ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রামপুরায় ২৮ হত্যা মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুলসহ ৪ জনের বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০২:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 84

রাজধানীর রামপুরায় জুলাই অভ্যুত্থানকালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত ২৮ জন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন শুনানির শুরুতেই আসামিদের অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ছাড়াও প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান, সহিদুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রেপ্তার দুই আসামির পক্ষে আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ এবং স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানিতে অংশ নেন। এর আগে ২১ ডিসেম্বর পলাতক দুই আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানি করেন। শুনানিতে সব আসামির পক্ষ থেকেই ডিসচার্জের আবেদন করা হয়।

রেদোয়ানুল ইসলাম ছাড়া গ্রেপ্তার অপর আসামি হলেন বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। বুধবার সকালে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এ মামলায় এখনো পলাতক রয়েছেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

এর আগে ১৪ ডিসেম্বর এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে তা হয়নি। গত ৬ ডিসেম্বর ফরমাল চার্জের ওপর শুনানি শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এরও আগে, ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ানুল ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। এর মধ্যে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়েন এবং অন্যান্য আসামিরা এ হত্যাযজ্ঞে নেতৃত্ব দেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন চারজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক ফরমাল চার্জ দাখিল করে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

রামপুরায় ২৮ হত্যা মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুলসহ ৪ জনের বিচার শুরু

প্রকাশঃ ০২:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর রামপুরায় জুলাই অভ্যুত্থানকালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত ২৮ জন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন শুনানির শুরুতেই আসামিদের অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ছাড়াও প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান, সহিদুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রেপ্তার দুই আসামির পক্ষে আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ এবং স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানিতে অংশ নেন। এর আগে ২১ ডিসেম্বর পলাতক দুই আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানি করেন। শুনানিতে সব আসামির পক্ষ থেকেই ডিসচার্জের আবেদন করা হয়।

রেদোয়ানুল ইসলাম ছাড়া গ্রেপ্তার অপর আসামি হলেন বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। বুধবার সকালে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এ মামলায় এখনো পলাতক রয়েছেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

এর আগে ১৪ ডিসেম্বর এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে তা হয়নি। গত ৬ ডিসেম্বর ফরমাল চার্জের ওপর শুনানি শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এরও আগে, ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ানুল ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজির করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। এর মধ্যে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়েন এবং অন্যান্য আসামিরা এ হত্যাযজ্ঞে নেতৃত্ব দেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন চারজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক ফরমাল চার্জ দাখিল করে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”