ঢাকা ১০:২০ , Thu, ০২ Jul ২০২৬

সেপ্টেম্বর থেকে ৩.৫ শতাংশ বেতন বাড়ছে ইংল্যান্ডের শিক্ষকদের

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০২ জুলাই ২০২৬, ১৯:৩৫
  • / 6

ইংল্যান্ডের শিক্ষকদের জন্য আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ৩.৫ শতাংশ এবং পরের বছর আরও ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। তবে বেতন বৃদ্ধির অর্থায়নের একটি অংশ বিদ্যমান বাজেট থেকেই বহন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশটির বৃহত্তম শিক্ষক সংগঠন ন্যাশনাল এডুকেশন ইউনিয়ন (এনইইউ), যারা প্রয়োজনে ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বিবেচনা করছে।

সরকার জানিয়েছে, শিক্ষা বিভাগ (DfE) এ খাতে অতিরিক্ত ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দেবে। তবে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, বেতন বৃদ্ধির প্রথম ১ শতাংশের ব্যয় স্কুলগুলোকে তাদের বর্তমান বাজেট থেকেই বহন করতে হবে।

একই সঙ্গে একাডেমি ট্রাস্টগুলোর শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তাদের বেতন নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ১ লাখ ৭৪ হাজার পাউন্ডের বেশি বেতনের কোনো পদের বিজ্ঞাপন দিতে হলে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টকে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি নির্বাহী কর্মকর্তারা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকারী শিক্ষকদের তুলনায় বেশি হারে বেতন বৃদ্ধি পাবেন না।

শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন বলেন, এই প্রস্তাব প্রমাণ করে সরকার শিক্ষকদের কাজকে কতটা গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি থাকা উচিত নয় যেখানে নির্বাহী কর্মকর্তাদের বেতন শিক্ষকদের তুলনায় দ্রুত বাড়ে। কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অযৌক্তিকভাবে উচ্চ বেতনের চর্চা অতীতের বিষয় হয়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে ন্যাশনাল এডুকেশন ইউনিয়ন (এনইইউ) জানিয়েছে, তারা ধর্মঘটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভোট গ্রহণসহ সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করছে।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ড্যানিয়েল কেবেদে বলেন, ঘোষিত বেতন বৃদ্ধি শিক্ষকদের প্রত্যাশিত সেই “নির্ণায়ক পরিবর্তন” নয়। তার মতে, আংশিক অর্থায়নের অর্থ হলো স্কুলগুলোকে নিজেদের বিদ্যমান বাজেট থেকেই অর্থ জোগাড় করতে হবে, যা শেষ পর্যন্ত শিক্ষা খাতে বাজেট সংকোচনের কারণ হবে।

তিনি বলেন, এনইইউ এ ধরনের ব্যবস্থা মেনে নেবে না। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে আগামী সপ্তাহে সংগঠনের জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে মে মাসে এনইইউ জানিয়েছিল, সরকার যদি তাদের প্রাথমিক বেতন প্রস্তাবের উন্নতি না করে, তাহলে শরৎকালে বেতনসংক্রান্ত দাবিতে কর্মবিরতি বা আন্দোলনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভোট আয়োজন করা হবে। সর্বশেষ ঘোষণার পরও সেই অবস্থান বহাল থাকবে কি না জানতে চাইলে সংগঠনের এক মুখপাত্র বলেন, তারা সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করছেন।

শেয়ার করুন

সেপ্টেম্বর থেকে ৩.৫ শতাংশ বেতন বাড়ছে ইংল্যান্ডের শিক্ষকদের

প্রকাশঃ ০২ জুলাই ২০২৬, ১৯:৩৫

ইংল্যান্ডের শিক্ষকদের জন্য আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ৩.৫ শতাংশ এবং পরের বছর আরও ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। তবে বেতন বৃদ্ধির অর্থায়নের একটি অংশ বিদ্যমান বাজেট থেকেই বহন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশটির বৃহত্তম শিক্ষক সংগঠন ন্যাশনাল এডুকেশন ইউনিয়ন (এনইইউ), যারা প্রয়োজনে ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বিবেচনা করছে।

সরকার জানিয়েছে, শিক্ষা বিভাগ (DfE) এ খাতে অতিরিক্ত ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দেবে। তবে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, বেতন বৃদ্ধির প্রথম ১ শতাংশের ব্যয় স্কুলগুলোকে তাদের বর্তমান বাজেট থেকেই বহন করতে হবে।

একই সঙ্গে একাডেমি ট্রাস্টগুলোর শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তাদের বেতন নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ১ লাখ ৭৪ হাজার পাউন্ডের বেশি বেতনের কোনো পদের বিজ্ঞাপন দিতে হলে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টকে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি নির্বাহী কর্মকর্তারা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকারী শিক্ষকদের তুলনায় বেশি হারে বেতন বৃদ্ধি পাবেন না।

শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন বলেন, এই প্রস্তাব প্রমাণ করে সরকার শিক্ষকদের কাজকে কতটা গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি থাকা উচিত নয় যেখানে নির্বাহী কর্মকর্তাদের বেতন শিক্ষকদের তুলনায় দ্রুত বাড়ে। কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অযৌক্তিকভাবে উচ্চ বেতনের চর্চা অতীতের বিষয় হয়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে ন্যাশনাল এডুকেশন ইউনিয়ন (এনইইউ) জানিয়েছে, তারা ধর্মঘটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভোট গ্রহণসহ সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করছে।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ড্যানিয়েল কেবেদে বলেন, ঘোষিত বেতন বৃদ্ধি শিক্ষকদের প্রত্যাশিত সেই “নির্ণায়ক পরিবর্তন” নয়। তার মতে, আংশিক অর্থায়নের অর্থ হলো স্কুলগুলোকে নিজেদের বিদ্যমান বাজেট থেকেই অর্থ জোগাড় করতে হবে, যা শেষ পর্যন্ত শিক্ষা খাতে বাজেট সংকোচনের কারণ হবে।

তিনি বলেন, এনইইউ এ ধরনের ব্যবস্থা মেনে নেবে না। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে আগামী সপ্তাহে সংগঠনের জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে মে মাসে এনইইউ জানিয়েছিল, সরকার যদি তাদের প্রাথমিক বেতন প্রস্তাবের উন্নতি না করে, তাহলে শরৎকালে বেতনসংক্রান্ত দাবিতে কর্মবিরতি বা আন্দোলনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভোট আয়োজন করা হবে। সর্বশেষ ঘোষণার পরও সেই অবস্থান বহাল থাকবে কি না জানতে চাইলে সংগঠনের এক মুখপাত্র বলেন, তারা সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করছেন।