তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান থেকে মানবমস্তিষ্ক: মা কেমব্রিজে, মেয়ে হার্ভার্ডে, বিজ্ঞানচর্চায় মা-মেয়ের অনন্য পথচলা
- প্রকাশঃ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০২
- / 9
একই পরিবারের দুই প্রজন্ম, দুজনেরই একাডেমিক পথচলার কেন্দ্রে বিজ্ঞান। মা সুলতানা শফী কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাত্ত্বিক কণা পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করেছেন। তাঁর মেয়ে রেবেকা শফী পিএইচডি করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, গবেষণার শুরুতে যার বিষয় ছিল কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন। পরবর্তী সময়ে রেবেকার কাজ বিস্তৃত হয়েছে স্নায়ুবিজ্ঞান, মানবমস্তিষ্ক ও জেনেটিকসের দিকে।
এই মা-মেয়ের গল্পে একই পরিবারের দুই প্রজন্মের বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি উঠে আসে দুই ভিন্ন সময়ের একাডেমিক পথচলার চিত্র।
সুলতানা শফীর একাডেমিক সাফল্যের শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। এমএসসিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে তিনি ওই বিভাগে প্রথম নারী হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাত্ত্বিক কণা পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করেন। পড়াশোনা শেষে কেমব্রিজের গার্টন কলেজে ফেলোশিপও পান।
আন্তর্জাতিক একাডেমিয়ায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন সুলতানা শফী। কেমব্রিজে প্রায় এক বছর থাকার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে শিক্ষকতায় যুক্ত হন। দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেন তিনি।
তাঁর স্বামী আহমেদ শফীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৬৯ সালে লন্ডনে তোলা তাঁদের একটি ছবিতে সে সময়ের পারিবারিক জীবনের একটি স্মৃতি সংরক্ষিত রয়েছে।
মায়ের একাডেমিক পথচলার কয়েক দশক পর একই পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মে বিজ্ঞানচর্চার আরেকটি অধ্যায় শুরু হয় রেবেকা শফীর হাত ধরে। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিতর্কের মঞ্চে যুক্তি, সাবলীল বক্তব্য ও আত্মবিশ্বাসের জন্য পরিচিত হয়ে ওঠা রেবেকা পরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করে রেবেকা পিএইচডির জন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। সেখানে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন। হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
তবে রেবেকার গবেষণা পদার্থবিজ্ঞানের একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সময়ের সঙ্গে তাঁর গবেষণার পরিধি স্নায়ুবিজ্ঞান, মানবমস্তিষ্ক ও জেনেটিকসের দিকে বিস্তৃত হয়েছে। হার্ভার্ডের মস্তিষ্কবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল এবং এমআইটি-হার্ভার্ডের ব্রড ইনস্টিটিউটের গবেষণার সঙ্গেও বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
মায়ের গবেষণার কেন্দ্র ছিল তাত্ত্বিক কণা পদার্থবিজ্ঞান। মেয়ের গবেষণার শুরু কৃষ্ণগহ্বরের মতো জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের বিষয় দিয়ে হলেও পরে তা পৌঁছেছে মানবমস্তিষ্ক ও জেনেটিকসের মতো জটিল ও আন্তঃবিষয়ক গবেষণায়।
এক প্রজন্ম আগে কেমব্রিজ, পরের প্রজন্মে হার্ভার্ড। বিশ্ববিদ্যালয় দুটি আলাদা, গবেষণার ক্ষেত্রও ভিন্ন। কিন্তু সুলতানা শফী ও রেবেকা শফীর পথচলার মধ্যে একটি যোগসূত্র স্পষ্ট, তা হলো বিজ্ঞানকে ঘিরে দীর্ঘ একাডেমিক সাধনা। একই পরিবারের দুই প্রজন্মের এই যাত্রা বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও উচ্চশিক্ষার একটি পারিবারিক সংযোগের গল্পও তুলে ধরে।

























