ভোটে অনিয়ম হলে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হবে না: জামায়াত আমির
- প্রকাশঃ ০৬:৫৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 22
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জালিয়াতির মাধ্যমে যদি কোনো সরকার গঠিত হয়, তাহলে সেই সরকার জনগণের দুঃখ-দরদ বুঝবে না এবং জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সেতুবন্ধ তৈরি হবে না।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে ঢাকা-১৫ আসনে নিজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই সরকারটা হোক জনগণের সরকার—কোনো দলের নয়, ব্যক্তির নয়, পরিবারের নয়। দল, ব্যক্তি ও পরিবারের গণ্ডি অতিক্রম করে ১৮ কোটি মানুষের সরকার কায়েম হবে—সেটাই আমরা আশা করি।
তিনি বলেন, ভালো নির্বাচন হলেই একটি ভালো সরকার গঠিত হবে। যে সরকার এ দেশের মানুষকে নিয়ে ভাববে, যে সরকার হবে জনগণের সরকার। আর জালিয়াতির মাধ্যমে যদি কোনো সরকার গঠিত হয়, তাহলে ওই সরকার জনগণের দুঃখ-দরদ বুঝবে না।
সকালে মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকায় মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের বালক শাখা কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াতের আমির।
ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজমান ছিল এবং ভোটার উপস্থিতিও লক্ষণীয়। পরে আরও কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করি। দু-একটি কেন্দ্র ছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রেই টার্নআউট সন্তোষজনক ছিল।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ওই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা জোরপূর্বক ঢুকে পড়ে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং হস্তক্ষেপ করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, এই কেন্দ্রেই এ আসনের সর্বাধিক ভোটার—প্রায় ২৬ হাজার। সেখানে হঠাৎ করে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কিছু লোক বেপরোয়াভাবে ঢুকে পড়ে। তারা আমাদের ভোটার ও সমর্থকদের শারীরিকভাবে নাজেহাল করেছে।
খবর পেয়ে তিনি নিজে ওই কেন্দ্রে যান বলে জানান। সেখানে গিয়ে দেখি, সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি সেনা কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেন, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর যেন ভোট গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রার্থীদের এজেন্ট ছাড়া অন্য কেউ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, ভেতরের পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাইরের কেউ যেন অহেতুক জটলা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি।
ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষ যেন নিজের পছন্দমতো ভোট দিতে পারেন। ভয়ের সংস্কৃতি যেন তৈরি না হয়।
এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি দলীয় প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকেরা সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
ভোট শেষে গণনার সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির।


















