কুয়েট উপাচার্যকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, না মানলে আমরণ অনশন
- প্রকাশঃ ০১:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫
- / 121
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদকে পদত্যাগ করতে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা জানিয়েছেন, এ সময়ের মধ্যে উপাচার্য পদত্যাগ না করলে তারা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করবেন।
রোববার (২০ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে কুয়েটের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা এই আল্টিমেটাম দেন। তারা বলেন, ভিসি টিকলে সারা দেশ টিকবে না। ইনসাফ আদায়ে প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও অন্যায় সহ্য করব না।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী ও কর্মচারী আহত হন। পরদিন শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন। ওই দিন সিন্ডিকেট সভায় কুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি কুয়েটের আবাসিক হলগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল পুনরায় চালুর দাবিতে ১৩ এপ্রিল থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করলে আন্দোলন ফের ঘনীভূত হয়।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) শিক্ষার্থীরা কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবি উত্থাপন করেন। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের ছয়টি আবাসিক হলে তালা ভেঙে প্রবেশ করে অবস্থান নেন। বুধবার তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি তুই স্বৈরাচার’, ‘গদি ছাড়’, ‘কুয়েট আজ টেস্ট কেইস’ ইত্যাদি লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এর আগে শনিবার বিকেলে তারা প্রতীকী গদিতে আগুন জ্বালিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে গত সোমবার সিন্ডিকেট সভায় সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২ মে থেকে হল খুলে দেওয়া এবং ৪ মে থেকে ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষিতে উপাচার্যের পদত্যাগের বিপক্ষে এক অংশের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন।
আন্দোলনকারীরা বলেছেন, তদন্ত রিপোর্টের আগেই বহিষ্কার কীভাবে হয়? সন্ত্রাসীরা তদন্ত রিপোর্ট ও সিসিটিভি ফুটেজ কীভাবে পায়? এসব প্রশ্নের জবাব চাই। কুয়েট কোনো স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের জায়গা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রতিষ্ঠান।



























