ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারি বর্ষণে নিহত ৬১, জনজীবন বিপর্যস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৩:১৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 48

আফগানিস্তানে গত তিন দিনে প্রবল তুষারপাত ও ভারি বর্ষণের কারণে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএনডিএমএ) জানিয়েছে, বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন প্রদেশে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১১০ জন আহত ও ৪৫৮টি ঘরবাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।

নিহতদের বেশিরভাগই বাড়িঘরের ছাদ ধসে বা তুষারপাতের কারণে মারা গেছেন। এছাড়া শীতপ্রবাহ ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় ফ্রস্টবাইট বা ‘ঠাণ্ডার কামড়ে’ অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্তৃপক্ষ।

দুর্যোগের কারণে আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সালাং মহাসড়কসহ বেশ কিছু প্রধান সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাবুলের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। পারওয়ান প্রদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ও যাতায়াত মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহও বিপর্যস্ত হয়েছে। উজবেকিস্তান থেকে আমদানিকৃত প্রধান ট্রান্সমিশন লাইনের ক্ষতির কারণে রাজধানী কাবুলসহ প্রায় ১২টি প্রদেশ বিদ্যুৎহীন। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডিএবিএস জানিয়েছে, প্রকৌশলী দল প্রস্তুত থাকলেও তুষারপাতের কারণে রাস্তা বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না।

দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারে বৃষ্টির তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একটি বাড়ির ছাদ ধসে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তুষারপাতের কারণে গবাদিপশু মারা গেছে এবং অসংখ্য দোকানপাট ধসে পড়েছে। বামিয়াং প্রদেশের পাহাড়ি পথে আটকা পড়া পর্যটক ও বাসিন্দাদের কাছে জরুরি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

এএনডিএমএ’র এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তুষারাবৃত সড়কে যাতায়াত না করার জন্য সতর্ক করেছেন। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত আফগানিস্তানের জন্য এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নতুন মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশের ৪ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকেরই জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুষারপাত কৃষির জন্য সহায়ক হতে পারলেও পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে এটি প্রাণঘাতী সংকটে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলা জান্তা সরকারের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সূত্র: এবিসি নিউজ

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারি বর্ষণে নিহত ৬১, জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশঃ ০৩:১৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

আফগানিস্তানে গত তিন দিনে প্রবল তুষারপাত ও ভারি বর্ষণের কারণে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএনডিএমএ) জানিয়েছে, বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন প্রদেশে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১১০ জন আহত ও ৪৫৮টি ঘরবাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।

নিহতদের বেশিরভাগই বাড়িঘরের ছাদ ধসে বা তুষারপাতের কারণে মারা গেছেন। এছাড়া শীতপ্রবাহ ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় ফ্রস্টবাইট বা ‘ঠাণ্ডার কামড়ে’ অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্তৃপক্ষ।

দুর্যোগের কারণে আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সালাং মহাসড়কসহ বেশ কিছু প্রধান সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাবুলের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। পারওয়ান প্রদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ও যাতায়াত মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহও বিপর্যস্ত হয়েছে। উজবেকিস্তান থেকে আমদানিকৃত প্রধান ট্রান্সমিশন লাইনের ক্ষতির কারণে রাজধানী কাবুলসহ প্রায় ১২টি প্রদেশ বিদ্যুৎহীন। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডিএবিএস জানিয়েছে, প্রকৌশলী দল প্রস্তুত থাকলেও তুষারপাতের কারণে রাস্তা বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না।

দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারে বৃষ্টির তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একটি বাড়ির ছাদ ধসে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তুষারপাতের কারণে গবাদিপশু মারা গেছে এবং অসংখ্য দোকানপাট ধসে পড়েছে। বামিয়াং প্রদেশের পাহাড়ি পথে আটকা পড়া পর্যটক ও বাসিন্দাদের কাছে জরুরি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

এএনডিএমএ’র এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তুষারাবৃত সড়কে যাতায়াত না করার জন্য সতর্ক করেছেন। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত আফগানিস্তানের জন্য এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নতুন মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশের ৪ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকেরই জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুষারপাত কৃষির জন্য সহায়ক হতে পারলেও পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে এটি প্রাণঘাতী সংকটে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলা জান্তা সরকারের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সূত্র: এবিসি নিউজ