ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খামেনিকে হত্যার নতুন ষড়যন্ত্র: যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল জড়িত বলে দাবি ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১০:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 125

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছবি: সংগৃহীত 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে নতুন করে হত্যাচেষ্টার ভয়ংকর পরিকল্পনা চলছে বলে দাবি করেছে দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো এতে জড়িত বলে শনিবার এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়। খবর জিও নিউজ।

ইরানের বার্তাসংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার অংশ হিসেবে শত্রুপক্ষ এবার সরাসরি সর্বোচ্চ নেতাকে টার্গেট করতে চাইছে। কখনও হামলার মাধ্যমে, কখনও হত্যাচেষ্টার মাধ্যমে ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোকে দুর্বল করাই তাদের লক্ষ্য।

যদিও কোন বিশেষ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করছেন—তা স্পষ্ট নয়। তবে খামেনিকে লক্ষ্য করে এ ধরনের সরাসরি হামলার হুমকি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খুব কমই শোনা গেছে, বিশেষত চলতি বছরের জুনে ইসরায়েল–ইরান সংঘাতের আগে।

খাতিব বলেন, এসব ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকা ব্যক্তিরা শত্রুপক্ষের অনুপ্রবেশকারী। তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে থাকার অভিযোগও তোলেন।

চলতি জুনে ইসরায়েলের ১২ দিনব্যাপী হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সংঘাত চলাকালে খবর আসে—ইসরায়েল খামেনিকে হত্যা করার পরিকল্পনা করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপত্তি জানান। তার মতে, এমন হামলা যুদ্ধকে আরও ভয়াবহ রূপ দিত। পরে নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি খামেনিকে “একটি ভয়ংকর পরিণতি” থেকে রক্ষা করেছেন।

৮৬ বছর বয়সী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রীয় সব সিদ্ধান্তে তার মতামতই চূড়ান্ত।

সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও জানান, যুদ্ধ চলাকালে তিনি খামেনির নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, সর্বোচ্চ নেতার ক্ষতি হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

এর আগে খামেনি বলেন, ইসরায়েলের হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে দুর্বল করা এবং শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে দেশকে অস্থির করা।

গত ২৪ জুন থেকে ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে। তবে তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করলে আবারও হামলা চালানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

খামেনিকে হত্যার নতুন ষড়যন্ত্র: যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল জড়িত বলে দাবি ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের

প্রকাশঃ ১০:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছবি: সংগৃহীত 


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে নতুন করে হত্যাচেষ্টার ভয়ংকর পরিকল্পনা চলছে বলে দাবি করেছে দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো এতে জড়িত বলে শনিবার এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়। খবর জিও নিউজ।

ইরানের বার্তাসংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার অংশ হিসেবে শত্রুপক্ষ এবার সরাসরি সর্বোচ্চ নেতাকে টার্গেট করতে চাইছে। কখনও হামলার মাধ্যমে, কখনও হত্যাচেষ্টার মাধ্যমে ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোকে দুর্বল করাই তাদের লক্ষ্য।

যদিও কোন বিশেষ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করছেন—তা স্পষ্ট নয়। তবে খামেনিকে লক্ষ্য করে এ ধরনের সরাসরি হামলার হুমকি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খুব কমই শোনা গেছে, বিশেষত চলতি বছরের জুনে ইসরায়েল–ইরান সংঘাতের আগে।

খাতিব বলেন, এসব ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকা ব্যক্তিরা শত্রুপক্ষের অনুপ্রবেশকারী। তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে থাকার অভিযোগও তোলেন।

চলতি জুনে ইসরায়েলের ১২ দিনব্যাপী হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সংঘাত চলাকালে খবর আসে—ইসরায়েল খামেনিকে হত্যা করার পরিকল্পনা করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপত্তি জানান। তার মতে, এমন হামলা যুদ্ধকে আরও ভয়াবহ রূপ দিত। পরে নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি খামেনিকে “একটি ভয়ংকর পরিণতি” থেকে রক্ষা করেছেন।

৮৬ বছর বয়সী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রীয় সব সিদ্ধান্তে তার মতামতই চূড়ান্ত।

সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও জানান, যুদ্ধ চলাকালে তিনি খামেনির নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, সর্বোচ্চ নেতার ক্ষতি হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

এর আগে খামেনি বলেন, ইসরায়েলের হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে দুর্বল করা এবং শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে দেশকে অস্থির করা।

গত ২৪ জুন থেকে ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে। তবে তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করলে আবারও হামলা চালানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”