ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আল জাজিরার প্রতিবেদন: আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটের নতুন রণক্ষেত্র সোশ্যাল মিডিয়া

আল জাজিরা
  • প্রকাশঃ ০৩:১৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 56

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক লড়াইয়ের মঞ্চ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। রাজপথের প্রচারণার পাশাপাশি ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলেও বড় রাজনৈতিক দলগুলো গত কয়েক মাস ধরেই ভার্চুয়াল জগতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ‘জেন–জি’ বা তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই এই ডিজিটাল প্রচারণা জোরদার হয়েছে।

আল–জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। এই লড়াইয়ের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে রাজনৈতিক সংগীত, প্রচারণামূলক ভিডিও ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নির্মিত একটি রাজনৈতিক গান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। গানে নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গলের মতো পুরোনো প্রতীক প্রত্যাখ্যান করে ‘দাঁড়িপাল্লা’কে নতুন রাজনীতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। গানটির নির্মাতা লন্ডনভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা এইচ এ আল বান্না জানান, এটি মূলত একজন প্রার্থীর জন্য তৈরি হলেও ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় অন্য প্রার্থীরাও তা ব্যবহার করছেন।

এর বিপরীতে বিএনপি ‘আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রচারণামূলক গান ও ভিডিও প্রকাশ করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য দলও ছোট নাটিকা, নীতি ব্যাখ্যা ও ব্যঙ্গধর্মী ভিডিওর মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

ডিজিটাল প্রচারণা বাড়ার পেছনে দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও তরুণ ভোটারের আধিক্য বড় ভূমিকা রাখছে। বিটিআরসি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৪ শতাংশ। ডেটারিপোর্টাল-এর হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ এবং টিকটক ব্যবহারকারী প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ।

এ ছাড়া ভোটারদের প্রায় ৪৩ দশমিক ৫৬ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে, যাদের একটি বড় অংশ এবারই প্রথম ভোট দেবেন। আগের কয়েকটি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার অভিজ্ঞতা তরুণদের মধ্যে এবার ভোট দেওয়ার আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক দলগুলো ইশতেহার প্রণয়নেও ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে। বিএনপি চালু করেছে ‘ম্যাচমাইপলিসি ডটকম’ নামের একটি ওয়েবসাইট, যেখানে ভোটাররা নীতিগত প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত দিতে পারছেন। একইভাবে জামায়াতে ইসলামী ‘জনতার ইশতেহার’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারও নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, প্রথাগত গণমাধ্যমের তুলনায় সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব বেশি হওয়ায় সরকারও এই মাধ্যমকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

রাজপথের প্রচারণা শুরু হলেও বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন ও গণভোটের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ার এই ডিজিটাল লড়াই।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

আল জাজিরার প্রতিবেদন: আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটের নতুন রণক্ষেত্র সোশ্যাল মিডিয়া

প্রকাশঃ ০৩:১৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক লড়াইয়ের মঞ্চ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। রাজপথের প্রচারণার পাশাপাশি ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলেও বড় রাজনৈতিক দলগুলো গত কয়েক মাস ধরেই ভার্চুয়াল জগতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ‘জেন–জি’ বা তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই এই ডিজিটাল প্রচারণা জোরদার হয়েছে।

আল–জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। এই লড়াইয়ের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে রাজনৈতিক সংগীত, প্রচারণামূলক ভিডিও ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নির্মিত একটি রাজনৈতিক গান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। গানে নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গলের মতো পুরোনো প্রতীক প্রত্যাখ্যান করে ‘দাঁড়িপাল্লা’কে নতুন রাজনীতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। গানটির নির্মাতা লন্ডনভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা এইচ এ আল বান্না জানান, এটি মূলত একজন প্রার্থীর জন্য তৈরি হলেও ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় অন্য প্রার্থীরাও তা ব্যবহার করছেন।

এর বিপরীতে বিএনপি ‘আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রচারণামূলক গান ও ভিডিও প্রকাশ করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য দলও ছোট নাটিকা, নীতি ব্যাখ্যা ও ব্যঙ্গধর্মী ভিডিওর মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

ডিজিটাল প্রচারণা বাড়ার পেছনে দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও তরুণ ভোটারের আধিক্য বড় ভূমিকা রাখছে। বিটিআরসি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৪ শতাংশ। ডেটারিপোর্টাল-এর হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ এবং টিকটক ব্যবহারকারী প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ।

এ ছাড়া ভোটারদের প্রায় ৪৩ দশমিক ৫৬ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে, যাদের একটি বড় অংশ এবারই প্রথম ভোট দেবেন। আগের কয়েকটি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার অভিজ্ঞতা তরুণদের মধ্যে এবার ভোট দেওয়ার আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক দলগুলো ইশতেহার প্রণয়নেও ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে। বিএনপি চালু করেছে ‘ম্যাচমাইপলিসি ডটকম’ নামের একটি ওয়েবসাইট, যেখানে ভোটাররা নীতিগত প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত দিতে পারছেন। একইভাবে জামায়াতে ইসলামী ‘জনতার ইশতেহার’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারও নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, প্রথাগত গণমাধ্যমের তুলনায় সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব বেশি হওয়ায় সরকারও এই মাধ্যমকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

রাজপথের প্রচারণা শুরু হলেও বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন ও গণভোটের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ার এই ডিজিটাল লড়াই।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”