ঢাকা ০৯:৩৭ , Sun, ২০ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের শর্ত, মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ালেন ট্রাম্প; চাপে বাংলাদেশি কর্মীরা

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪১
  • / 12
নতুন এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের ফি ২০২৭ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ১৯ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের ভিসা ফি আরও এক বছর বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা নতুন ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে চালু হওয়া এই ফি ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে নতুন করে এইচ-১বি ভিসায় যেতে চাওয়া বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে, কারণ নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এই ফি পরিশোধের দায় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়বে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি কর্মীর হয়ে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাকে ১ লাখ ডলারের ফি পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ এটি কর্মীর ব্যক্তিগত পকেট থেকে দেওয়া সাধারণ ভিসা আবেদন ফি নয়, নিয়োগকর্তার জন্য নির্ধারিত অর্থপ্রদানের বাধ্যবাধকতা। যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকেই থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী বা অন্য বৈধ অবস্থান থেকে এইচ-১বি মর্যাদায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এবং বিদ্যমান এইচ-১বি কর্মীদের নবায়নে এই বিধিনিষেধ একইভাবে প্রযোজ্য নয়। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট কর্মী, প্রতিষ্ঠান বা শিল্পখাতকে ছাড় দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং মার্কিন কর্মীদের চাকরির বাজার সুরক্ষিত রাখতেই এই ফি বাড়ানো হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর বড় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী সরবরাহ ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত এইচ-১বি নিবন্ধন ২৪ হাজার ৯৪৬টি থেকে কমে ২ হাজার ৫৫টিতে নেমেছে, যা ৯২ শতাংশ হ্রাস। প্রশাসনের হিসাবে, একই সময়ে উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের দিকে এইচ-১বি বাছাইয়ের প্রবণতাও বেড়েছে।

বাংলাদেশি পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে এই নীতির প্রভাব মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে নতুন কর্মী নিয়োগের ওপর পড়তে পারে। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা, চিকিৎসা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বাংলাদেশ থেকে কোনো কর্মীকে নতুন করে নিয়োগ দিতে চাইলে মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে এই ১ লাখ ডলারের ফি বিবেচনায় নিতে হবে, যদি সংশ্লিষ্ট আবেদন বিধিনিষেধের আওতায় পড়ে। অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে পারে। তবে বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে নিয়োগকর্তা, কর্মীর অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট এইচ-১বি আবেদনের ধরন অনুযায়ী।

এই নীতির আইনি অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২৫ সালে চালু হওয়া ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা চলছে। জুনে একটি ফেডারেল আদালত প্রশাসনের এই ফি আদায়ের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে তা বন্ধের নির্দেশ দেয়। প্রশাসন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। বোস্টনভিত্তিক আপিল আদালত বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও আদালতের বর্তমান অবস্থানের কারণে এর প্রয়োগ নিয়ে আইনি বাধা রয়েছে।

এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের অন্যতম প্রধান পথ। ১৯৯০ সালে কংগ্রেস এই কর্মসূচি চালু করে। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট যোগ্যতার বিদেশি কর্মীদের কয়েক বছর কাজের সুযোগ দিতে পারে। বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের জন্যও এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

শুক্রবারের ঘোষণার পাশাপাশি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশেও সই করেছেন। এতে এইচ-১বি আবেদন যাচাইয়ের সময় বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আগের এক বছরে একই ধরনের মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করেছে কি না বা ভবিষ্যতে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে ১ লাখ ডলারের ফি বহাল রাখার পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদের যাচাই ও নজরদারিও বাড়ছে।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ওই বিধিনিষেধের মেয়াদ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন ঘোষণায় সেটি আরও ১২ মাস বাড়ানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকেই থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী, বর্তমান এইচ-১বি কর্মী এবং নির্দিষ্ট নবায়ন বা মর্যাদা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধটির প্রযোজ্যতা আলাদা।

বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য নতুন পরিস্থিতিতে মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের বাড়তি খরচ এবং আদালতে চলমান মামলার ফল। ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হলেও এর বাস্তব প্রয়োগ ও আইনি অবস্থান আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তে পরিবর্তিত হতে পারে।

