ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৮:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 63

ইরানে কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের চলমান বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ার পর বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা এ কথা জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তেহরান মনে করছে। তবে হামলার ধরন ও সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা থেকে বিরত রাখতে ইরান আঞ্চলিক মিত্র ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছে।

ইরানি ওই কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে এসব দেশের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোই হবে পাল্টা হামলার লক্ষ্য।

ইরানে চলমান বিক্ষোভকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪৭ জন সরকারি কর্মী নিহত হওয়ার তথ্য তারা নিশ্চিত করেছে। অন্য একটি অধিকার সংস্থার হিসাবে মোট নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।

উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

এদিকে, ইসরায়েলের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার রাতে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ইরানের শাসনব্যবস্থার সম্ভাব্য পতন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের বিষয়ে অবহিত করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী সামরিক সংঘাত হয়েছিল।

এর আগে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে। তিনি বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সহায়তা আসছে”, যদিও এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির মধ্যে রয়েছে বাহরাইনে নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর এবং কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি। গত বছর পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে ইরান আল-উদেইদ ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল বলে জানা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেছেন। আরাগচি আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘শান্তি বজায় আছে’, তবে ইরান যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ থেকে নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

ইরানে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের

প্রকাশঃ ০৮:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের চলমান বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ার পর বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা এ কথা জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তেহরান মনে করছে। তবে হামলার ধরন ও সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা থেকে বিরত রাখতে ইরান আঞ্চলিক মিত্র ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছে।

ইরানি ওই কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে এসব দেশের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোই হবে পাল্টা হামলার লক্ষ্য।

ইরানে চলমান বিক্ষোভকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪৭ জন সরকারি কর্মী নিহত হওয়ার তথ্য তারা নিশ্চিত করেছে। অন্য একটি অধিকার সংস্থার হিসাবে মোট নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।

উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

এদিকে, ইসরায়েলের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার রাতে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ইরানের শাসনব্যবস্থার সম্ভাব্য পতন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের বিষয়ে অবহিত করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী সামরিক সংঘাত হয়েছিল।

এর আগে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে। তিনি বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সহায়তা আসছে”, যদিও এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির মধ্যে রয়েছে বাহরাইনে নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর এবং কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি। গত বছর পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে ইরান আল-উদেইদ ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল বলে জানা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেছেন। আরাগচি আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘শান্তি বজায় আছে’, তবে ইরান যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ থেকে নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”