পাকিস্তানে শক্তিশালী গাড়িবোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধ, নিহত ৪
- প্রকাশঃ ০৯:৪৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 78
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলার বয়া এলাকায় একটি সামরিক ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে দেশটির চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি ক্যাম্পে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে সেনারা তা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিহত করে। এ সময় ভয়াবহ সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
আইএসপিআর জানায়, সন্ত্রাসীরা প্রথমে ক্যাম্পের বাইরের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা চালায়। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পের বাইরের দেয়ালে আঘাত করে। এতে দেয়ালের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং শক্তিশালী বিস্ফোরণে পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বেসামরিক স্থাপনা ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আত্মঘাতী বিস্ফোরণের পরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।
এই সংঘর্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারান চার পাকিস্তানি সেনা সদস্য। নিহতরা হলেন—৪২ বছর বয়সী হাবিলদার মোহাম্মদ ওয়াকাস, ৩৮ বছর বয়সী নায়েক খানওয়াইজ, ২৫ বছর বয়সী সিপাহি সুফিয়ান হায়দার এবং ৩২ বছর বয়সী সিপাহি রিফাত।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী এ হামলার জন্য আফগানিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে দায়ী করেছে, যাদের তারা ‘ফিতনা আল খারেজি’ হিসেবে অভিহিত করে। আইএসপিআর দাবি করেছে, প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করেই এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আফগান তালেবান সরকার তাদের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতি অস্বীকার করলেও বাস্তবে সেখান থেকেই পাকিস্তানবিরোধী সহিংসতা পরিচালিত হচ্ছে। পাকিস্তান আশা প্রকাশ করেছে, আফগান কর্তৃপক্ষ তাদের ভূমি ব্যবহার করে এমন হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্স–২০২৫ অনুযায়ী পাকিস্তান বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সন্ত্রাসপ্রবণ দেশের তালিকায় রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: দ্য ডন

