❤️
👏
🙂
😞

এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের শর্ত, মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ালেন ট্রাম্প; চাপে বাংলাদেশি কর্মীরা

প্রকাশঃ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪১

ওয়াশিংটন, ১৯ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের ভিসা ফি আরও এক বছর বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা নতুন ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে চালু হওয়া এই ফি ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে নতুন করে এইচ-১বি ভিসায় যেতে চাওয়া বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে, কারণ নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এই ফি পরিশোধের দায় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়বে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি কর্মীর হয়ে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাকে ১ লাখ ডলারের ফি পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ এটি কর্মীর ব্যক্তিগত পকেট থেকে দেওয়া সাধারণ ভিসা আবেদন ফি নয়, নিয়োগকর্তার জন্য নির্ধারিত অর্থপ্রদানের বাধ্যবাধকতা। যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকেই থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী বা অন্য বৈধ অবস্থান থেকে এইচ-১বি মর্যাদায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এবং বিদ্যমান এইচ-১বি কর্মীদের নবায়নে এই বিধিনিষেধ একইভাবে প্রযোজ্য নয়। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট কর্মী, প্রতিষ্ঠান বা শিল্পখাতকে ছাড় দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং মার্কিন কর্মীদের চাকরির বাজার সুরক্ষিত রাখতেই এই ফি বাড়ানো হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর বড় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী সরবরাহ ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত এইচ-১বি নিবন্ধন ২৪ হাজার ৯৪৬টি থেকে কমে ২ হাজার ৫৫টিতে নেমেছে, যা ৯২ শতাংশ হ্রাস। প্রশাসনের হিসাবে, একই সময়ে উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের দিকে এইচ-১বি বাছাইয়ের প্রবণতাও বেড়েছে।

বাংলাদেশি পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে এই নীতির প্রভাব মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে নতুন কর্মী নিয়োগের ওপর পড়তে পারে। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা, চিকিৎসা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বাংলাদেশ থেকে কোনো কর্মীকে নতুন করে নিয়োগ দিতে চাইলে মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে এই ১ লাখ ডলারের ফি বিবেচনায় নিতে হবে, যদি সংশ্লিষ্ট আবেদন বিধিনিষেধের আওতায় পড়ে। অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে পারে। তবে বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে নিয়োগকর্তা, কর্মীর অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট এইচ-১বি আবেদনের ধরন অনুযায়ী।

এই নীতির আইনি অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২৫ সালে চালু হওয়া ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা চলছে। জুনে একটি ফেডারেল আদালত প্রশাসনের এই ফি আদায়ের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে তা বন্ধের নির্দেশ দেয়। প্রশাসন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। বোস্টনভিত্তিক আপিল আদালত বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও আদালতের বর্তমান অবস্থানের কারণে এর প্রয়োগ নিয়ে আইনি বাধা রয়েছে।

এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের অন্যতম প্রধান পথ। ১৯৯০ সালে কংগ্রেস এই কর্মসূচি চালু করে। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট যোগ্যতার বিদেশি কর্মীদের কয়েক বছর কাজের সুযোগ দিতে পারে। বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের জন্যও এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

শুক্রবারের ঘোষণার পাশাপাশি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশেও সই করেছেন। এতে এইচ-১বি আবেদন যাচাইয়ের সময় বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আগের এক বছরে একই ধরনের মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করেছে কি না বা ভবিষ্যতে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে ১ লাখ ডলারের ফি বহাল রাখার পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদের যাচাই ও নজরদারিও বাড়ছে।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ওই বিধিনিষেধের মেয়াদ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন ঘোষণায় সেটি আরও ১২ মাস বাড়ানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকেই থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী, বর্তমান এইচ-১বি কর্মী এবং নির্দিষ্ট নবায়ন বা মর্যাদা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধটির প্রযোজ্যতা আলাদা।

বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য নতুন পরিস্থিতিতে মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের বাড়তি খরচ এবং আদালতে চলমান মামলার ফল। ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হলেও এর বাস্তব প্রয়োগ ও আইনি অবস্থান আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তে পরিবর্তিত হতে পারে।