যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার
- প্রকাশঃ ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৪:১৪
- / 50
বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত স্থিতিশীলতা, সমান সুযোগ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)।
মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার বেসরকারি খাতকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি বলেন, “বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং আরও বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং আইনের শাসন জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগ সহজ করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই সরকারের লক্ষ্য।
বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অবদানের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসায়িক চর্চা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বর্তমান প্রশাসনকে ব্যবসাবান্ধব উল্লেখ করে বলেন, সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশে লভ্যাংশ বা মুনাফা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করা, উদার অর্থনৈতিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্প পার্ক ও হাই-টেক পার্কে বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্রদান।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অতীতে অসম আচরণের কারণে উদ্বেগের মুখে পড়েছিলেন—এ কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, দেশি ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারীর জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্প অংশীদারিত্ব এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বিদেশে কর্মরত দক্ষ বাংলাদেশিদের দেশে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, “ব্রেন ড্রেনকে ব্রেন সার্কুলেশনে” রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তিনি বিমান চলাচল, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত শিল্প, ওষুধ, তৈরি পোশাক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং উচ্চমূল্যের উৎপাদন শিল্পের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগবিষয়ক রোডশো আয়োজন এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেড ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং যৌথ সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ন্যায্য, পারস্পরিক ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়। তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেবল বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) ও উন্নয়ন সহায়তাকেন্দ্রিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগভিত্তিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে চায়।”
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং বিকাশমান বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আরও কিছু সংস্কার প্রয়োজন। এর মধ্যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টি এবং নীতিগত পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রিস্টেনসেন আরও বলেন, প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোরও উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।




















