বাংলাদেশ থেকে পেন্টাগন: যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফুল এম. খানের নতুন দায়িত্ব
- প্রকাশঃ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:১৭
- / 12
ওয়াশিংটন, ২৬ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া শরীফুল এম. খান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত হয়ে বর্তমানে পেন্টাগনে ইউএস স্পেস ফোর্সের সদর দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় তিন দশকের সামরিক ক্যারিয়ারে মহাকাশ কার্যক্রম, উপগ্রহ পরিচালনা, সামরিক পরিকল্পনা, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কমান্ডে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
মার্কিন স্পেস ফোর্সের সরকারি জীবনী অনুযায়ী, শরীফুল এম. খান ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার ফোর্স একাডেমি থেকে কমিশন লাভ করেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি রাজনৈতিক বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সামরিক ক্যারিয়ারের শুরুতেই মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ, মহাকাশ ব্যবস্থা, উৎক্ষেপণ কার্যক্রম এবং ন্যাশনাল রিকনাইস্যান্স অফিসের উপগ্রহ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও তাঁর সামরিক পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ রয়েছে। ওয়েবস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে স্পেস সিস্টেমস অপারেশনস ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি কৌশলগত গোয়েন্দা ও সামরিক কৌশল বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা নিয়েছেন তিনি। স্কুল অব অ্যাডভান্সড এয়ার অ্যান্ড স্পেস স্টাডিজেও পড়াশোনা করেছেন।
সামরিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বিদেশেও মোতায়েন ছিলেন শরীফুল। ২০০১ সালে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে অপারেশন সাইলেন্ট সেন্ট্রির ডেপ্লয়মেন্ট কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
কমান্ড পর্যায়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ৩৭৯তম স্পেস রেঞ্জ স্কোয়াড্রনের কমান্ড এবং কলোরাডোর শ্রিভার স্পেস ফোর্স ঘাঁটিতে ৩১০তম স্পেস উইংয়ের কমান্ড। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৩১০তম স্পেস উইংয়ের কমান্ডার হিসেবে তিনি প্রায় ১ হাজার ৫০০ সামরিক সদস্যের কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন। ওই সময়ে ১৯টি ইউনিট ও তিনটি সরাসরি অধীনস্থ ইউনিটের পরিচালন ও স্টাফ কার্যক্রম তাঁর দায়িত্বের আওতায় ছিল।
পেন্টাগনেও এর আগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন শরীফুল। মার্কিন প্রতিরক্ষা কাঠামোর বিভিন্ন পর্যায়ে কাজের পাশাপাশি তিনি বিমানবাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনা এবং রিজার্ভ বাহিনী-সংক্রান্ত দায়িত্বেও যুক্ত ছিলেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে তাঁর পদোন্নতি কার্যকর হয় ২০২৫ সালের ৩০ জুন। এর আগে ১৩ জুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫৫ জন কর্মকর্তাকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত করার জন্য মনোনয়ন দেন, যাদের মধ্যে শরীফুল এম. খানের নামও ছিল।
পরে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট পেন্টাগনে তাঁর পদোন্নতির শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইউএস স্পেস ফোর্সের ভাইস চিফ অব স্পেস অপারেশনস জেনারেল শন ব্র্যাটন তাঁকে শপথ পড়ান বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
বর্তমানে মার্কিন স্পেস ফোর্সের সরকারি জীবনীতে শরীফুল এম. খানকে পেন্টাগনে সদর দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর অব স্টাফ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দায়িত্বে তিনি সদর দপ্তরের মহাকাশবিষয়ক নীতি, পরিকল্পনা, অবস্থান, প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় ও সমন্বিত বাস্তবায়নে কাজ করেন।
তাঁর বর্তমান দায়িত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোল্ডেন ডোম ফর আমেরিকা’ উদ্যোগের প্রসঙ্গও এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। তবে মার্কিন স্পেস ফোর্সের বর্তমান সরকারি জীবনী অনুযায়ী, গোল্ডেন ডোমের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেনারেল মাইকেল এ. গেটলাইন। ফলে শরীফুল এম. খানের বর্তমান সরকারি পদকে গোল্ডেন ডোমের সরাসরি পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করার পরিবর্তে পেন্টাগনে স্পেস ফোর্সের সদর দপ্তরের স্টাফ নেতৃত্বের দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করাই যথাযথ।
সামরিক জীবনে শরীফুল এম. খান একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক ও সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে লিজিয়ন অব মেরিট, ডিফেন্স মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেল এবং মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেল। সরকারি জীবনীতে আরও কয়েকটি সামরিক সম্মাননার উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া শরীফুল এম. খান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। ২০২৫ সালে তাঁর পদোন্নতির পর যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাষ্ট্রদূত এম. ওসমান সিদ্দিক তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে এই পদে পৌঁছানো প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। একই তথ্য মার্কিন দূতাবাসের ঢাকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রকাশনাতেও উঠে আসে।
মহাকাশ কার্যক্রম থেকে সামরিক পরিকল্পনা, গোয়েন্দা দায়িত্ব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কমান্ড পেরিয়ে পেন্টাগনে নেতৃত্বস্থানীয় স্টাফ দায়িত্বে পৌঁছানো শরীফুল এম. খানের ক্যারিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাঠামোয় তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।

























