ঢাকা ০৯:৩৮ , Sun, ২০ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপক আফরোজা আনোয়ারী

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৫০
  • / 4
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক ড. আফরোজা আনওয়ারি ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম, ১৬ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে শুরু হওয়া ড. আফরোজা আনওয়ারির একাডেমিক পথচলা চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষাঙ্গনে অধ্যাপনা ও আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বর্তমানে মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মানকেটোর সমাজবিজ্ঞান ও নেতৃত্ব অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে স্নাতকোত্তর এবং ১৯৯৭ সালে একই বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন।

২০০০ সালে মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মানকেটোতে শিক্ষকতা শুরু করেন আফরোজা আনওয়ারি। এর আগে মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কনকর্ডিয়া কলেজ ও কার্লটন কলেজেও শিক্ষকতা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে বিশ্বায়ন, গণহত্যা, সামাজিক আন্দোলন এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা। বৈশ্বিক ভূমি সংঘাত, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, মানবাধিকার, অভিবাসন ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও তাঁর গবেষণা রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন আফরোজা আনওয়ারি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত সহিংসতা ও গণহত্যার রাজনৈতিক, শারীরিক ও সাংস্কৃতিক দিক নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। ২০২১ সালে প্রকাশিত তাঁর একটি গবেষণায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৪০ জন রোহিঙ্গা নারীর সাক্ষাৎকার ব্যবহার করে গণহত্যার প্রেক্ষাপটে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং নারীদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁর গবেষণার পরিসর রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ এশিয়ার সমাজ ও রাজনীতি, সামাজিক বৈষম্য, লিঙ্গ, বিশ্বায়ন এবং নারীর অধিকার নিয়েও তিনি গবেষণা ও একাডেমিক কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণার একটি প্রবন্ধে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর শ্রম, শ্রেণি, পরিবার ও বৈশ্বিক উৎপাদনব্যবস্থার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মানকেটো তাঁকে বিশিষ্ট শিক্ষক-গবেষক হিসেবে নির্বাচিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ২০২৪ সালের বিশিষ্ট শিক্ষক-গবেষক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত তিনজনের একজন হিসেবে আফরোজা আনওয়ারির নাম রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত পরিচিতিতেও তাঁর ২০০০ সাল থেকে সেখানে শিক্ষকতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে শুরু হওয়া তাঁর শিক্ষাজীবন পরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়। চার দশকের বেশি সময়ের এই পথচলায় অধ্যাপনার পাশাপাশি মানবাধিকার, গণহত্যা, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। বিশেষ করে রোহিঙ্গা নারীদের অভিজ্ঞতা ও গণহত্যার প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিসরে প্রকাশিত হয়েছে।

❤️
👏
🙂
😞

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপক আফরোজা আনোয়ারী

প্রকাশঃ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৫০

চট্টগ্রাম, ১৬ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে শুরু হওয়া ড. আফরোজা আনওয়ারির একাডেমিক পথচলা চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষাঙ্গনে অধ্যাপনা ও আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বর্তমানে মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মানকেটোর সমাজবিজ্ঞান ও নেতৃত্ব অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে স্নাতকোত্তর এবং ১৯৯৭ সালে একই বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন।

২০০০ সালে মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মানকেটোতে শিক্ষকতা শুরু করেন আফরোজা আনওয়ারি। এর আগে মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কনকর্ডিয়া কলেজ ও কার্লটন কলেজেও শিক্ষকতা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে বিশ্বায়ন, গণহত্যা, সামাজিক আন্দোলন এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা। বৈশ্বিক ভূমি সংঘাত, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, মানবাধিকার, অভিবাসন ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও তাঁর গবেষণা রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন আফরোজা আনওয়ারি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত সহিংসতা ও গণহত্যার রাজনৈতিক, শারীরিক ও সাংস্কৃতিক দিক নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। ২০২১ সালে প্রকাশিত তাঁর একটি গবেষণায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৪০ জন রোহিঙ্গা নারীর সাক্ষাৎকার ব্যবহার করে গণহত্যার প্রেক্ষাপটে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং নারীদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁর গবেষণার পরিসর রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ এশিয়ার সমাজ ও রাজনীতি, সামাজিক বৈষম্য, লিঙ্গ, বিশ্বায়ন এবং নারীর অধিকার নিয়েও তিনি গবেষণা ও একাডেমিক কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণার একটি প্রবন্ধে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর শ্রম, শ্রেণি, পরিবার ও বৈশ্বিক উৎপাদনব্যবস্থার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মানকেটো তাঁকে বিশিষ্ট শিক্ষক-গবেষক হিসেবে নির্বাচিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ২০২৪ সালের বিশিষ্ট শিক্ষক-গবেষক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত তিনজনের একজন হিসেবে আফরোজা আনওয়ারির নাম রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত পরিচিতিতেও তাঁর ২০০০ সাল থেকে সেখানে শিক্ষকতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে শুরু হওয়া তাঁর শিক্ষাজীবন পরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়। চার দশকের বেশি সময়ের এই পথচলায় অধ্যাপনার পাশাপাশি মানবাধিকার, গণহত্যা, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। বিশেষ করে রোহিঙ্গা নারীদের অভিজ্ঞতা ও গণহত্যার প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিসরে প্রকাশিত হয়েছে।