নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে প্রথম রাত: আমেরিকায় পা রাখা হাজারো বাঙালির চেনা গল্প
- প্রকাশঃ ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৬
- / 4
নিউইয়র্কে আসা অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির জীবনে এমন একটি রাত থাকে, যেটি বহু বছর পরও মনে পড়ে। সেটি জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম পা রাখার রাত। নতুন দেশ, অচেনা শহর আর সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে বিমানবন্দরের দরজা পেরিয়ে শুরু হয় জীবনের নতুন অধ্যায়।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নিউইয়র্কে পৌঁছে প্রথমেই আসে ইমিগ্রেশনের দীর্ঘ অপেক্ষা। এরপর কাস্টমস, লাগেজ সংগ্রহ এবং বিমানবন্দরের বাইরে বের হওয়ার প্রস্তুতি। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তির মধ্যেও তখন অনেকের মাথায় ঘুরতে থাকে একটাই প্রশ্ন, বাইরে বের হলে কীভাবে যাবেন, কে নিতে আসবেন, আর নতুন শহরের প্রথম রাতটি কেমন হবে।
বিমানবন্দরের দরজা দিয়ে বাইরে বের হওয়ার পর নিউইয়র্কের ঠান্ডা বাতাস অনেকের কাছেই হয়ে ওঠে নতুন জীবনের প্রথম বাস্তব অনুভূতি। কেউ আত্মীয়ের অপেক্ষায় থাকেন। কেউ ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। আবার কেউ প্রথমবারের মতো উবার বা অন্য কোনো পরিবহনসেবা ব্যবহার করতে গিয়ে নতুন শহরের নিয়মকানুন বুঝতে চেষ্টা করেন।
জেএফকে (JFK) থেকে জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইটস কিংবা ব্রঙ্কসের পথে শুরু হয় আরেকটি নতুন অভিজ্ঞতা। রাস্তার দুই পাশে আলো, ব্যস্ত যানবাহন আর অপরিচিত শহরের দৃশ্য দেখতে দেখতে অনেকের মনে তখন হয়তো এক ধরনের একাকিত্ব কাজ করে। পরিচিত মানুষ, পরিচিত পরিবেশ আর দেশের জীবন থেকে অনেক দূরে এসে মনে হতে পারে, এত বড় শহরে সত্যিই যেন তিনি একা।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অনুভূতিই বদলে যায়।
যে মানুষটি একদিন লাগেজ হাতে জেএফকে (JFK)-এর বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কয়েক বছর পর হয়তো তিনিই একই বিমানবন্দরে পরিবারের নতুন কোনো সদস্যকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছেন। একসময় যে শহর ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত, ধীরে ধীরে সেটিই হয়ে ওঠে তাঁর কর্মস্থল, পরিচিত মহল এবং পরিবারের ঠিকানা।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায়ও প্রথম নিউইয়র্কে আসার অভিজ্ঞতা নিয়ে এমন স্মৃতির কথা প্রায়ই উঠে আসে। কারও কাছে প্রথম রাত ছিল ভয় ও অনিশ্চয়তায় ভরা, আবার কারও কাছে সেটিই ছিল বহুদিনের স্বপ্ন পূরণের মুহূর্ত।
নতুন শহরে প্রথম কয়েক ঘণ্টার সেই অস্বস্তি, অচেনা রাস্তায় প্রথম যাত্রা, আত্মীয়ের জন্য অপেক্ষা কিংবা নিজের নতুন ঠিকানায় পৌঁছানোর মুহূর্ত, সময় পেরিয়ে এসবই একসময় স্মৃতিতে পরিণত হয়।
আর এই জায়গাতেই জেএফকে (JFK) হয়ে ওঠে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির ব্যক্তিগত গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারও জন্য এটি নতুন জীবনের দরজা, কারও জন্য পরিবারের কাছে পৌঁছানোর পথ, আবার কারও জন্য বহু বছরের অপেক্ষার পর বাস্তবে আমেরিকায় পা রাখার মুহূর্ত।
একদিন যে মানুষটি এই বিমানবন্দরে নেমে ভাবছিলেন, সামনে কী অপেক্ষা করছে, সময়ের সঙ্গে তিনিই হয়তো নতুন প্রজন্মের কাউকে নিয়ে দাঁড়ান একই জায়গায়। তখন জেএফকে (JFK) আর অচেনা কোনো বিমানবন্দর থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে তাঁর নিজের জীবনের একটি পরিচিত অধ্যায়ের নাম।
এই গল্প কোনো একজনের নয়। প্রবাসে নতুন জীবন শুরু করা বহু বাংলাদেশির অভিজ্ঞতার সঙ্গে এর মিল রয়েছে। প্রথম রাতের ভয়, অচেনা শহরের অনিশ্চয়তা আর ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করার এই যাত্রাই প্রবাসজীবনের বহু গল্পের একটি সাধারণ ছবি।



























