ঢাকা ০৫:৩৭ , Sun, ০৫ Jul ২০২৬

বাংলাদেশ ও আমেরিকা একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে: ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৩২
  • / 8
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আক্ষরিক অর্থেই একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা করেছেন বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক স্থাপত্য নির্মাণে অনন্য অবদান রেখেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খান। এই পারস্পরিক অবদান দুই দেশের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক।

শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে কিংবদন্তি মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের আয়োজন করা ঐতিহাসিক ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ দুই দেশের মানবিক সম্পর্কের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তিনি বলেন, আজকের সাংস্কৃতিক আয়োজনও সেই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকেই বহন করছে, যা কেবল কূটনীতি বা বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও জনগণকে দেশটির ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি পরীক্ষিত বন্ধু। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখো রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তা দুই দেশের গভীর অংশীদারিত্বের প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ, অভিন্ন লক্ষ্য ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় যৌথ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বিদ্যমান। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের আইকনিক স্থাপনার সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা ঘোষণা করেছিলেন, “সকল মানুষ সমান।” তিনি বলেন, ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হবে।

অনুষ্ঠানে ককাস সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

❤️
👏
🙂
😞

বাংলাদেশ ও আমেরিকা একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে: ডেপুটি স্পিকার

প্রকাশঃ ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৩২

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আক্ষরিক অর্থেই একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা করেছেন বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক স্থাপত্য নির্মাণে অনন্য অবদান রেখেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খান। এই পারস্পরিক অবদান দুই দেশের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক।

শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে কিংবদন্তি মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের আয়োজন করা ঐতিহাসিক ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ দুই দেশের মানবিক সম্পর্কের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তিনি বলেন, আজকের সাংস্কৃতিক আয়োজনও সেই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকেই বহন করছে, যা কেবল কূটনীতি বা বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও জনগণকে দেশটির ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি পরীক্ষিত বন্ধু। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখো রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তা দুই দেশের গভীর অংশীদারিত্বের প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ, অভিন্ন লক্ষ্য ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় যৌথ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বিদ্যমান। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের আইকনিক স্থাপনার সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা ঘোষণা করেছিলেন, “সকল মানুষ সমান।” তিনি বলেন, ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হবে।

অনুষ্ঠানে ককাস সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।