তিন বছরে ১১ লাখ ৪০ হাজার অভিবাসী নেবে কানাডা, বছরে সুযোগ ৩ লাখ ৮০ হাজারের
- প্রকাশঃ ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯
- / 10
অটোয়া, ৮ নভেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – আগামী তিন বছরে ১১ লাখ ৪০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কানাডার ফেডারেল সরকার। ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার করে অভিবাসীকে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত ৫ নভেম্বর প্রকাশিত নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় এই লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়।
‘ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান ২০২৭-২০২৯’ অনুযায়ী, তিন বছরই স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের বার্ষিক সংখ্যা একই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৭ সালে ৩ লাখ ৮০ হাজার, ২০২৮ সালে ৩ লাখ ৮০ হাজার এবং ২০২৯ সালেও সমানসংখ্যক নতুন স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক দপ্তরের পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক অভিবাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দক্ষ কর্মী, প্রাদেশিক মনোনয়ন কর্মসূচি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক অভিবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকাংশ নতুন স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবার পুনর্মিলন, শরণার্থী পুনর্বাসন ও মানবিক বিবেচনায় অভিবাসনের সুযোগও অব্যাহত রাখবে সরকার।
নতুন পরিকল্পনায় ফরাসিভাষী অভিবাসীদের জন্যও পৃথক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কুইবেক প্রদেশের বাইরে ফরাসিভাষী স্থায়ী বাসিন্দার হার ২০২৭ সালে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৮ সালে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৯ সালে ১২ শতাংশে উন্নীত করতে চায় কানাডা সরকার।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার নীতিও অব্যাহত রয়েছে। দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা, অর্থনৈতিক প্রয়োজন এবং অভিবাসন ব্যবস্থার সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
নতুন পরিকল্পনার ফলে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসে আগ্রহীদের জন্য দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং ইংরেজি বা ফরাসি ভাষায় দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠবে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অভিবাসন কর্মসূচিতে এসব যোগ্যতা আবেদনকারীদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে তিন বছরে ১১ লাখ ৪০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের অর্থ প্রত্যেক আবেদনকারীর পিআর পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করেই আবেদনকারীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পেতে হবে।
এ কারণে কানাডায় অভিবাসনে আগ্রহীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজনে অনুমোদিত অভিবাসন পরামর্শকের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




























