ইসরায়েলিদের নিষিদ্ধ করল মালদ্বীপ, ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা
- প্রকাশঃ ০৪:১৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫
- / 159
মালদ্বীপ, ১৫ এপ্রিল ২০২৫: ইসরায়েলি নাগরিকদের মালদ্বীপে প্রবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সরকার। আজ ১৫ এপ্রিল মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন আইনের তৃতীয় সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেন, যার ফলে ইসরায়েলি পাসপোর্টধারীরা এই পর্যটনস্বর্গে আর প্রবেশ করতে পারবেন না।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ‘ফিলিস্তিনিদের প্রতি অটল সংহতি’ প্রকাশের অংশ। চলমান গাজা সংকটের প্রেক্ষাপটে এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
উল্লেখ্য, এটি মালদ্বীপের প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। ১৯৬৫ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হলেও ১৯৭৪ সালের পর তা অবনতি ঘটে। এরপর ২০১৪ সালে মালদ্বীপ ইসরায়েলি পণ্যের বিরুদ্ধে বয়কট ঘোষণা করে এবং ২০১৮ সালে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো বাতিল করে।
২০২৪ সালে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছিল মালদ্বীপ, যদিও তা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বিক্ষোভ ও বিরোধী দলের চাপের মুখে পুনরায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। করোনা-পূর্ব সময়ে মালদ্বীপে বছরে ১৫ লাখের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করতেন। পর্যটন খাত দেশটির জিডিপির প্রায় ২৮ শতাংশ জুড়ে, যা ২০২৩-২০২৭ পর্যটন মাস্টার প্ল্যানে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মালদ্বীপের অবস্থানকে সাহসী ও ন্যায়সঙ্গত বললেও, অনেকেই এটিকে বৈষম্যমূলক নীতির অংশ হিসেবে সমালোচনা করছেন। তবে অনেকেই মনে করছেন, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ইসরায়েলিরা অন্য পাসপোর্ট ব্যবহার করে মালদ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন, ফলে এই আইনের বাস্তব প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হবে।
মালদ্বীপ এখন এক জটিল সমীকরণের মধ্যে—রাজনৈতিক অবস্থান ও পর্যটননির্ভর অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা এই মুহূর্তে তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদক: আলী আজগর ইসতিয়াক

























