ঢাকা ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজার ধ্বংসস্তূপে লাশের মিছিল: আরও ৯৪ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১১:১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 70

গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও ৯৪ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত


ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের ক্ষত এখনো দগদগে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রতিদিন বেরিয়ে আসছে সারি সারি নিথর দেহ। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) মধ্য গাজা সিটির বিভিন্ন ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে আরও ৯৪ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তুরস্ক ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান ও দাফন প্রক্রিয়া

গাজার সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে জানায়, উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য গাজা সিটির আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো মধ্যাঞ্চলীয় শহর দেইর আল-বালাহ’র ‘শহীদ কবরস্থানে’ দাফন করা হবে।

সিভিল ডিফেন্স আরও জানিয়েছে, স্বাস্থ্য ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন অস্থায়ী গণকবর থেকে হাজার হাজার মরদেহ সরিয়ে গাজার মূল কবরস্থানগুলোতে স্থানান্তরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ হাজারো প্রাণ

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, এখনো কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন, যারা মূলত বিধ্বস্ত ভবনগুলোর নিচে চাপা পড়ে আছেন। প্রয়োজনীয় উদ্ধারকারী সরঞ্জামের অভাবে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়াল

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে, যার বিশাল একটি অংশ নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ৭১ হাজার ১০০ জন। গত ১০ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও গাজাবাসীর দুর্ভোগ কমেনি; প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় বিচ্ছিন্ন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমানে গাজার প্রতিটি ধ্বংসস্তূপই যেন এক একটি গণকবর। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজার এই মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ নেই।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

গাজার ধ্বংসস্তূপে লাশের মিছিল: আরও ৯৪ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশঃ ১১:১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও ৯৪ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত


ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের ক্ষত এখনো দগদগে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রতিদিন বেরিয়ে আসছে সারি সারি নিথর দেহ। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) মধ্য গাজা সিটির বিভিন্ন ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে আরও ৯৪ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তুরস্ক ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান ও দাফন প্রক্রিয়া

গাজার সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে জানায়, উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য গাজা সিটির আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো মধ্যাঞ্চলীয় শহর দেইর আল-বালাহ’র ‘শহীদ কবরস্থানে’ দাফন করা হবে।

সিভিল ডিফেন্স আরও জানিয়েছে, স্বাস্থ্য ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন অস্থায়ী গণকবর থেকে হাজার হাজার মরদেহ সরিয়ে গাজার মূল কবরস্থানগুলোতে স্থানান্তরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ হাজারো প্রাণ

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, এখনো কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন, যারা মূলত বিধ্বস্ত ভবনগুলোর নিচে চাপা পড়ে আছেন। প্রয়োজনীয় উদ্ধারকারী সরঞ্জামের অভাবে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়াল

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে, যার বিশাল একটি অংশ নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ৭১ হাজার ১০০ জন। গত ১০ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও গাজাবাসীর দুর্ভোগ কমেনি; প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় বিচ্ছিন্ন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমানে গাজার প্রতিটি ধ্বংসস্তূপই যেন এক একটি গণকবর। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজার এই মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ নেই।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”