ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছেলে সন্তানের আশায় ১৯ বছরে ১১ বার মা হলেন হরিয়ানার গৃহবধূ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৩:০০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 51

পুত্র সন্তানের আশায় টানা ১৯ বছরে ১১ বার গর্ভধারণের পর অবশেষে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের এক গৃহবধূ। এর আগে তিনি পরপর ১০টি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। ফতেহাবাদ জেলার ভুনা ব্লকের ঢানি ভোজরাজ গ্রামে এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গ্রামটির বাসিন্দা সঞ্জয় ও সুনীতার বিয়ে হয় প্রায় ১৯ বছর আগে। বিয়ের শুরু থেকেই পুত্র সন্তান লাভের আশা ছিল তাদের। কিন্তু প্রতিবারই কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়ায় হতাশা কাটেনি দম্পতির। শেষ পর্যন্ত ১১তম গর্ভধারণে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন সুনীতা।

সঞ্জয় জানান, তিনি কখনোই তার কন্যা সন্তানদের বোঝা মনে করেননি। বরং সব সময় ছেলের মতো করেই মেয়েদের মানুষ করার চেষ্টা করেছেন। তার বড় মেয়ের বয়স এখন ১৮ বছর, সে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। অন্য মেয়েরাও নিয়মিত পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে।

আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও সঞ্জয় ও সুনীতা তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও লালন-পালনে কোনো কার্পণ্য করেননি। গ্রামবাসীদের ভাষ্য, সাধারণ জীবনযাপন করলেও সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই তারা সন্তানদের মূল্যবোধ, আত্মসম্মান ও শিক্ষার গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণেই এলাকায় পরিবারটিকে একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।

পুত্র সন্তানের জন্মের সময় কিছুটা জটিলতা দেখা দেয়। সঞ্জয় জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি স্ত্রীকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। জন্মের সময় নবজাতকটি রক্তাল্পতায় ভুগছিল। চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করান। দ্রুত চিকিৎসায় শিশুটির অবস্থার উন্নতি হয়। বর্তমানে মা ও ছেলে দুজনেই সুস্থ রয়েছেন।

ছেলের জন্মের খবরে পরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামে মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে। সঞ্জয়ের মা মায়া দেবী নাতির জন্মে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘ঈশ্বর আমার বহু বছরের ইচ্ছা পূরণ করেছেন। পরিবারে একটি নাতি দেখার স্বপ্ন আজ পূরণ হলো।’ উল্লেখ্য, সঞ্জয়ের বাবা কাপুর সিং ইতিমধ্যেই মারা গেছেন।

নিজের জীবনসংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন সঞ্জয়। তিনি জানান, একসময় গণপূর্ত বিভাগে দৈনিক মজুরির শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তবে ২০১৮ সালে চাকরি হারান। এরপর মনরেগার অধীনে কাজ করে পরিবার চালাতেন। গত এক বছর ধরে কাজ না থাকায় তিনি বেকার। তবুও পরিবারের দায়িত্ব থেকে কখনো পিছপা হননি।

সঞ্জয় জানান, তাদের এক কন্যাকে এক আত্মীয় দত্তক নিয়েছেন। বাকি নয়জন কন্যাকে স্বামী-স্ত্রী মিলে লালন-পালন করছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কন্যারা কারো চেয়ে কম নয়। তারা যদি শিক্ষিত হয়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, তাহলে তারাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

সূত্র: আজতক বাংলা

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

ছেলে সন্তানের আশায় ১৯ বছরে ১১ বার মা হলেন হরিয়ানার গৃহবধূ

প্রকাশঃ ০৩:০০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

পুত্র সন্তানের আশায় টানা ১৯ বছরে ১১ বার গর্ভধারণের পর অবশেষে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের এক গৃহবধূ। এর আগে তিনি পরপর ১০টি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। ফতেহাবাদ জেলার ভুনা ব্লকের ঢানি ভোজরাজ গ্রামে এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গ্রামটির বাসিন্দা সঞ্জয় ও সুনীতার বিয়ে হয় প্রায় ১৯ বছর আগে। বিয়ের শুরু থেকেই পুত্র সন্তান লাভের আশা ছিল তাদের। কিন্তু প্রতিবারই কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়ায় হতাশা কাটেনি দম্পতির। শেষ পর্যন্ত ১১তম গর্ভধারণে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন সুনীতা।

সঞ্জয় জানান, তিনি কখনোই তার কন্যা সন্তানদের বোঝা মনে করেননি। বরং সব সময় ছেলের মতো করেই মেয়েদের মানুষ করার চেষ্টা করেছেন। তার বড় মেয়ের বয়স এখন ১৮ বছর, সে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। অন্য মেয়েরাও নিয়মিত পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে।

আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও সঞ্জয় ও সুনীতা তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও লালন-পালনে কোনো কার্পণ্য করেননি। গ্রামবাসীদের ভাষ্য, সাধারণ জীবনযাপন করলেও সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই তারা সন্তানদের মূল্যবোধ, আত্মসম্মান ও শিক্ষার গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণেই এলাকায় পরিবারটিকে একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।

পুত্র সন্তানের জন্মের সময় কিছুটা জটিলতা দেখা দেয়। সঞ্জয় জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি স্ত্রীকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। জন্মের সময় নবজাতকটি রক্তাল্পতায় ভুগছিল। চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করান। দ্রুত চিকিৎসায় শিশুটির অবস্থার উন্নতি হয়। বর্তমানে মা ও ছেলে দুজনেই সুস্থ রয়েছেন।

ছেলের জন্মের খবরে পরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামে মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে। সঞ্জয়ের মা মায়া দেবী নাতির জন্মে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘ঈশ্বর আমার বহু বছরের ইচ্ছা পূরণ করেছেন। পরিবারে একটি নাতি দেখার স্বপ্ন আজ পূরণ হলো।’ উল্লেখ্য, সঞ্জয়ের বাবা কাপুর সিং ইতিমধ্যেই মারা গেছেন।

নিজের জীবনসংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন সঞ্জয়। তিনি জানান, একসময় গণপূর্ত বিভাগে দৈনিক মজুরির শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তবে ২০১৮ সালে চাকরি হারান। এরপর মনরেগার অধীনে কাজ করে পরিবার চালাতেন। গত এক বছর ধরে কাজ না থাকায় তিনি বেকার। তবুও পরিবারের দায়িত্ব থেকে কখনো পিছপা হননি।

সঞ্জয় জানান, তাদের এক কন্যাকে এক আত্মীয় দত্তক নিয়েছেন। বাকি নয়জন কন্যাকে স্বামী-স্ত্রী মিলে লালন-পালন করছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কন্যারা কারো চেয়ে কম নয়। তারা যদি শিক্ষিত হয়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, তাহলে তারাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

সূত্র: আজতক বাংলা

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”