মসজিদ ভাঙচুরের জেরে নেপালে উত্তেজনা, নিরাপত্তা জোরদার ও কারফিউ জারি
- প্রকাশঃ ০৮:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 64
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের পার্সা জেলায় একটি মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেপাল প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় কারফিউ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় ভারত-নেপাল সীমান্তে সব ধরনের সাধারণ যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্তবর্তী নেপালের একাধিক এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশের বরাতে জানানো হয়েছে, ধানুষা জেলার কমলা মিউনিসিপ্যালিটির সাখুয়া মারান এলাকায় একদল দুষ্কৃতিকারী একটি মসজিদে ভাঙচুর চালায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে পার্শ্ববর্তী পার্সা জেলার বীরগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং একটি স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রায় ছয় রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় সোমবার বিকেলে জেলার কয়েকটি অংশে কারফিউ জারি করা হয়। প্রাথমিকভাবে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর করা হলেও পরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় তা মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
এদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ভারত-নেপাল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের দায়িত্বে থাকা ভারতের সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের সাধারণ যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে। ভারত-নেপাল সংযোগকারী মৈত্রী ব্রিজে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং সীমান্ত পারাপারে প্রত্যেক ব্যক্তির কড়া তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদারে ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করা হয়েছে।
নেপালের প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

























