পাঁচ বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকার ফেলোশিপ, যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেলেন আশফাকুর রহমান
- প্রকাশঃ ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৫
- / 13
সাইরাকিউজ, ২৬ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাক্সওয়েল স্কুল অব সিটিজেনশিপ অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সে পাঁচ বছর মেয়াদি পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশি গবেষক এস এম আশফাকুর রহমান। মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপের আওতায় টিউশন ফি, গবেষণা ও শিক্ষাসহায়ক কাজের ভাতা এবং স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকিসহ তাঁর জন্য বছরে প্রায় ৮০ হাজার ৪৬০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকবে। পাঁচ বছরে এই সহায়তার মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।
ম্যাক্সওয়েল স্কুলে সমাজতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন আশফাকুর। প্রবীণদের স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, পরিবেশ ও সামাজিক কাঠামো নিয়ে তাঁর গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বার্ধক্যকালীন স্বাস্থ্যসেবা, নীতিনির্ধারণ এবং কাঠামোগত বৈষম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অবদান রাখতে চান তিনি।
আশফাকুরের উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল রোহিঙ্গা সংকট ও আধুনিক শাসনব্যবস্থা।
এরপর দ্বিতীয়বার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান আশফাকুর। মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মানকাটোতে সমাজতত্ত্ব ও নেতৃত্ব বিষয়ে ভর্তি হন পূর্ণ অর্থায়নের বৃত্তি নিয়ে। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
আপনার মতামত ও যেকোন ধরণের আটিকেল লিখে পাঠিয়ে দিন আমাদের ইমেইল- projonmokothanews@gmail.com ঠিকানায়।
মিনেসোটায় তাঁর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তীব্র শীতের পরিবেশে প্রবীণদের নিরাপত্তা ও জীবনযাপনে নজরদারির মতো সামাজিক কাঠামোর প্রভাব। প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং সামাজিক ব্যবস্থার সঙ্গে প্রবীণদের জীবনযাত্রার সম্পর্ক নিয়ে তাঁর এই গবেষণা একাধিক প্রতিযোগিতায় স্বীকৃতি পেয়েছে।
আশফাকুরের দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর গবেষণাপত্র নিউইয়র্কের প্রবীণবিষয়ক একটি সংগঠনের আয়োজিত গবেষণাপত্র প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট সোশিওলজিক্যাল সোসাইটির সেরা স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী গবেষণাপত্র প্রতিযোগিতাতেও প্রথম হন তিনি। এ ছাড়া সোশিওলজিস্ট অব মিনেসোটার ক্যারোলিন রোজ গবেষণাপত্র প্রতিযোগিতায়ও শীর্ষস্থান অর্জন করেন।
গবেষণার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে আশফাকুরের। মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণা ও বৃত্তিবিষয়ক কেন্দ্রে স্নাতকোত্তর গবেষণা সহকারী এবং গবেষণা পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ ছাড়া জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ কর্মসূচিবিষয়ক কেন্দ্র এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও গবেষণা সহকারী হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি শুরু করে প্রবীণদের স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও পরিবেশগত সমাজতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন আশফাকুর। প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বার্ধক্যকালীন স্বাস্থ্যসেবা, নীতিনির্ধারণ এবং কাঠামোগত বৈষম্য নিয়ে গবেষণায় অবদান রাখতে চান।
বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে নীতিনির্ধারণে গবেষণাভিত্তিক তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে। আশফাকুরের প্রত্যাশা, তাঁর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো




























