ইরানকে আরও একবার সুযোগ দিতে ট্রাম্পকে রাজি করাল সৌদি–কাতার–ওমান
- প্রকাশঃ ০৩:১০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 48
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলা ঠেকাতে দেশটিকে আরও একবার ‘সুযোগ দেওয়ার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান। মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় উপসাগরীয় এই তিন দেশ সম্মিলিতভাবে শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ইরান যাতে তার সদিচ্ছা প্রদর্শনের সুযোগ পায়, সে জন্য দীর্ঘ সময় ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাজি করাতে মরিয়া কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান। এই আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ইরানে চলমান বিক্ষোভে সরকারের দমন–পীড়নের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে গত বুধবার কাতারের একটি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোর কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইরানে সরকারের দমন–পীড়নের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগেও একাধিকবার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। অন্যদিকে তেহরান পাল্টা হুমকি দিয়ে জানায়, হামলা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও নৌযানে আঘাত হানবে। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা রয়েছে।
তবে একাধিক কড়া বক্তব্যের পর অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, অন্য পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের মাধ্যমে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যে ইরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে না।
সৌদি আরবের ওই কর্মকর্তা বলেন, অনিচ্ছাকৃত ও অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি এড়াতেই উপসাগরীয় দেশগুলো এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা ওয়াশিংটনকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি-ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে গোটা অঞ্চলে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার পথ খুলে যাবে, বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এ অঞ্চলের আরও কিছু বড় ঝুঁকি সামাল দিতে আমাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে। তৈরি হওয়া আস্থা এবং বর্তমান ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে এখনো যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরেকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে-উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনায় কোনো হামলা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে, মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম নিউজ নেশনের প্রতিবেদনের বরাতে আল–জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে। পেন্টাগনের নির্দেশে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর সঙ্গে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা শুরু করেছে।

























