ব্রিটিশ পাসপোর্টধারীদের ইউরোপ ভ্রমণে নতুন নিয়ম, লাগবে ইটিআইএএস অনুমতি
- প্রকাশঃ ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬
- / 15
লন্ডন, ৫ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ইউরোপের ৩০টি দেশে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ব্যবস্থার আওতায় ব্রিটিশ পাসপোর্টধারীদের এসব দেশে যাওয়ার আগে ইউরোপীয় ট্রাভেল ইনফরমেশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সিস্টেম বা ইটিআইএএসের ভ্রমণ অনুমোদন নিতে হবে।
ইটিআইএএস এখনো কার্যকর হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট শুরুর তারিখ কয়েক মাস আগে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকরা ইটিআইএএস চালু হওয়ার পর ভিসা ছাড়াই সংশ্লিষ্ট ৩০টি ইউরোপীয় দেশে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ করতে পারবেন, তবে যাত্রার আগে বৈধ ইটিআইএএস অনুমোদন থাকতে হবে। প্রত্যাহার চুক্তির আওতায় থাকা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
৩০টি দেশে ভ্রমণে প্রযোজ্য
ইটিআইএএস অনুমোদন প্রয়োজন হবে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিশটেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডে ভ্রমণের ক্ষেত্রে।
ইটিআইএএস ভিসা নয়। এটি ভিসামুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য একটি পূর্বভ্রমণ অনুমোদন। অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে সর্বোচ্চ ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি অবস্থান করা যাবে। অনুমোদন সাধারণত তিন বছর পর্যন্ত অথবা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বৈধ থাকবে, যেটি আগে ঘটে সেটি কার্যকর হবে।
আবেদন ফি ২০ ইউরো
ইটিআইএএসের আবেদন ফি আগে ৭ ইউরো নির্ধারিত থাকলেও তা বাড়িয়ে ২০ ইউরো করা হয়েছে। নতুন ফি ২০২৫ সালের নভেম্বরে কার্যকর হয়েছে এবং ইটিআইএএস চালু হলে সেটিই প্রযোজ্য হবে। ১৮ বছরের কম এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সী আবেদনকারীরা এই ফি থেকে অব্যাহতি পাবেন।
তাই দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই শিশুর একটি পরিবার আবেদন করলে, বয়সের শর্ত পূরণ করা সাপেক্ষে দুই প্রাপ্তবয়স্কের জন্য মোট ৪০ ইউরো ফি দিতে হবে।
বেশিরভাগ আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির প্রত্যাশা
ইটিআইএএস চালু হলে আবেদন অনলাইনে করা যাবে। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের তথ্য ও ভ্রমণসংক্রান্ত কিছু তথ্য দিতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ আবেদন কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ হতে পারে। তবে অতিরিক্ত তথ্য, নথি বা সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত পেতে আরও সময় লাগতে পারে।
অনুমোদনটি আবেদনকারীর পাসপোর্টের সঙ্গে ইলেকট্রনিকভাবে যুক্ত থাকবে। তাই আলাদা করে কাগজে অনুমোদন বহন করা বাধ্যতামূলক হবে না। বিমান, বাস বা ফেরিতে ওঠার আগেই বৈধ অনুমোদন থাকতে হবে।
অনুমোদন থাকলেও প্রবেশ নিশ্চিত নয়
ইটিআইএএস অনুমোদন থাকলেই কোনো দেশে প্রবেশের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট দেশের সীমান্ত কর্মকর্তারা সীমান্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন এবং জাতীয় আইন বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত কারণে কোনো ভ্রমণকারীকে প্রবেশে বাধা দিতে পারেন।
ভুল বা অবৈধ পাসপোর্টের তথ্য, নিরাপত্তাসংক্রান্ত সতর্কতা, অসম্পূর্ণ আবেদন কিংবা অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে আবেদন অনুমোদন নাও পেতে পারে। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আপিলের সুযোগও থাকবে।
ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশের নাগরিকদের মতো অবাধ চলাচলের সুবিধা আর পান না। সেই পরিবর্তিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই ভিসামুক্ত ব্রিটিশ ভ্রমণকারীদের জন্য ইটিআইএএস চালু করা হচ্ছে। তবে এটি ভিসা ব্যবস্থা নয় এবং স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য পূর্বানুমোদন হিসেবে কাজ করবে।
























