ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডাকসুর কনসার্টে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সমালোচনার ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০২:০৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 59

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে আয়োজিত একটি কনসার্টে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। একই সঙ্গে কনসার্ট মঞ্চে দেওয়া বিভিন্ন স্লোগান নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।

শনিবার ‘কুয়াশার গান’ শিরোনামে আয়োজিত কনসার্টটির সহ–আয়োজক ছিল ‘স্পিরিট অব জুলাই’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কনসার্টস্থলে একটি স্টল বসিয়ে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হয়।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক শিক্ষার্থী এটিকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আইন অনুযায়ী, তামাকজাত দ্রব্য ক্রয়ে প্রলুব্ধ করতে বিনা মূল্যে বিতরণ কিংবা স্বল্প মূল্যে বিক্রি নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন বা ব্যবহার উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে কোনো অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার বহন করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এই ঘটনার দায় ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের দিকে তুলে ধরছেন শিক্ষার্থীরা।

সমালোচনার মুখে মোসাদ্দিক আলী ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কনসার্ট আয়োজনে ডাকসুর পক্ষ থেকে তিনিই যুক্ত ছিলেন, তবে স্পনসরের সঙ্গে চুক্তি বা শর্ত নির্ধারণে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না।

তিনি আরও লেখেন, স্পনসর প্রতিষ্ঠান ‘এক্স ফোর্স’ তাকে জানিয়েছিল যে কনসার্টে একটি ‘স্মোকিং জোন’ করা হবে। তিনি তখন বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছিলেন। তবে সেখানে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হবে—এ তথ্য তার জানা ছিল না বলে দাবি করেন।

তার এই ব্যাখ্যার পরও শিক্ষার্থীদের সমালোচনা থামেনি।

বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী সাকিব বিশ্বাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ডাকসু কি শিক্ষার্থীদের মাদক সেবনে উৎসাহিত করছে? একদিকে তথাকথিত মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, অন্যদিকে মাদক সেবনে উৎসাহ—এ কেমন দ্বিচারিতা?

রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী মোছাম্মৎ আছিয়া আক্তার লেখেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্টে ফ্রি সিগারেট বিতরণ—এটা অবিশ্বাস্য।

স্লোগান নিয়েও বিতর্ক

কনসার্ট চলাকালে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী গণভোটের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে শিক্ষার্থীদের একাংশ ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়।

কোটা না মেধা স্লোগানের বিপরীতে ওঠে কোটা, কোটা;
গোলামি না সংস্কার-এর জবাবে শোনা যায় গোলামি, গোলামি;
আপস না সংগ্রাম-এর বিপরীতে আসে আপস, আপস;
এবং তুমি কে, আমি কে-এর জবাবে ওঠে ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম স্লোগান।

এ নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক শিক্ষার্থী বলছেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক আয়োজনে এ ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান অনভিপ্রেত।

সবশেষে, মোসাদ্দিক আলী তার ফেসবুক পোস্টে ‘সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার’ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন

ডাকসুর কনসার্টে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সমালোচনার ঝড়

প্রকাশঃ ০২:০৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে আয়োজিত একটি কনসার্টে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। একই সঙ্গে কনসার্ট মঞ্চে দেওয়া বিভিন্ন স্লোগান নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।

শনিবার ‘কুয়াশার গান’ শিরোনামে আয়োজিত কনসার্টটির সহ–আয়োজক ছিল ‘স্পিরিট অব জুলাই’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কনসার্টস্থলে একটি স্টল বসিয়ে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হয়।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক শিক্ষার্থী এটিকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আইন অনুযায়ী, তামাকজাত দ্রব্য ক্রয়ে প্রলুব্ধ করতে বিনা মূল্যে বিতরণ কিংবা স্বল্প মূল্যে বিক্রি নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন বা ব্যবহার উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে কোনো অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার বহন করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এই ঘটনার দায় ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের দিকে তুলে ধরছেন শিক্ষার্থীরা।

সমালোচনার মুখে মোসাদ্দিক আলী ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কনসার্ট আয়োজনে ডাকসুর পক্ষ থেকে তিনিই যুক্ত ছিলেন, তবে স্পনসরের সঙ্গে চুক্তি বা শর্ত নির্ধারণে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না।

তিনি আরও লেখেন, স্পনসর প্রতিষ্ঠান ‘এক্স ফোর্স’ তাকে জানিয়েছিল যে কনসার্টে একটি ‘স্মোকিং জোন’ করা হবে। তিনি তখন বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছিলেন। তবে সেখানে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হবে—এ তথ্য তার জানা ছিল না বলে দাবি করেন।

তার এই ব্যাখ্যার পরও শিক্ষার্থীদের সমালোচনা থামেনি।

বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী সাকিব বিশ্বাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ডাকসু কি শিক্ষার্থীদের মাদক সেবনে উৎসাহিত করছে? একদিকে তথাকথিত মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, অন্যদিকে মাদক সেবনে উৎসাহ—এ কেমন দ্বিচারিতা?

রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী মোছাম্মৎ আছিয়া আক্তার লেখেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্টে ফ্রি সিগারেট বিতরণ—এটা অবিশ্বাস্য।

স্লোগান নিয়েও বিতর্ক

কনসার্ট চলাকালে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী গণভোটের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে শিক্ষার্থীদের একাংশ ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়।

কোটা না মেধা স্লোগানের বিপরীতে ওঠে কোটা, কোটা;
গোলামি না সংস্কার-এর জবাবে শোনা যায় গোলামি, গোলামি;
আপস না সংগ্রাম-এর বিপরীতে আসে আপস, আপস;
এবং তুমি কে, আমি কে-এর জবাবে ওঠে ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম স্লোগান।

এ নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক শিক্ষার্থী বলছেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক আয়োজনে এ ধরনের রাজনৈতিক স্লোগান অনভিপ্রেত।

সবশেষে, মোসাদ্দিক আলী তার ফেসবুক পোস্টে ‘সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার’ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।