ঢাকা ১০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এ মাসেই ব্যাংক হিসাব থেকে কাটা শুরু আবগারি শুল্ক, কোন হিসাবে কত টাকা কাটবে, জানুন বিস্তারিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৯:৪০:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 126

ডিসেম্বর মাসের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশের ব্যাংক গ্রাহকদের হিসাব থেকে আবগারি শুল্ক কাটা শুরু হবে। এ সময় গ্রাহকের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে ব্যাংকগুলো আবগারি শুল্ক কেটে নেওয়ার বিষয়টি জানায়।

হঠাৎ করে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা কেটে নেওয়ার খুদে বার্তা পেয়ে অনেক গ্রাহক বিভ্রান্ত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কেন টাকা কাটা হলো—তা বুঝতে না পেরে অনেকে ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করেন। সাধারণত প্রতিবছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এ ধরনের খুদে বার্তা পান গ্রাহকেরা।

কোন হিসাবে আবগারি শুল্ক কাটবে

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে কোনো ব্যাংক হিসাবে বছরের যেকোনো সময় একবার যদি তিন লাখ টাকা বা তার বেশি স্থিতি থাকে, তবে সেই হিসাব থেকে আবগারি শুল্ক কাটা হবে। এই শুল্ক হিসাবের সর্বোচ্চ স্থিতির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়।

এত দিন ব্যাংক হিসাবে এক লাখ টাকার বেশি থাকলেই আবগারি শুল্ক কাটা হতো। তবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই সীমা বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। ফলে তুলনামূলকভাবে স্বল্প আয়ের গ্রাহকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

আবগারি শুল্ক কী

আবগারি শুল্ক হলো এক ধরনের পরোক্ষ কর, যা সরকার নির্দিষ্ট কিছু পণ্য, সেবা ও আর্থিক কার্যক্রমের ওপর আরোপ করে। ব্যাংক হিসাবে টাকা রাখা, মো_stripphone ব্যবহার, তামাকজাত পণ্য কেনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর এ শুল্ক ধার্য হয়। এটি ব্যক্তির আয় বা মুনাফার ওপর নয়, বরং নির্দিষ্ট সুবিধা বা সেবা ব্যবহারের ওপর বসে।

কত টাকায় কত শুল্ক

ব্যাংক হিসাবে বছরের যেকোনো সময় তিন লাখ টাকা পর্যন্ত থাকলে কোনো আবগারি শুল্ক কাটা হবে না। তিন লাখ টাকা ছাড়ালে নিচের হারে শুল্ক আরোপ হবে— ৩ লাখ ১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত: ১৫০ টাকা, ৫ লাখ ১ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত: ৫০০ টাকা, ১০ লাখ ১ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত: ৩,০০০ টাকা,  ৫০ লাখ ১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত: ৫,০০০ টাকা, ১ কোটি ১ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত: ১০,০০০ টাকা, ২ কোটি ১ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত: ২০,০০০ টাকা, ৫ কোটি টাকার বেশি: ৫০,০০০ টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আবগারি শুল্ক নির্ধারণ ও আদায় করে। তবে এনবিআরের পক্ষে ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের হিসাব থেকে এই শুল্ক কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।

আবগারি শুল্ক কাটার নিয়ম

প্রতিবছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে কোনো ব্যাংক হিসাবে আমানতের স্থিতি যদি একবারও তিন লাখ টাকা বা তার বেশি স্তরের সীমা স্পর্শ করে, তাহলে নির্ধারিত হারে আবগারি শুল্ক কাটা হয়। একাধিকবার সীমা স্পর্শ করলেও একবারই শুল্ক কাটা হয়।

একজন গ্রাহকের একাধিক ব্যাংক হিসাবে এ ধরনের স্থিতি থাকলে প্রতিটি হিসাব থেকেই আলাদাভাবে আবগারি শুল্ক কাটা হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তিনটি ব্যাংকে পৃথক তিনটি হিসাবে চার লাখ, তিন লাখ ও তিন লাখ টাকা থাকলে প্রতিটি হিসাব থেকেই ১৫০ টাকা করে মোট ৪৫০ টাকা কাটা হবে।

কোন কোন হিসাব থেকে কাটা হয়

সাধারণত সব ধরনের ব্যাংক হিসাব থেকেই আবগারি শুল্ক কাটা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, স্থায়ী আমানত (এফডিআর), ডিপোজিট পেনশন স্কিম (ডিপিএস), বেতনভিত্তিক হিসাবসহ অন্যান্য আমানত হিসাব।

কেন আবগারি শুল্ক

আবগারি শুল্ক আদায়ের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব সংগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস পায়। পাশাপাশি উচ্চ আয়ের করদাতাদের করজালে আনা, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কর আদায়ে প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

