বাংলাদেশের টোনিমা তাসনিমকে ‘উদীয়মান বিজ্ঞানী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিল বৈজ্ঞানিক আমেরিকান
- প্রকাশঃ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:১৯
- / 2
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – ঢাকায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার রাতে আকাশের তারা দেখার কৌতূহল থেকে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে পথচলা শুরু। সেই কৌতূহলই তাঁকে নিয়ে গেছে অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণায়। বাংলাদেশি জ্যোতির্পদার্থবিদ ড. টোনিমা তাসনিম আনান্না এবার জায়গা করে নিয়েছেন বৈজ্ঞানিক আমেরিকানের ২০২৬ সালের ২৮ জন ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের গবেষকের বিশেষ তালিকায়। যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানের ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন এমন বিজ্ঞানীদের তুলে ধরতে প্রথমবারের মতো এই আয়োজন করেছে সাময়িকীটি।
মিশিগানের ওয়েইন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ টোনিমার গবেষণার মূল বিষয় অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর। এসব কৃষ্ণগহ্বর কীভাবে বেড়ে ওঠে, কীভাবে আশপাশের পদার্থ গ্রাস করে এবং যে ছায়াপথের কেন্দ্রে থাকে তার বিকাশে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন। বৈজ্ঞানিক আমেরিকানের প্রোফাইলে তাঁর গবেষণায় বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করে সক্রিয় ছায়াপথের কেন্দ্রীয় কৃষ্ণগহ্বরের আচরণ বোঝার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক আমেরিকানের ২০২৬ সালের জুলাই-আগস্ট সংখ্যায় প্রকাশিত এই বিশেষ আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষকদের মধ্য থেকে ২৮ জনকে বেছে নেওয়া হয়। সাময়িকীটি জানায়, শীর্ষস্থানীয় গবেষকদের মনোনয়ন, বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা ও গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ এবং সম্পাদকীয় মূল্যায়নের মাধ্যমে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচিতদের জাতীয়তা ভিন্ন হলেও তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়েছে।
ঢাকায় বেড়ে ওঠার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে রাতের আকাশ দেখার সুযোগকে টোনিমা বিজ্ঞানের প্রতি নিজের আগ্রহ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বৈজ্ঞানিক আমেরিকানকে তিনি বলেছেন, অন্ধকারে প্রতিবেশীদের পাশাপাশি আকাশও দেখা যেত, আর সেখান থেকেই মহাকাশের প্রতি তাঁর মুগ্ধতা তৈরি হয়। পরে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা নিয়ে তিনি অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের বিকাশ ও ছায়াপথের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণায় যুক্ত হন।
এর আগে ২০২০ সালেও টোনিমা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। সে বছর সায়েন্স নিউজ তাঁকে তাদের ‘এসএন ১০: সায়েন্টিস্টস টু ওয়াচ’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। তখন তিনি ডার্টমাউথ কলেজের গবেষক ছিলেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মহাবিশ্বের বিভিন্ন অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের জনগোষ্ঠী, তাদের বিকাশ এবং পরিবেশের ওপর প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁকে তুলে ধরা হয়।
টোনিমা ২০১৯ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। গবেষণাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নাসা ও সার্নে গবেষণার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। সায়েন্স নিউজের ২০২০ সালের প্রোফাইল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনার পর তিনি নাসা, সার্ন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পান।
বৈজ্ঞানিক আমেরিকানের এবারের স্বীকৃতি টোনিমার গবেষণার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন। অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর কীভাবে বেড়ে ওঠে এবং ছায়াপথের বিবর্তনে তাদের ভূমিকা কী, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তাঁর গবেষণা মহাবিশ্বের বৃহৎ কাঠামো ও তার বিকাশ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।




























