
ওপিটির পর ও-১ স্ট্যাটাসে থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত গবেষণাপত্র, বক্তৃতার আমন্ত্রণ, নেতৃত্বের দায়িত্ব, পেশাগত স্বীকৃতি ও অন্যান্য অর্জন ভবিষ্যতের ইবি-১এ আবেদনে সহায়ক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ইবি-৫ বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের পথ
উল্লেখযোগ্য বৈধ বিনিয়োগ মূলধন থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম আরেকটি পৃথক পথ। এখানে চাকরিদাতার স্পনসরশিপ বা অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণের পরিবর্তে যোগ্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির শর্ত পূরণ করতে হয়।
২০২৬ সালের হিসাবে সাধারণ ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। নির্দিষ্ট টার্গেটেড এমপ্লয়মেন্ট এরিয়া এবং যোগ্য অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বিনিয়োগ ৮ লাখ ডলার।
রিজিওনাল সেন্টারের মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে আই-৫২৬ই এবং সরাসরি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আই-৫২৬ আবেদন ব্যবহৃত হয়। আবেদন অনুমোদন ও ভিসা প্রাপ্যতার পর যোগ্য আবেদনকারী আই-৪৮৫-এর মাধ্যমে স্ট্যাটাস সমন্বয় করতে পারেন অথবা অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।
ইবি-৫ অনুমোদনের পর প্রথমে দুই বছরের জন্য শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়া যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বজায় রাখার শর্ত পূরণ হলে আই-৮২৯-এর মাধ্যমে শর্ত তুলে দেওয়ার আবেদন করা যায়।
এই ক্যাটাগরিতে বিনিয়োগের অর্থ বৈধ উৎস থেকে এসেছে কি না, প্রকল্পের শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না এবং প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে কি না, সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর জন্মদেশ অনেক সময় অপেক্ষার সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভারত ও চীনে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীদের কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষার মুখোমুখি হতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রতি মাসে ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করে। এতে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের জন্য ডেটস ফর ফাইলিং এবং ফাইনাল অ্যাকশন ডেট নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চার্ট থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা প্রতি মাসে নির্ধারণ করে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আবেদনকারীরা আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন চার্ট অনুসরণ করবেন। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ডেটস ফর ফাইলিং চার্ট ব্যবহার করলে আবেদনকারীরা চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ বর্তমান হওয়ার আগেই আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
অন্যদিকে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট অনুসরণ করতে হলে আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ সংশ্লিষ্ট চার্টে উল্লেখিত তারিখের আগের হতে হয়। ভিসার চাহিদা পরিবর্তিত হলে এসব তারিখ সামনে এগোতে, পিছিয়ে যেতে কিংবা কোনো ক্যাটাগরি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ হতে পারে।
আগস্ট ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ভারত ও চীন ছাড়া অন্যান্য দেশের জন্য ইবি-২-এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট বর্তমান দেখানো হয়েছে। একই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা কর্মসংস্থানভিত্তিক স্ট্যাটাস সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ফাইনাল অ্যাকশন ডেটস চার্ট ব্যবহার করতে বলেছে।
চীনে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীদের জন্য ওই মাসে ইবি-২-এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ছিল ১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ভারতের ক্ষেত্রে ইবি-২ ক্যাটাগরি অনুপলব্ধ দেখানো হয়েছে। ইবি-১-এর ক্ষেত্রে চীনের ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ছিল ১ জুলাই ২০২৩ এবং ভারতের ১৫ অক্টোবর ২০২২।
এ কারণে যোগ্যতা থাকলে ইবি-১এ-এর মতো উচ্চতর কর্মসংস্থানভিত্তিক ক্যাটাগরিতে যাওয়ার মাধ্যমে কিছু আবেদনকারীর অপেক্ষার সময় কমতে পারে। তবে ভিসা বুলেটিনের তারিখ প্রতি মাসে পরিবর্তিত হওয়ায় কোনো একটি মাসের তথ্যকে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যায় না।
এফ-১ থেকে গ্রিন কার্ডের পরিকল্পনায় তাই শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি পেশাগত অর্জন, চাকরির ধরন, জন্মদেশ, অগ্রাধিকার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট মাসে আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার জন্য কোন ভিসা বুলেটিন চার্ট প্রযোজ্য, এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

























