ঢাকা ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রথমবারের মতো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১১:২২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 53

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো সরাসরি কোনো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মুখোমুখি বসলো ইউক্রেন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটিকে বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হলেও, মূল মতপার্থক্যগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে দুই পক্ষকেই ‘স্টুপিড’ বা নির্বোধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। ট্রাম্পের বিশেষ দূতদের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে এই বৈঠক সম্ভব হলেও শেষ পর্যন্ত কতটুকু ফলাফল আসবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত একটি যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিলেও দনবাস অঞ্চল এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মতো মৌলিক ইস্যুতে কোনো ঐকমত্য হয়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই বৈঠককে কেবল একটি ‘প্রাথমিক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি একে ইতিবাচক বলতে নারাজ, তবে শান্তির পথে এগোনোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। জেলেনস্কির ভাষ্যমতে, শান্তি চুক্তির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ এগিয়ে থাকলেও বাকি ১০ শতাংশই সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “মূল বিরোধ পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল নিয়ে। এটি আমাদের ভূখণ্ডের প্রশ্ন, যা এখনো অমীমাংসিত।” রাশিয়া দনবাসের নিয়ন্ত্রণ দাবি করলেও ইউক্রেন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ভবিষ্যতের নিরাপত্তা গ্যারান্টি। ইউক্রেন দাবি করছে, ভবিষ্যতে রাশিয়া পুনরায় হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সামরিক সহায়তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি নিরাপত্তা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যদিও এর বিস্তারিত এখনো গোপন রাখা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অস্থিরতা এবং অতীতে সামরিক সহায়তা বন্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে কিয়েভের মনে গভীর সন্দেহ এখনো বিদ্যমান।

অন্যদিকে, ভ্লাদিমির পুতিন তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এমন কোনো আভাস পাওয়া যায়নি। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার টেবিলে তাদের শর্ত পূরণ না হলে তারা যুদ্ধক্ষেত্রেই জয় ছিনিয়ে নেবে। বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, তীব্র শীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় শহরবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

আবুধাবিতে এই বৈঠকটি বিশ্ববাসীর জন্য একটি আশার আলো হলেও বাস্তবচিত্র বলছে ভিন্ন কথা। একদিকে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্ন, অন্যদিকে রাশিয়ার আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা—এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের মাঝে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা কতটা সফল হয়, তা সময় বলে দেবে। আপাতত, শান্তি এখনো সুদূরপরাহত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

প্রথমবারের মতো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশঃ ১১:২২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো সরাসরি কোনো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মুখোমুখি বসলো ইউক্রেন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটিকে বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হলেও, মূল মতপার্থক্যগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে দুই পক্ষকেই ‘স্টুপিড’ বা নির্বোধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। ট্রাম্পের বিশেষ দূতদের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে এই বৈঠক সম্ভব হলেও শেষ পর্যন্ত কতটুকু ফলাফল আসবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত একটি যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিলেও দনবাস অঞ্চল এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মতো মৌলিক ইস্যুতে কোনো ঐকমত্য হয়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই বৈঠককে কেবল একটি ‘প্রাথমিক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি একে ইতিবাচক বলতে নারাজ, তবে শান্তির পথে এগোনোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। জেলেনস্কির ভাষ্যমতে, শান্তি চুক্তির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ এগিয়ে থাকলেও বাকি ১০ শতাংশই সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “মূল বিরোধ পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল নিয়ে। এটি আমাদের ভূখণ্ডের প্রশ্ন, যা এখনো অমীমাংসিত।” রাশিয়া দনবাসের নিয়ন্ত্রণ দাবি করলেও ইউক্রেন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ভবিষ্যতের নিরাপত্তা গ্যারান্টি। ইউক্রেন দাবি করছে, ভবিষ্যতে রাশিয়া পুনরায় হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সামরিক সহায়তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি নিরাপত্তা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যদিও এর বিস্তারিত এখনো গোপন রাখা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অস্থিরতা এবং অতীতে সামরিক সহায়তা বন্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে কিয়েভের মনে গভীর সন্দেহ এখনো বিদ্যমান।

অন্যদিকে, ভ্লাদিমির পুতিন তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এমন কোনো আভাস পাওয়া যায়নি। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার টেবিলে তাদের শর্ত পূরণ না হলে তারা যুদ্ধক্ষেত্রেই জয় ছিনিয়ে নেবে। বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, তীব্র শীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় শহরবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

আবুধাবিতে এই বৈঠকটি বিশ্ববাসীর জন্য একটি আশার আলো হলেও বাস্তবচিত্র বলছে ভিন্ন কথা। একদিকে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্ন, অন্যদিকে রাশিয়ার আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা—এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের মাঝে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা কতটা সফল হয়, তা সময় বলে দেবে। আপাতত, শান্তি এখনো সুদূরপরাহত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”