ঢাকা ০৪:৫৯ , Sun, ০৫ Jul ২০২৬
ইউরোপ
জার্মানি

জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থী এএফডির সম্মেলন ঘিরে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:২২
  • / 8
জার্মানির এরফুর্টে এএফডির বার্ষিক সম্মেলনের বাইরে বিক্ষোভ করছেন হাজারো মানুষ ছবি: এএফপি

জার্মানির কট্টর ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-এর বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার (৪ জুলাই) পূর্বাঞ্চলীয় শহর এরফুর্টে আয়োজিত সম্মেলনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। সম্মেলনে দলটির বর্তমান দুই সহ-নেতা অ্যালিস ভাইডেল ও টিনো ক্রুপালাকে পুনরায় নির্বাচিত করা হয়েছে। নেতৃত্বে বহাল থেকে তারা জাতীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার আরও কাছে পৌঁছানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ইউনিয়ন, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন ও বামপন্থী দলগুলোর আহ্বানে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দাঙ্গা পুলিশের উপস্থিতিতে বিক্ষোভকারীরা সম্মেলনস্থলে যাওয়ার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে বসে অবরোধ করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এরফুর্ট ও আশপাশের এলাকায় আয়োজিত বিভিন্ন বিক্ষোভে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশ নেন।

সম্মেলনের শুরুতেই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই পুনর্নির্বাচিত হন অ্যালিস ভাইডেল ও টিনো ক্রুপালা। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তাদের দল এএফডি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের রক্ষণশীল জোট সিডিইউ/সিএসইউকে ছাড়িয়ে এগিয়ে রয়েছে। উদ্বোধনী বক্তব্যে এএফডি নেতারা বিক্ষোভকারীদের “গণতন্ত্রবিরোধী” বলে আখ্যা দেন। তারা দাবি করেন, মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং দেশকে অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এ বছর অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন দলীয় নেতারা। অ্যালিস ভাইডেল বলেন, “দেশকে রক্ষার এটিই আমাদের শেষ সুযোগ। জার্মানির অধঃপতনের বিরুদ্ধে, আমাদের দেশ ও পরিচয় রক্ষার লড়াইয়ে আরও বেশি মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।”

অভিবাসন ইস্যুতে দলটির কঠোর অবস্থানও সম্মেলনে স্পষ্টভাবে উঠে আসে। অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক মিনিট আগে এএফডির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘Send Them Back’ শিরোনামের একটি গান প্রকাশ করা হয়। সম্মেলনস্থলে বিক্রি করা পোস্টকার্ডেও লেখা ছিল, “You Will Be Deported”।

দলটির বিতর্কিত নেতা বিয়র্ন হ্যোকে বক্তব্যে জার্মানির বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এমনকি দেশের মহাসড়কের শৌচাগারের অবস্থাকেও জাতীয় অবক্ষয়ের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। হ্যোকে বলেন, “একটি মহান জার্মানি হলো এমন একটি দেশ, যেখানে সন্ধ্যায় শহরের পার্কে হাঁটতে যেতে ভয় পেতে হয় না। একটি মহান জার্মানি হলো এমন একটি দেশ, যেখানে বাড়ির চাবি দরজার বাইরের দিকেই ঝুলিয়ে রাখা যায়।”

আগামী সেপ্টেম্বরে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সাকসেন-আনহাল্ট ও মেকলেনবুর্গ-ফোরপমার্নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এএফডির আশা, এই নির্বাচন জাতীয় পর্যায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ আরও সুগম করবে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে এএফডির সমর্থন ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। বিপরীতে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সিডিইউ/সিএসইউ জোটের সমর্থন প্রায় ২২ শতাংশ। সাবেক পূর্ব জার্মানির রাজ্যগুলোতেই এএফডির সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থনভিত্তি গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ সবচেয়ে বেশি।

❤️
👏
🙂
😞

জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থী এএফডির সম্মেলন ঘিরে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

প্রকাশঃ ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:২২

জার্মানির কট্টর ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-এর বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার (৪ জুলাই) পূর্বাঞ্চলীয় শহর এরফুর্টে আয়োজিত সম্মেলনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। সম্মেলনে দলটির বর্তমান দুই সহ-নেতা অ্যালিস ভাইডেল ও টিনো ক্রুপালাকে পুনরায় নির্বাচিত করা হয়েছে। নেতৃত্বে বহাল থেকে তারা জাতীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার আরও কাছে পৌঁছানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ইউনিয়ন, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন ও বামপন্থী দলগুলোর আহ্বানে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দাঙ্গা পুলিশের উপস্থিতিতে বিক্ষোভকারীরা সম্মেলনস্থলে যাওয়ার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে বসে অবরোধ করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এরফুর্ট ও আশপাশের এলাকায় আয়োজিত বিভিন্ন বিক্ষোভে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশ নেন।

সম্মেলনের শুরুতেই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই পুনর্নির্বাচিত হন অ্যালিস ভাইডেল ও টিনো ক্রুপালা। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তাদের দল এএফডি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের রক্ষণশীল জোট সিডিইউ/সিএসইউকে ছাড়িয়ে এগিয়ে রয়েছে। উদ্বোধনী বক্তব্যে এএফডি নেতারা বিক্ষোভকারীদের “গণতন্ত্রবিরোধী” বলে আখ্যা দেন। তারা দাবি করেন, মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং দেশকে অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এ বছর অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন দলীয় নেতারা। অ্যালিস ভাইডেল বলেন, “দেশকে রক্ষার এটিই আমাদের শেষ সুযোগ। জার্মানির অধঃপতনের বিরুদ্ধে, আমাদের দেশ ও পরিচয় রক্ষার লড়াইয়ে আরও বেশি মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।”

অভিবাসন ইস্যুতে দলটির কঠোর অবস্থানও সম্মেলনে স্পষ্টভাবে উঠে আসে। অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক মিনিট আগে এএফডির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘Send Them Back’ শিরোনামের একটি গান প্রকাশ করা হয়। সম্মেলনস্থলে বিক্রি করা পোস্টকার্ডেও লেখা ছিল, “You Will Be Deported”।

দলটির বিতর্কিত নেতা বিয়র্ন হ্যোকে বক্তব্যে জার্মানির বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এমনকি দেশের মহাসড়কের শৌচাগারের অবস্থাকেও জাতীয় অবক্ষয়ের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। হ্যোকে বলেন, “একটি মহান জার্মানি হলো এমন একটি দেশ, যেখানে সন্ধ্যায় শহরের পার্কে হাঁটতে যেতে ভয় পেতে হয় না। একটি মহান জার্মানি হলো এমন একটি দেশ, যেখানে বাড়ির চাবি দরজার বাইরের দিকেই ঝুলিয়ে রাখা যায়।”

আগামী সেপ্টেম্বরে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সাকসেন-আনহাল্ট ও মেকলেনবুর্গ-ফোরপমার্নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এএফডির আশা, এই নির্বাচন জাতীয় পর্যায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ আরও সুগম করবে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে এএফডির সমর্থন ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। বিপরীতে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সিডিইউ/সিএসইউ জোটের সমর্থন প্রায় ২২ শতাংশ। সাবেক পূর্ব জার্মানির রাজ্যগুলোতেই এএফডির সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থনভিত্তি গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ সবচেয়ে বেশি।