গাজা পুনর্নির্মাণে ১১২ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র
- প্রকাশঃ ০৭:১৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 74
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা পুনর্নির্মাণের জন্য প্রায় ১১২ বিলিয়ন ডলারের একটি বৃহৎ পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের উদ্যোগে প্রণীত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে প্রায় এক দশক।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট সানরাইজ’। এর লক্ষ্য গাজার ধ্বংসস্তূপকে ভবিষ্যতের একটি আধুনিক উপকূলীয় নগরীতে—বিশেষত পর্যটনবান্ধব সৈকত শহরে—রূপান্তর করা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা ও ব্যবসায়ী জ্যারেড কুশনার এই পরিকল্পনার নকশা প্রণয়নে মূল ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ সহযোগী জশ গ্রুয়েনবাউমসহ আরও কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এতে যুক্ত ছিলেন।
তবে পরিকল্পনায় স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি, গাজা পুনর্নির্মাণে কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত থাকবে কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় উপত্যকাটির প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনির ভবিষ্যৎ কী হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার অনুদান ও ঋণ সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটন এই প্রকল্পে ‘অংশগ্রহণকারী’ হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ধীরে ধীরে কিছু প্রকল্পে স্ব-অর্থায়নের সক্ষমতা অর্জন করবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে পারবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, সম্ভাব্য দাতা দেশগুলোর কাছে ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনার নথি উপস্থাপন করা হয়েছে। সম্ভাব্য দাতাদের মধ্যে ধনী আরব রাষ্ট্র, তুরস্ক ও মিসরের নাম রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত প্রায় ৪৫ দিনের মধ্যে কুশনার ও উইটকফসহ সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তারা এই প্রস্তাবটি তৈরি করেন। এ সময় ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও সম্ভাব্য ঠিকাদারদের কাছ থেকেও মতামত নেওয়া হয়েছে।

























