জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান রপ্তানি করে আইএমএফের ঋণ থেকে মুক্তি চায় পাকিস্তান
- প্রকাশঃ ০২:৪৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 66
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা খাতে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ও সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমানের সম্ভাব্য বিশাল রপ্তানি আদেশ দেশটির অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এসব রপ্তানি চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণনির্ভরতা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্ত হওয়ার লক্ষ্য দেখছে ইসলামাবাদ।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেছেন, আজারবাইজান, লিবিয়া, বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ক্রয়াদেশ বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি আমূল পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হামিদ মীরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, এই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আইএমএফের কঠোর শর্তযুক্ত বেইলআউট কর্মসূচির ওপর নির্ভরতার বিকল্প হিসেবে একটি টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
এই আশাবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আজারবাইজানের সঙ্গে সম্পাদিত ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় চুক্তি। চুক্তি অনুযায়ী, দেশটি ৪০টি জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করবে। এটিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা রপ্তানির ইতিহাসে একক বৃহত্তম চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, যার আওতায় ১৬টি যুদ্ধবিমান ও ১২টি সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের কথা রয়েছে। নাইজেরিয়াও তাদের বিমানবহর সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গেও জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা এগিয়ে চলছে, যা সফল হলে পাকিস্তানের রপ্তানি আয় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বিদ্যমান ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণকে যুদ্ধবিমান চুক্তিতে রূপান্তর করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান একাধিকবার আইএমএফ থেকে ঋণ সহায়তা পেলেও সেগুলো কঠোর রাজস্ব সংস্কার ও ভর্তুকি হ্রাসের শর্তে আবদ্ধ ছিল।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে আইএমএফের এক্সটেনডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি ও জলবায়ু তহবিলের আওতায় কয়েক বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেলেও পাকিস্তান এখন নিজস্ব উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে হাঁটতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য ১০ বিলিয়ন ডলারের এই রপ্তানি আয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করবে এবং লেনদেনের ভারসাম্যে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভরতা কমাবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন অনেকাংশেই নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ে যুদ্ধবিমান সরবরাহ এবং ক্রেতা দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্সের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশটি একটি উদীয়মান প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক হিসেবে অবস্থান শক্তিশালী করতে পেরেছে।
প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মতো চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, ২০২৫–২০২৬ সময়কালের এই সম্ভাব্য রপ্তানি প্রবাহ পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় একটি রূপান্তরমূলক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: ইসলামাবাদ টাইমস।

























