ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীরবে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাব দিল ভারত: ডাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ শুল্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৯:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 68

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্কের বিপরীতে নীরব কিন্তু কৌশলগত পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। দেশটিতে ডাল আমদানির ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে নয়াদিল্লি, যা কার্যকর হয়েছে ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩০ অক্টোবর হলুদ মটর আমদানির ক্ষেত্রে এই শুল্ক নির্ধারণ করা হলেও বিষয়টি সরকারিভাবে তেমন প্রচার করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্কনীতির প্রতি ভারতের একটি নীরব প্রতিক্রিয়া।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডালভোক্তা দেশ হিসেবে ভারতের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিখাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মন্টানা ও নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের কৃষকরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে উল্লেখযোগ্য চাপে পড়েছেন।

এর প্রেক্ষিতে মন্টানার সিনেটর স্টিভ ডেইনস ও নর্থ ডাকোটার সিনেটর কেভিন ক্রেমার ১৬ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা এ শুল্ককে ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্য সমঝোতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে, যার ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য টানাপড়েন সৃষ্টি হয়।

তবে এত জটিলতার মধ্যেও প্রস্তাবিত ভারত–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (বিটিএ) প্রথম ধাপ চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল। বর্তমানে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে ভার্চুয়ালি আলোচনা চলছে।

সরকারি সূত্র জানায়, স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে এই শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে ভারত বিশ্বের মোট ডাল উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশ ভোগ করে থাকে।

অন্যদিকে, আমেরিকা ফার্স্ট নীতির ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় টেক্সটাইল, রাসায়নিক ও রত্ন শিল্পের রপ্তানিও নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই বাণিজ্য উত্তেজনা কেবল ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: টাইমস নাও নিউজ

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

নীরবে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাব দিল ভারত: ডাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ শুল্ক

প্রকাশঃ ০৯:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্কের বিপরীতে নীরব কিন্তু কৌশলগত পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। দেশটিতে ডাল আমদানির ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে নয়াদিল্লি, যা কার্যকর হয়েছে ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩০ অক্টোবর হলুদ মটর আমদানির ক্ষেত্রে এই শুল্ক নির্ধারণ করা হলেও বিষয়টি সরকারিভাবে তেমন প্রচার করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্কনীতির প্রতি ভারতের একটি নীরব প্রতিক্রিয়া।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডালভোক্তা দেশ হিসেবে ভারতের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিখাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মন্টানা ও নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের কৃষকরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে উল্লেখযোগ্য চাপে পড়েছেন।

এর প্রেক্ষিতে মন্টানার সিনেটর স্টিভ ডেইনস ও নর্থ ডাকোটার সিনেটর কেভিন ক্রেমার ১৬ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা এ শুল্ককে ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্য সমঝোতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে, যার ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য টানাপড়েন সৃষ্টি হয়।

তবে এত জটিলতার মধ্যেও প্রস্তাবিত ভারত–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (বিটিএ) প্রথম ধাপ চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল। বর্তমানে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে ভার্চুয়ালি আলোচনা চলছে।

সরকারি সূত্র জানায়, স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে এই শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে ভারত বিশ্বের মোট ডাল উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশ ভোগ করে থাকে।

অন্যদিকে, আমেরিকা ফার্স্ট নীতির ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় টেক্সটাইল, রাসায়নিক ও রত্ন শিল্পের রপ্তানিও নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই বাণিজ্য উত্তেজনা কেবল ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: টাইমস নাও নিউজ

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”