যুক্তরাজ্যে ‘ইওর ফার্স্ট হোম’: ২.৫ শতাংশ ডিপোজিটে নতুন বাড়ি কেনার সুযোগ
- প্রকাশঃ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:০১
- / 8
লন্ডন, ২৮ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – ব্রিটেনে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ ডিপোজিটে নতুন নির্মিত বাড়ি কেনার সুযোগ দিতে নতুন একটি কর্মসূচির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে লেবার সরকার। ‘ইওর ফার্স্ট হোম’ নামের প্রস্তাবিত এই কর্মসূচির আওতায় বাড়ি কেনার সময় বড় অঙ্কের ডিপোজিট জোগাড়ের বাধা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচি ইংল্যান্ডে প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এর আওতায় বাড়ির মূল্যের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইকুইটি ঋণের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে ক্রেতাদের নিজেদের পক্ষ থেকে দিতে হবে বাড়ির মূল্যের ২ দশমিক ৫ শতাংশ ডিপোজিট।
প্রধানমন্ত্রী এন্ডি বার্নহ্যাম বলেন, অনেক তরুণ এখন বিশ্বাস করাই ছেড়ে দিয়েছেন যে তাঁরা কখনো নিজেদের বাড়ির মালিক হতে পারবেন। তাঁর মতে, উচ্চ ভাড়া, বাড়ির মূল্য এবং ডিপোজিটের জন্য অর্থ সঞ্চয়ের কঠিন পরিস্থিতি এর অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রম ও সঞ্চয়ের মূল্য থাকা উচিত এবং বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ এমন মানুষের মধ্যেও থাকা উচিত, যারা পরিবারের কাছ থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পান না। এ ধরনের পারিবারিক সহায়তাকে তিনি প্রচলিতভাবে ‘ব্যাংক অব মম অ্যান্ড ড্যাড’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ব্রিটেনে প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের জন্য ডিপোজিট জোগাড় করা দীর্ঘদিন ধরে বড় আর্থিক বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে কিছু ঋণদাতা ৫ শতাংশের কম ডিপোজিটের নির্দিষ্ট বন্ধকি ঋণও দিয়ে থাকে। তবে এসব ঋণের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আয়, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, আর্থিক ইতিহাস এবং বাড়ির মূল্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়।
প্রস্তাবিত নতুন কর্মসূচিতে নতুন নির্মিত বাড়িকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পুরোনো বা আগে থেকে নির্মিত বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এই নির্দিষ্ট সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
২ দশমিক ৫ শতাংশ ডিপোজিটের সুযোগ থাকলেও ক্রেতাদের বন্ধকি ঋণের অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। ঋণদাতার শর্ত অনুযায়ী আয়, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয় যাচাই করা হবে।
লেবার সরকারের এই পরিকল্পনা এমন সময়ে এসেছে, যখন ব্রিটেনে বাড়ির মূল্য ও বন্ধকি ঋণের ব্যয় প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য বড় আর্থিক বিষয় হয়ে আছে। কম ডিপোজিটের মাধ্যমে বাড়ি কেনার প্রাথমিক বাধা কমানোই নতুন কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
তবে কর্মসূচিটির বিস্তারিত যোগ্যতা, বাড়ির সর্বোচ্চ মূল্যের সীমা, ঋণের শর্ত, আবেদনের পদ্ধতি এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনো চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এসব বিষয় নির্ধারিত হওয়ার পর কোন ক্রেতারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন, তা আরও স্পষ্ট হবে।
এর আগে ব্রিটেনে প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের সহায়তায় বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি চালু হয়েছে। নতুন প্রস্তাবিত কর্মসূচিটি নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে কম ডিপোজিটে ক্রেতাদের প্রবেশের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
























