ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতির উদ্দেশে ভাষণ: জনপ্রিয়তা কমলেও নিজের সাফল্যের বর্ণনাতেই সীমাবদ্ধ ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১২:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 61

হোয়াইট হাউস থেকে বুধবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিরল জাতির উদ্দেশে ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কোনো নতুন নীতিগত ঘোষণা দেননি। বরং ভোক্তাপণ্যের উচ্চমূল্যের দায় তিনি তাঁর ডেমোক্র্যাট পূর্বসূরি ও একটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা’র ওপর চাপান।

২০ মিনিটের কম সময়ের এই ভাষণটি দেওয়া হয় রিপাবলিকান পার্টির জন্য কঠিন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে—আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ের মুখে দলটি।

ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ১১ মাস আগে আমি একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি পেয়েছিলাম, আর আমি সেটি ঠিক করছি। দ্রুতগতির বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ কমানো, কিছু পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে তাঁর সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় নতুন কোনো কার্যকর উদ্যোগ না তুলে ধরে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, আগের বাণিজ্যচুক্তি, অভিবাসন নীতি এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর দায় চাপান। ট্রাম্পের অভিযোগ, তাঁর প্রশাসনের কাজ যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছে না।

ভাষণে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আগামী সপ্তাহে তাঁর প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ লাখ ৫০ হাজার সেনাসদস্যকে প্রত্যেকে ১ হাজার ৭৭৬ ডলার করে ‘ওয়ারিয়র ডিভিডেন্ড’ প্রদান করবে। পাশাপাশি তিনি রিপাবলিকানদের একটি প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান, যেখানে ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর ভর্তুকির পরিবর্তে সরাসরি নগদ অর্থ জনগণের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে তারা নিজ নিজ স্বাস্থ্যবিমার খরচ মেটাতে পারেন। তবে কংগ্রেসে প্রস্তাবটি এখনও পর্যাপ্ত সমর্থন পায়নি।

হলিডে সাজসজ্জায় সজ্জিত একটি কক্ষ থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমি চাই অর্থটা সরাসরি মানুষের হাতে যাক। এতে একমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিমা কোম্পানিগুলো।

ভাষণটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রশমনের একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও ট্রাম্প আবারও ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, পণ্যের দাম এখনো বেশি, তবে তাঁর দাবি—যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।

আমি এই উচ্চ দাম কমাচ্ছি এবং খুব দ্রুতই তা নামিয়ে আনছি, বলেন ট্রাম্প।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্রই তুলে ধরছে। চলতি বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্কনীতি অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। প্রায় এক বছর ক্ষমতায় থাকলেও বাইডেন প্রশাসনের মতোই জনগণকে অর্থনীতির ইতিবাচক অবস্থান বোঝাতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প।

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা যায়, মাত্র ৩৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন।

ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর শুল্কনীতির ফলে ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়েছে, যা নতুন কারখানা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, এক বছর আগে আমাদের দেশ মৃতপ্রায় ছিল। এখন আমরা সারা বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দেশ।

এ ছাড়া শিগগিরই ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানান ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, এমন একজনকে বেছে নেওয়া হবে যিনি সুদহার কমানোর পক্ষে থাকবেন, যাতে গৃহঋণের কিস্তি আরও কমে।

ভাষণের আগে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ নেতা ও নিউইয়র্কের সিনেটর চাক শুমার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন।

ক্যাপিটল হিলে সংবাদ সম্মেলনে শুমার বলেন, তিনি প্রথম দিন থেকেই খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির কারণেই তিনি নির্বাচন জিতেছিলেন। অথচ এখন খরচ শুধু বাড়ছেই।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের ভাষণের একদিন পরই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করার কথা ছিল। সর্বশেষ হিসাবে ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের যেকোনো সময়ের চেয়েও বেশি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

জাতির উদ্দেশে ভাষণ: জনপ্রিয়তা কমলেও নিজের সাফল্যের বর্ণনাতেই সীমাবদ্ধ ট্রাম্প

প্রকাশঃ ১২:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

হোয়াইট হাউস থেকে বুধবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিরল জাতির উদ্দেশে ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কোনো নতুন নীতিগত ঘোষণা দেননি। বরং ভোক্তাপণ্যের উচ্চমূল্যের দায় তিনি তাঁর ডেমোক্র্যাট পূর্বসূরি ও একটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা’র ওপর চাপান।

২০ মিনিটের কম সময়ের এই ভাষণটি দেওয়া হয় রিপাবলিকান পার্টির জন্য কঠিন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে—আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ের মুখে দলটি।

ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ১১ মাস আগে আমি একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি পেয়েছিলাম, আর আমি সেটি ঠিক করছি। দ্রুতগতির বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ কমানো, কিছু পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে তাঁর সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় নতুন কোনো কার্যকর উদ্যোগ না তুলে ধরে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, আগের বাণিজ্যচুক্তি, অভিবাসন নীতি এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর দায় চাপান। ট্রাম্পের অভিযোগ, তাঁর প্রশাসনের কাজ যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছে না।

ভাষণে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আগামী সপ্তাহে তাঁর প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ লাখ ৫০ হাজার সেনাসদস্যকে প্রত্যেকে ১ হাজার ৭৭৬ ডলার করে ‘ওয়ারিয়র ডিভিডেন্ড’ প্রদান করবে। পাশাপাশি তিনি রিপাবলিকানদের একটি প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান, যেখানে ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর ভর্তুকির পরিবর্তে সরাসরি নগদ অর্থ জনগণের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে তারা নিজ নিজ স্বাস্থ্যবিমার খরচ মেটাতে পারেন। তবে কংগ্রেসে প্রস্তাবটি এখনও পর্যাপ্ত সমর্থন পায়নি।

হলিডে সাজসজ্জায় সজ্জিত একটি কক্ষ থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমি চাই অর্থটা সরাসরি মানুষের হাতে যাক। এতে একমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিমা কোম্পানিগুলো।

ভাষণটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রশমনের একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও ট্রাম্প আবারও ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, পণ্যের দাম এখনো বেশি, তবে তাঁর দাবি—যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।

আমি এই উচ্চ দাম কমাচ্ছি এবং খুব দ্রুতই তা নামিয়ে আনছি, বলেন ট্রাম্প।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্রই তুলে ধরছে। চলতি বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্কনীতি অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। প্রায় এক বছর ক্ষমতায় থাকলেও বাইডেন প্রশাসনের মতোই জনগণকে অর্থনীতির ইতিবাচক অবস্থান বোঝাতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প।

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা যায়, মাত্র ৩৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন।

ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর শুল্কনীতির ফলে ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়েছে, যা নতুন কারখানা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, এক বছর আগে আমাদের দেশ মৃতপ্রায় ছিল। এখন আমরা সারা বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দেশ।

এ ছাড়া শিগগিরই ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানান ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, এমন একজনকে বেছে নেওয়া হবে যিনি সুদহার কমানোর পক্ষে থাকবেন, যাতে গৃহঋণের কিস্তি আরও কমে।

ভাষণের আগে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ নেতা ও নিউইয়র্কের সিনেটর চাক শুমার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন।

ক্যাপিটল হিলে সংবাদ সম্মেলনে শুমার বলেন, তিনি প্রথম দিন থেকেই খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির কারণেই তিনি নির্বাচন জিতেছিলেন। অথচ এখন খরচ শুধু বাড়ছেই।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের ভাষণের একদিন পরই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করার কথা ছিল। সর্বশেষ হিসাবে ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের যেকোনো সময়ের চেয়েও বেশি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”