সিলেটের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে জুনেল, প্রকৌশলী থেকে এসপিসি ই-৪ স্পেশালিস্ট
- প্রকাশঃ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:২৩
- / 9
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার প্রত্যন্ত বনগাঁও-২ গ্রাম। এই গ্রামের পরিচিত পথ, পরিবার আর সাধারণ জীবন থেকেই জুনেল আহমেদের স্বপ্নের শুরু। একসময় যে তরুণের পরিচয় ছিল গ্রামের একটি সাধারণ পরিবারের ছেলে হিসেবে, সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয় বদলেছে পড়াশোনা, পরিশ্রম ও নিজের লক্ষ্য ধরে রাখার মধ্য দিয়ে। কুলাউড়া থেকে সিলেট, এরপর ঢাকা, আর সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র। প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পর এবার তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি অধ্যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদস্য জুনেল। কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করে জুনেল যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে এসপিসি ই-৪ স্পেশালিস্ট পদমর্যাদায়।
ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে স্বপ্নের সীমাও ছাড়ানো যায়। তার প্রমাণ রেখেছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বনগাঁও-২ গ্রামের তরুণ জুনেল আহমেদ। নানা বাধা পেরিয়ে তিনি এখন ইউনাইটেড স্টেটস আর্মিতে এসপিসি ই-৪ স্পেশালিস্ট র্যাঙ্কে যোগ দিয়েছেন।
গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জুনেলের এই অর্জন তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল। তাঁর এই পথচলায় রয়েছে একের পর এক শিক্ষাজীবনের ধাপ, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা, প্রকৌশলী হিসেবে পেশাগত ক্যারিয়ার এবং সবশেষে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি।
জুনেল আহমেদ কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের বনগাঁও-২ গ্রামের মরহুম আকুল মিয়া ও আনোয়ারা খানমের তৃতীয় সন্তান। তিনি কুলাউড়ার পরিচিত প্রতিষ্ঠান কুলাউড়া ডিজাইনারের কর্ণধার ফয়সাল আহমেদের ছোট ভাই। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী জুনেল লক্ষ্মীপুর মিশন স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করেন। এরপর কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। পরে সিলেট সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে ঢাকার একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। এমএসসি শেষ করার পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তবে পেশাগত ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও তাঁর লক্ষ্য থেমে থাকেনি। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার কঠোর প্রস্তুতি নিয়ে সম্প্রতি তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর বেসিক কমব্যাট ট্রেনিং (বিসিটি) সফলভাবে শেষ করেন। এরপর স্পেশালিস্ট বা এসপিসি ই-৪ র্যাঙ্কে দায়িত্ব শুরু করেছেন।
জুনেলের এই সাফল্যে বড় ভাই ফয়সাল আহমেদ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ছোটবেলা থেকেই জুনেল অসম্ভব পরিশ্রমী ও মেধাবী। আজ তাঁর এই সাফল্যে পুরো পরিবার গর্বিত। তিনি বলেন, জুনেল তাঁদের পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করার পাশাপাশি পুরো কুলাউড়ার নামও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছেন।
জুনেল আহমেদের এই অর্জন তাঁর পরিবারের কাছে যেমন আনন্দ ও গর্বের, তেমনি কুলাউড়ার মানুষের কাছেও বিশেষ একটি ঘটনা। বনগাঁও-২ গ্রামের সেই তরুণ আজ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন, যে পথের শুরু হয়েছিল নিজের স্বপ্নকে বড় করে দেখার মধ্য দিয়ে।
























