এক বছরে প্রায় ৫ লাখ ইউক্রেনীয় সেনা নিহতের দাবি রাশিয়ার
- প্রকাশঃ ১০:৪৮:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 99
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে প্রায় পাঁচ লাখ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রে বেলৌসোভ রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বোর্ড সভায় এই দাবি করেন। তবে রাশিয়ার এই বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইউক্রেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আরটির (RT) বরাতে জানা গেছে, বুধবার অনুষ্ঠিত ওই বোর্ড সভায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আন্দ্রে বেলৌসোভ বলেন, ২০২৫ সালের শুরু থেকে রুশ বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, এই সময়ে প্রায় পাঁচ লাখ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন। এত বড় প্রাণহানির কারণে নিকট ভবিষ্যতে কিয়েভের পক্ষে সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাপক প্রাণহানির ফলে ইউক্রেনের বেসামরিক জনগণের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগ্রহ কমে যাচ্ছে, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ছাড়া চলতি বছরে ইউক্রেন এক লাখ তিন হাজারের বেশি সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে বলেও দাবি করেন বেলৌসোভ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান রয়েছে, যেগুলোর একটি বড় অংশ পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তায় ইউক্রেন পেয়েছিল।
উল্লেখ্য, ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া।
যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি একটি ডিক্রি জারি করেন, যার মাধ্যমে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে জনবল সংকট মোকাবিলায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেসামরিকদের জন্য যোগদানের সর্বনিম্ন বয়স কমানো হয়। প্রথমে এই বয়সসীমা ছিল ২৭ বছর, যা পরে কমিয়ে ২৫ বছর নির্ধারণ করা হয়।
যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই নিয়মিত ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করছে। ফলে নিহত ও আহতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বাধীন যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: তাস

























