ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রিপাবলিক বাংলা নিউজের ভুয়া ভিডিও ও মিথ্যা প্রচারণা: বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ নাটক

  • প্রকাশঃ ০৭:৫২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
  • / 306

 

সাম্প্রতিক সময়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, আর তার পেছনে গাছের আড়ালে বন্দুক তাক করে বসে আছে আরেকজন। ক্যামেরাম্যান সামনে থেকে দৃশ্য ধারণ করছেন। দাবি করা হচ্ছে, এটি ‘জঙ্গি দমন অভিযানে রিপাবলিক টিভির সাহসী ভূমিকা’র অংশ। বাস্তবে, এটি একটি মঞ্চায়িত দৃশ্যমাত্র।

এই ধরণের দৃশ্যপ্রসূত কনটেন্ট তৈরি করে রিপাবলিক বাংলা নিউজ নামে একটি চ্যানেল ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূলত, নাটকীয়ভাবে সাজানো এসব কনটেন্টের মাধ্যমে তারা ভিউ বাড়ানোর লক্ষ্যে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সংবাদপত্রের নীতি মানদণ্ড উপেক্ষা করে চ্যানেলটি উদ্ভট অসত্য গল্প উপস্থাপন করছে, যা গণসচেতনতা আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে চ্যানেল বহু ভুয়া ভিডিও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই সময় বাংলাদেশে মুসলমানরা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে, ঘরবাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং বাংলাদেশ ‘স্বাধীন’ হয়েছে। কিন্তু খতিয়ে দেখা গেছে, এসব ফুটেজ সংবাদ ভারতের পুরোনো ভিডিও এবং ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে প্রচারিত হয়েছে।

এমনকি, আরও এক ধাপ এগিয়ে চ্যানেলটি দাবি করে, বাংলাদেশ ড্রোন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে উদ্যত। পাশাপাশি, বাংলাদেশ থেকে জোরপূর্বক হিন্দুদের ভারতে পাঠানো হচ্ছে বলেও মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচার করে তারা।

গণমাধ্যমের নীতিমালার পরিপন্থী ধরণের প্রতিবেদন দুই দেশের জনগণের মাঝে শঙ্কা অবিশ্বাস সৃষ্টি করছে, যা পারস্পরিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

নিয়ে কথা বলেন সংবাদ বিশ্লেষক মো. করিম উদ্দিন। তিনি বলেন, বন্দুকের সামনে ক্যামেরা, পাশে মাইক্রোফোন- এটা কোনো সাংবাদিকতা নয়, এটা একটা বিজ্ঞাপন নাটক। রিপাবলিকান বাংলা নিউজ এই ধরনের কনটেন্ট বানিয়ে মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে, বিভ্রান্তি ছড়ায়।

তিনি আরও বলেন, এই চ্যানেলটি মূলত দর্শক বাড়িয়ে আয় বাড়াতে চায়। কিছু চরমপন্থী দর্শক আবার পুরোপুরি এসব কল্পকাহিনিকে বিশ্বাস করে, যা সমাজে বিপজ্জনক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গুজব, ভুয়া খবর তথ্য বিকৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দায়িত্বশীলতা সত্যনিষ্ঠাও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অপরিহার্য।

প্রতিবেদক: মো. করিম উদ্দিন

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন-“প্রজন্ম কথা

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

রিপাবলিক বাংলা নিউজের ভুয়া ভিডিও ও মিথ্যা প্রচারণা: বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ নাটক

প্রকাশঃ ০৭:৫২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

 

সাম্প্রতিক সময়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, আর তার পেছনে গাছের আড়ালে বন্দুক তাক করে বসে আছে আরেকজন। ক্যামেরাম্যান সামনে থেকে দৃশ্য ধারণ করছেন। দাবি করা হচ্ছে, এটি ‘জঙ্গি দমন অভিযানে রিপাবলিক টিভির সাহসী ভূমিকা’র অংশ। বাস্তবে, এটি একটি মঞ্চায়িত দৃশ্যমাত্র।

এই ধরণের দৃশ্যপ্রসূত কনটেন্ট তৈরি করে রিপাবলিক বাংলা নিউজ নামে একটি চ্যানেল ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূলত, নাটকীয়ভাবে সাজানো এসব কনটেন্টের মাধ্যমে তারা ভিউ বাড়ানোর লক্ষ্যে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সংবাদপত্রের নীতি মানদণ্ড উপেক্ষা করে চ্যানেলটি উদ্ভট অসত্য গল্প উপস্থাপন করছে, যা গণসচেতনতা আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে চ্যানেল বহু ভুয়া ভিডিও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই সময় বাংলাদেশে মুসলমানরা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে, ঘরবাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং বাংলাদেশ ‘স্বাধীন’ হয়েছে। কিন্তু খতিয়ে দেখা গেছে, এসব ফুটেজ সংবাদ ভারতের পুরোনো ভিডিও এবং ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে প্রচারিত হয়েছে।

এমনকি, আরও এক ধাপ এগিয়ে চ্যানেলটি দাবি করে, বাংলাদেশ ড্রোন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে উদ্যত। পাশাপাশি, বাংলাদেশ থেকে জোরপূর্বক হিন্দুদের ভারতে পাঠানো হচ্ছে বলেও মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচার করে তারা।

গণমাধ্যমের নীতিমালার পরিপন্থী ধরণের প্রতিবেদন দুই দেশের জনগণের মাঝে শঙ্কা অবিশ্বাস সৃষ্টি করছে, যা পারস্পরিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

নিয়ে কথা বলেন সংবাদ বিশ্লেষক মো. করিম উদ্দিন। তিনি বলেন, বন্দুকের সামনে ক্যামেরা, পাশে মাইক্রোফোন- এটা কোনো সাংবাদিকতা নয়, এটা একটা বিজ্ঞাপন নাটক। রিপাবলিকান বাংলা নিউজ এই ধরনের কনটেন্ট বানিয়ে মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে, বিভ্রান্তি ছড়ায়।

তিনি আরও বলেন, এই চ্যানেলটি মূলত দর্শক বাড়িয়ে আয় বাড়াতে চায়। কিছু চরমপন্থী দর্শক আবার পুরোপুরি এসব কল্পকাহিনিকে বিশ্বাস করে, যা সমাজে বিপজ্জনক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গুজব, ভুয়া খবর তথ্য বিকৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দায়িত্বশীলতা সত্যনিষ্ঠাও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অপরিহার্য।

প্রতিবেদক: মো. করিম উদ্দিন

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন-“প্রজন্ম কথা