ঢাকা ০৯:৪০ , Wed, ১৬ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ৪ বছরের ভিসা সীমা স্থগিত করল আদালত

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩৩
  • / 1
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের অবস্থানের মেয়াদ চার বছরে সীমাবদ্ধ করার নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে তা স্থগিত করেছেন ফেডারেল আদালতের বিচারক ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ১৭ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ চার বছরে সীমাবদ্ধ করার নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে তা স্থগিত করেছেন একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক। ১৪ সেপ্টেম্বর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেলার এই আদেশ দেন। ফলে নতুন নিয়মটি আপাতত কার্যকর হচ্ছে না এবং আইনি লড়াই চলাকালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আগের ব্যবস্থা বহাল থাকছে।

মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর জুলাইয়ে নতুন নিয়মটি প্রকাশ করেছিল। এতে এফ ও জে শ্রেণির ভিসাধারী বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এফ ও জে ভিসাধারীদের জন্য সাধারণভাবে চার বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারিত হতো। চার বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতো।

এর আগে প্রায় পাঁচ দশক ধরে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চার বছরের সীমার পরিবর্তে তাদের অনুমোদিত শিক্ষা বা গবেষণা কার্যক্রমের মেয়াদ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ব্যবস্থা কার্যকর ছিল। নতুন নিয়মে সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

আগস্টে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক সংগঠন ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের জোট নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, নিয়মটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি।

সোমবার দেওয়া রায়ে বিচারক সেলার মামলাকারীদের কয়েকটি দাবির পক্ষে যুক্তি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাৎক্ষণিক ও অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি পর্যবেক্ষণ করেন।

রায়ে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের দেওয়া যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ও জালিয়াতি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও বিচারক মনে করেন, এসব যুক্তির পক্ষে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

নতুন নিয়ম তৈরির সময় সরকার প্রায় ২২ হাজার মতামত পেয়েছিল। মামলাকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব মতামতের অধিকাংশই প্রস্তাবিত নিয়মের বিরোধিতা করেছিল। চূড়ান্ত নিয়মে সেই আপত্তিগুলোর যথেষ্ট প্রতিফলন ঘটেনি বলেও মামলায় যুক্তি দেওয়া হয়।

মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবিত প্রক্রিয়া নিয়েও আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিচারকের মতে, আবেদন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ার কিছু বিষয় যথেষ্ট স্পষ্ট নয় এবং এর ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে ব্যাপক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থেকে যেতে পারে।

আদালতের আদেশের পর মামলাকারী উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সংগঠনগুলো সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্তমান ব্যবস্থায় ভিসার মেয়াদ ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

তবে আদালতের এই আদেশ চূড়ান্তভাবে নতুন নিয়ম বাতিল করেনি। মামলাটি চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানি ২ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে। ওই শুনানিতে নিয়মটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও অগ্রগতি হতে পারে।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ৪ বছরের ভিসা সীমা স্থগিত করল আদালত

প্রকাশঃ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩৩

ওয়াশিংটন, ১৭ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ চার বছরে সীমাবদ্ধ করার নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে তা স্থগিত করেছেন একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক। ১৪ সেপ্টেম্বর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেলার এই আদেশ দেন। ফলে নতুন নিয়মটি আপাতত কার্যকর হচ্ছে না এবং আইনি লড়াই চলাকালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আগের ব্যবস্থা বহাল থাকছে।

মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর জুলাইয়ে নতুন নিয়মটি প্রকাশ করেছিল। এতে এফ ও জে শ্রেণির ভিসাধারী বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এফ ও জে ভিসাধারীদের জন্য সাধারণভাবে চার বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারিত হতো। চার বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতো।

এর আগে প্রায় পাঁচ দশক ধরে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চার বছরের সীমার পরিবর্তে তাদের অনুমোদিত শিক্ষা বা গবেষণা কার্যক্রমের মেয়াদ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ব্যবস্থা কার্যকর ছিল। নতুন নিয়মে সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

আগস্টে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক সংগঠন ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের জোট নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, নিয়মটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি।

সোমবার দেওয়া রায়ে বিচারক সেলার মামলাকারীদের কয়েকটি দাবির পক্ষে যুক্তি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাৎক্ষণিক ও অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি পর্যবেক্ষণ করেন।

রায়ে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের দেওয়া যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ও জালিয়াতি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও বিচারক মনে করেন, এসব যুক্তির পক্ষে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

নতুন নিয়ম তৈরির সময় সরকার প্রায় ২২ হাজার মতামত পেয়েছিল। মামলাকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব মতামতের অধিকাংশই প্রস্তাবিত নিয়মের বিরোধিতা করেছিল। চূড়ান্ত নিয়মে সেই আপত্তিগুলোর যথেষ্ট প্রতিফলন ঘটেনি বলেও মামলায় যুক্তি দেওয়া হয়।

মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবিত প্রক্রিয়া নিয়েও আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিচারকের মতে, আবেদন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ার কিছু বিষয় যথেষ্ট স্পষ্ট নয় এবং এর ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে ব্যাপক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থেকে যেতে পারে।

আদালতের আদেশের পর মামলাকারী উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সংগঠনগুলো সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্তমান ব্যবস্থায় ভিসার মেয়াদ ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

তবে আদালতের এই আদেশ চূড়ান্তভাবে নতুন নিয়ম বাতিল করেনি। মামলাটি চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানি ২ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে। ওই শুনানিতে নিয়মটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও অগ্রগতি হতে পারে।