ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কানাডার আইনি মর্যাদা হারাচ্ছেন ১০ লাখ ভারতীয় নাগরিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০১:১৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 67

কানাডায় বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিক আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আইনি মর্যাদা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। দেশটিতে অবস্থানরত ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হতে থাকায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগও সীমিত করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিসিসাগাভিত্তিক ইমিগ্রেশন পরামর্শদাতা কানওয়ার সেরাহ জানান, ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ১০ লাখ ৫৩ হাজার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এর পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে রয়েছে আরও প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার ওয়ার্ক পারমিট।

সেরাহ বলেন, ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অভিবাসীরা যদি নতুন ভিসা, স্ট্যাটাস এক্সটেনশন বা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন না করেন, তাহলে তারা কানাডায় থাকার আইনি অনুমতি হারাবেন। এতে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বেন অস্থায়ী কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় এর আগে কখনো এত বড়সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে আইনি মর্যাদা হারানোর আশঙ্কা দেখা দেয়নি। শুধু ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষ অনথিভুক্ত অভিবাসীতে পরিণত হতে পারেন। একইভাবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে ২ লাখ ৯১ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের আইনি অবস্থান হারাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ কানাডায় অন্তত ২০ লাখ মানুষ আইনি মর্যাদা ছাড়া বসবাস করবেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই ভারতীয় নাগরিক হতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কানওয়ার সেরাহ আরও জানান, হাজার হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিটের মেয়াদও একই সময়ে শেষ হয়ে যাবে। পাশাপাশি অনেক আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকিতে রয়েছে, যা অনথিভুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তিনি বলেন, সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দুই বছরে অনথিভুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা আরও বাড়বে। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন আরও কঠোর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা সরকারের এই পদক্ষেপ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং দেশটিতে অবৈধ বসবাসকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

কানাডার আইনি মর্যাদা হারাচ্ছেন ১০ লাখ ভারতীয় নাগরিক

প্রকাশঃ ০১:১৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

কানাডায় বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিক আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আইনি মর্যাদা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। দেশটিতে অবস্থানরত ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হতে থাকায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগও সীমিত করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিসিসাগাভিত্তিক ইমিগ্রেশন পরামর্শদাতা কানওয়ার সেরাহ জানান, ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ১০ লাখ ৫৩ হাজার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এর পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে রয়েছে আরও প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার ওয়ার্ক পারমিট।

সেরাহ বলেন, ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অভিবাসীরা যদি নতুন ভিসা, স্ট্যাটাস এক্সটেনশন বা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন না করেন, তাহলে তারা কানাডায় থাকার আইনি অনুমতি হারাবেন। এতে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বেন অস্থায়ী কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় এর আগে কখনো এত বড়সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে আইনি মর্যাদা হারানোর আশঙ্কা দেখা দেয়নি। শুধু ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষ অনথিভুক্ত অভিবাসীতে পরিণত হতে পারেন। একইভাবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে ২ লাখ ৯১ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের আইনি অবস্থান হারাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ কানাডায় অন্তত ২০ লাখ মানুষ আইনি মর্যাদা ছাড়া বসবাস করবেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই ভারতীয় নাগরিক হতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কানওয়ার সেরাহ আরও জানান, হাজার হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিটের মেয়াদও একই সময়ে শেষ হয়ে যাবে। পাশাপাশি অনেক আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকিতে রয়েছে, যা অনথিভুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তিনি বলেন, সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দুই বছরে অনথিভুক্ত অভিবাসীর সংখ্যা আরও বাড়বে। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন আরও কঠোর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা সরকারের এই পদক্ষেপ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং দেশটিতে অবৈধ বসবাসকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”