বাড়ি থেকে কাজের আবেদন প্রত্যাখ্যানে যুক্তরাজ্যে কঠোর হচ্ছে নিয়ম
- প্রকাশঃ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৭
- / 2
লন্ডন, ২০ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাজ্যে কর্মীদের নমনীয়ভাবে কাজের সুযোগ বাড়াতে নতুন নিয়ম কার্যকরের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো কর্মীর ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিংয়ের আবেদন নাকচ করার আগে নিয়োগকর্তাকে ওই কর্মীর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং কেন আবেদনটি গ্রহণ করা সম্ভব নয়, তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। নতুন ব্যবস্থা ২০২৭ সালে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মীদের কাজের ধরন ও সময় নিয়ে অনুরোধগুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে নিয়োগকর্তাদের। তবে এর অর্থ সব আবেদন অনুমোদন করতে হবে এমন নয়। কোনো কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বাড়ি থেকে কাজ করা সম্ভব না হলে বা ব্যবসায়িক কারণে অনুরোধ বাস্তবায়ন করা না গেলে নিয়োগকর্তা তা প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত কেন যৌক্তিক, তা ব্যাখ্যা করতে হবে।
চলতি সপ্তাহে ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ফার্স্ট সেক্রেটারি অব স্টেট লুইস হেইগ সরকারের এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি কাজ বাড়ি থেকে করা সম্ভব নয় এবং সব অনুরোধ গ্রহণ করাও সম্ভব হবে না। তবে কর্মীর অনুরোধ যথাযথভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
হেইগের বক্তব্য অনুযায়ী, সন্তানদের দেখাশোনা, বয়স্ক বাবা-মায়ের যত্ন নেওয়া কিংবা পরিবারের জরুরি দায়িত্বের মতো পরিস্থিতিতে কাজের সময় ও স্থান নিয়ে কিছুটা নমনীয়তা অনেক কর্মীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পল নাওয়াকও প্রস্তাবিত পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নমনীয়ভাবে কাজ করার সুযোগ অনেক কর্মীর জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় এবং নতুন ব্যবস্থা কর্মীদের নিজেদের প্রয়োজন তুলে ধরার সুযোগ বাড়াবে।
বর্তমান নিয়মে যুক্তরাজ্যের কর্মীরা চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রথম দিন থেকেই ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিংয়ের আবেদন করতে পারেন। এতে কর্মঘণ্টা, কাজ শুরুর বা শেষ করার সময়, কর্মদিবস এবং কাজের স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ করা যায়। বাড়ি থেকে কাজ ও হাইব্রিড কাজও এর আওতায় পড়তে পারে। তবে আবেদন করলেই তা অনুমোদন করার বাধ্যবাধকতা বর্তমানে নেই।
বর্তমান বিধান অনুযায়ী, একজন কর্মী ১২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি স্ট্যাটিউটরি ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিং আবেদন করতে পারেন। নিয়োগকর্তাকে সাধারণত আবেদন পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হয়। আবেদন প্রত্যাখ্যানের আগে কর্মীর সঙ্গে সেটি নিয়ে আলোচনা করার নিয়মও রয়েছে।
নিয়োগকর্তারা বর্তমানে আটটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক কারণ দেখিয়ে আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। এর মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয়, অন্য কর্মীদের মধ্যে কাজ পুনর্বণ্টন সম্ভব না হওয়া, নতুন কর্মী নিয়োগে সমস্যা, কাজের মান বা কর্মদক্ষতার ওপর প্রভাব, গ্রাহকের চাহিদা পূরণে অসুবিধা, প্রস্তাবিত সময়ে পর্যাপ্ত কাজ না থাকা এবং কর্মীদের কাঠামোয় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় এসব কারণের কাঠামোই বহাল থাকবে। তবে কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কারণের ভিত্তিতে কেন সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক বলে মনে করছেন, তা ব্যাখ্যা করতে হবে। কর্মীর সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প ব্যবস্থা বা সমস্যার সমাধানের সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হবে।
কোনো কর্মী মনে করলে তার আবেদন অযৌক্তিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তিনি কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করতে পারবেন। ট্রাইব্যুনাল কর্মীর পক্ষে সিদ্ধান্ত দিলে নিয়োগকর্তাকে আবেদনটি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিতে পারে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ আট সপ্তাহের বেতনের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণের বিধান রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে এ ক্ষতিপূরণের সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ সীমা ৭১৯ পাউন্ড।
ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিংয়ের আওতায় বাড়ি থেকে কাজ ছাড়াও খণ্ডকালীন কাজ, নমনীয় কর্মঘণ্টা, কাজের সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া, সংকুচিত কর্মঘণ্টা, নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ, কাজ ভাগ করে নেওয়া এবং হাইব্রিড কর্মপদ্ধতির মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে।
প্রতিবন্ধী কর্মীদের ক্ষেত্রেও বাড়ি থেকে কাজ বা অন্য ধরনের নমনীয় কর্মব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সমতা আইনের আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিয়োগকর্তার ওপর প্রতিবন্ধী কর্মীর জন্য যুক্তিসংগত কর্মপরিবেশ তৈরির দায়িত্ব থাকতে পারে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো কর্মী তার প্রতিষ্ঠানে বাড়ি থেকে বা হাইব্রিডভাবে কাজের সুযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপক, নিয়োগকর্তা বা মানবসম্পদ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।
সরকারের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিং-সংক্রান্ত নতুন বিধান ২০২৭ সালে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নের সময়সূচি সংসদীয় প্রক্রিয়া ও পরবর্তী বিধিমালার ওপর নির্ভর করবে।

























