বিরোধী দল সংসদে গালগল্প বা ইতিহাস চর্চা করতে যায়নি, শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলতেই গেছি: জামায়াত আমির
- প্রকাশঃ ০৯:১৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
- / 6
মে দিবস উপলক্ষে গুলিস্তানে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান । ছবি: মীর হোসেন
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদীয় রাজনীতিতে সংসদ সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হবে। তিনি বলেন, বিরোধী দল সংসদে গিয়ে গালগল্প করার জন্য যায়নি, ইতিহাসের মাস্টার বা ছাত্র হওয়ার উদ্দেশ্যেও যায়নি। তাঁদের লক্ষ্য দেশের দুঃখী মানুষের পক্ষে কথা বলা।
শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আতিকুর রহমান।
শ্রমিক দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, শিকাগোর বেদনাদায়ক ঘটনার ১৪০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে শ্রম দিবস পালন করা হয়। জাতিসংঘ দিবসটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে। বিভিন্ন দেশে এদিন সরকারি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা শ্রমিকদের দুঃখ–দুর্দশা লাঘবের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, “১৪০ বছরে তাঁদের দেওয়া ওয়াদার ১০ ভাগের ১ ভাগও যদি পূরণ করা হতো, তাহলে শ্রমিকদের আর কোনো দাবিদাওয়া অবশিষ্ট থাকত না।”
তিনি আরও বলেন, বছরের ৩৬৪ দিন শ্রমিকদের দাবি উপেক্ষিত থাকে, কিন্তু পয়লা মে এলেই সবাই দরদি হয়ে মাঠে নেমে আসে। তাঁর মতে, শ্রমিকদের প্রয়োজন ও মর্যাদা উপেক্ষা করে কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না।
বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শফিকুর রহমান বলেন, শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংসদের ভেতরে এবং বাইরে আন্দোলন চালিয়ে যাবে বিরোধী দল। শ্রমিকদের ন্যায্যতা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই অব্যাহত থাকবে।
বামপন্থী সংগঠনগুলোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বিভিন্ন দেশে নিজেদের বামপন্থী দাবি করা সংগঠনগুলো শ্রমিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনে এগিয়ে আসে। বাংলাদেশ ও পূর্ববর্তী পাকিস্তান আমলেও এ ধারা ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইস্যু তৈরি হলে আন্দোলন গড়ে ওঠে, পরে সংঘর্ষে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় কিছু নেতা সুবিধা গ্রহণ করেন, পরে আন্দোলনকে “ব্ল্যাকমেলিং” বলা হয়। তাঁর মতে, এর ফলে সাধারণ শ্রমিকদের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসে না।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, “শ্রেণি-সংগ্রামের আওয়াজ তোলা হয়, বলা হয় শ্রেণিশত্রু খতম করতে হবে। কিন্তু শত্রু যদি মালিক পক্ষ হয়, তাহলে মালিক না থাকলে শ্রমিক কাজ করবে কোথায়। আমরা এ ধরনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও ভালোবাসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি।”
প্রবাসী বাংলাদেশিদের “রেমিট্যান্স যোদ্ধা” হিসেবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশে অর্থ পাঠান। কিন্তু তাঁদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয় না।
তিনি বলেন, বিদেশে থাকা মিশন, হাইকমিশন বা দূতাবাসে অনেক কর্মকর্তা থাকলেও প্রবাসীরা নানা ভোগান্তির শিকার হন। পাসপোর্ট নবায়নে দালালের খপ্পরে পড়তে হয়। চাকরি হারালে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকে না।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে যথাযথভাবে কথা বলা হচ্ছে না। তাঁর মতে, যেসব দেশে দূতাবাস প্রবাসীদের সেবা দিতে ব্যর্থ, সেখানে কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। দূতাবাসের মূল কাজ জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, মানুষের তৈরি শ্রমনীতি শ্রমিকদের মুক্তি দিতে পারে না।
তিনি দাবি করেন, দেড় হাজার বছর আগে মহানবী (সা.) যে শ্রমনীতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন হলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত হতো।
তিনি আরও বলেন, “মহানবী (সা.) বলেছেন, মালিক যা খায়–পরিধান করে, শ্রমিকও যেন তা পায়, সেই পরিমাণ মজুরি দিতে হবে।” তাঁর মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ভোট নিয়ে কাউকে তামাশা করতে দেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার আওয়ামী স্টাইলে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, গায়ের জোরে দেশ ও সংসদ পরিচালনার চেষ্টা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহসহ অনেকে।
















