বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে রেড লাইন ঘোষণা ইরানি সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির
- প্রকাশঃ ০৭:২০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 59
ইরানে চলমান দেশব্যাপী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী ও অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, গত দুই রাত ধরে ‘সন্ত্রাসীরা’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন এবং সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এ ধরনের ধারাবাহিক সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব, রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির নিরাপত্তার স্বার্থে আইআরজিসি ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতির যেকোনো প্রচেষ্টার জবাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় তারা সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়ন, তীব্র মূল্যস্ফীতি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। ওই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে।
পরবর্তীতে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় বর্তমানে দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ দমাতে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের প্রায় সব শহরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গতকাল দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সাময়িকী টাইম–এর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর গত ১৩ দিনে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ইরানে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
এদিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। তিনি একাধিকবার বলেছেন, সরকার যদি কঠোর দমননীতির মাধ্যমে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে, তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। এ পর্যন্ত চারবার এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সূত্র : এএফপি

























