এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার মেয়াদ বাড়ানো আরও ব্যয়বহুল করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
- প্রকাশঃ ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪২
- / 9
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিদেশি দক্ষ কর্মীদের এইচ-১বি (H-1B) এবং এল-১ (L-1) ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল করার পরিকল্পনা করেছে। নতুন এই উদ্যোগ কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় পেশাজীবী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) রেগুলেটরি এজেন্ডা অনুযায়ী, ‘৯-১১ রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এন্ট্রি-এক্সিট ফি’ সংক্রান্ত নিয়ম সংশোধন করে এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনেও ওই ফি প্রযোজ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ জারি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমান মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে ৫০ জনের বেশি কর্মী রয়েছে এবং যাদের মোট কর্মীর ৫০ শতাংশের বেশি এইচ-১বি বা এল-১ ভিসাধারী, সেসব নিয়োগকর্তাকে নতুন কর্মী নিয়োগ বা কর্মী পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে এইচ-১বি আবেদনের জন্য অতিরিক্ত ৪ হাজার ডলার এবং এল-১ আবেদনের জন্য ৪ হাজার ৫০০ ডলার ফি দিতে হয়।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, নিয়ম সংশোধনের মাধ্যমে তারা স্পষ্ট করতে চায় যে ‘৯-১১ রেসপন্স ফি’ এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সব আবেদনের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লাখ ডলার ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে নিম্ন আদালতের সেই রায় স্থগিত করতে রাজি হয়নি মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত। আইনি সেই ধাক্কার পরই ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর খরচ বৃদ্ধির নতুন এই প্রস্তাব সামনে এসেছে।
সাধারণত তিন বছরের প্রাথমিক মেয়াদ শেষে এইচ-১বি ভিসাধারীদের ভিসা নবায়নের প্রয়োজন হয়। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি দক্ষ জনশক্তির ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিবাসন-সংক্রান্ত পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
একই সঙ্গে গুগল ও মেটার মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা দক্ষ কর্মী, নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের জন্য এল-১ ভিসা ব্যবহার করে, তারাও অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়বে।
প্রতি বছর অনুমোদিত এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা নবায়নের আবেদনের সিংহভাগই ভারতীয় নাগরিকদের। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে ভারতীয় পেশাজীবীদের ওপর।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর ২০২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর মোট ৪ লাখ ৬ হাজার ৬৮৫টি এইচ-১বি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ, অর্থাৎ ২ লাখ ৯১ হাজার ৫৪২টি আবেদন ছিল বিদ্যমান কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা কাজ অব্যাহত রাখার আবেদন। এসব নবায়নকৃত আবেদনের মধ্যে ৭৭ দশমিক ৬ শতাংশ, অর্থাৎ ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৯টি অনুমোদন পেয়েছেন ভারতীয় নাগরিকেরা। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনা নাগরিকেরা পেয়েছেন ৩১ হাজার ৫৮১টি অনুমোদন।
যেসব প্রযুক্তি ও আইটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হলে তাদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসি (এনএফএপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে বিদ্যমান কর্মীদের এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আমাজন, যার সংখ্যা ১৪ হাজার ৫৩২।
এর পর রয়েছে ভারতের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), যার অনুমোদিত আবেদন ৫ হাজার ২৯৩টি। এরপর রয়েছে মাইক্রোসফট ৪ হাজার ৮৬৩টি, মেটা প্ল্যাটফর্মস ৪ হাজার ৭৪০টি, অ্যাপল ৪ হাজার ৬১০টি এবং গুগল ৪ হাজার ৫০৯টি।
