এ মাসেই ব্যাংক হিসাব থেকে কাটা শুরু আবগারি শুল্ক, কোন হিসাবে কত টাকা কাটবে, জানুন বিস্তারিত

প্রকাশঃ ০৯:৪০:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ডিসেম্বর মাসের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশের ব্যাংক গ্রাহকদের হিসাব থেকে আবগারি শুল্ক কাটা শুরু হবে। এ সময় গ্রাহকের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে ব্যাংকগুলো আবগারি শুল্ক কেটে নেওয়ার বিষয়টি জানায়।

হঠাৎ করে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা কেটে নেওয়ার খুদে বার্তা পেয়ে অনেক গ্রাহক বিভ্রান্ত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কেন টাকা কাটা হলো—তা বুঝতে না পেরে অনেকে ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করেন। সাধারণত প্রতিবছর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এ ধরনের খুদে বার্তা পান গ্রাহকেরা।

কোন হিসাবে আবগারি শুল্ক কাটবে

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে কোনো ব্যাংক হিসাবে বছরের যেকোনো সময় একবার যদি তিন লাখ টাকা বা তার বেশি স্থিতি থাকে, তবে সেই হিসাব থেকে আবগারি শুল্ক কাটা হবে। এই শুল্ক হিসাবের সর্বোচ্চ স্থিতির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়।

এত দিন ব্যাংক হিসাবে এক লাখ টাকার বেশি থাকলেই আবগারি শুল্ক কাটা হতো। তবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই সীমা বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। ফলে তুলনামূলকভাবে স্বল্প আয়ের গ্রাহকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

আবগারি শুল্ক কী

আবগারি শুল্ক হলো এক ধরনের পরোক্ষ কর, যা সরকার নির্দিষ্ট কিছু পণ্য, সেবা ও আর্থিক কার্যক্রমের ওপর আরোপ করে। ব্যাংক হিসাবে টাকা রাখা, মো_stripphone ব্যবহার, তামাকজাত পণ্য কেনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর এ শুল্ক ধার্য হয়। এটি ব্যক্তির আয় বা মুনাফার ওপর নয়, বরং নির্দিষ্ট সুবিধা বা সেবা ব্যবহারের ওপর বসে।

কত টাকায় কত শুল্ক

ব্যাংক হিসাবে বছরের যেকোনো সময় তিন লাখ টাকা পর্যন্ত থাকলে কোনো আবগারি শুল্ক কাটা হবে না। তিন লাখ টাকা ছাড়ালে নিচের হারে শুল্ক আরোপ হবে— ৩ লাখ ১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত: ১৫০ টাকা, ৫ লাখ ১ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত: ৫০০ টাকা, ১০ লাখ ১ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত: ৩,০০০ টাকা,  ৫০ লাখ ১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত: ৫,০০০ টাকা, ১ কোটি ১ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত: ১০,০০০ টাকা, ২ কোটি ১ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত: ২০,০০০ টাকা, ৫ কোটি টাকার বেশি: ৫০,০০০ টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আবগারি শুল্ক নির্ধারণ ও আদায় করে। তবে এনবিআরের পক্ষে ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের হিসাব থেকে এই শুল্ক কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।

আবগারি শুল্ক কাটার নিয়ম

প্রতিবছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে কোনো ব্যাংক হিসাবে আমানতের স্থিতি যদি একবারও তিন লাখ টাকা বা তার বেশি স্তরের সীমা স্পর্শ করে, তাহলে নির্ধারিত হারে আবগারি শুল্ক কাটা হয়। একাধিকবার সীমা স্পর্শ করলেও একবারই শুল্ক কাটা হয়।

একজন গ্রাহকের একাধিক ব্যাংক হিসাবে এ ধরনের স্থিতি থাকলে প্রতিটি হিসাব থেকেই আলাদাভাবে আবগারি শুল্ক কাটা হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তিনটি ব্যাংকে পৃথক তিনটি হিসাবে চার লাখ, তিন লাখ ও তিন লাখ টাকা থাকলে প্রতিটি হিসাব থেকেই ১৫০ টাকা করে মোট ৪৫০ টাকা কাটা হবে।

কোন কোন হিসাব থেকে কাটা হয়

সাধারণত সব ধরনের ব্যাংক হিসাব থেকেই আবগারি শুল্ক কাটা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, স্থায়ী আমানত (এফডিআর), ডিপোজিট পেনশন স্কিম (ডিপিএস), বেতনভিত্তিক হিসাবসহ অন্যান্য আমানত হিসাব।

কেন আবগারি শুল্ক

আবগারি শুল্ক আদায়ের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব সংগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস পায়। পাশাপাশি উচ্চ আয়ের করদাতাদের করজালে আনা, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কর আদায়ে প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”