ঢাকা ০৭:১৮ , Wed, ০৫ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্যে

যুক্তরাজ্যে ৪.২ বিলিয়ন পাউন্ডের কারি শিল্প, ১০ হাজার রেস্তোরাঁর ৮৫ শতাংশের মালিক ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ১৯:১৬
  • / 1
ফাইল ছবি

যুক্তরাজ্যের কারি শিল্প এখন খাদ্যসংস্কৃতির গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে। বার্ষিক প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের এই শিল্পে কাজ করেন প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষ। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রচলিত দক্ষিণ এশীয় রেস্তোরাঁগুলোর বড় অংশই পরিচালনা করছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তারা।

খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পের বার্ষিক মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড। এই হিসাবের মধ্যে রেস্তোরাঁর আয় ছাড়াও ক্যাটারিং সেবা এবং সুপারমার্কেটে বিক্রি হওয়া প্রস্তুত কারি খাবারের বাজারও অন্তর্ভুক্ত। ফলে কারি শিল্প এখন ব্রিটিশ খাদ্য অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বহু শহর ও নগরের খাদ্য পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার কারি হাউস ও দক্ষিণ এশীয় রেস্তোরাঁ সক্রিয়ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এসব রেস্তোরাঁ বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও উপশহরেও বিস্তৃত। সপ্তাহান্তে বাইরে খাওয়া, টেকঅ্যাওয়ে সংস্কৃতি এবং পারিবারিক আড্ডায় কারি এখন ব্রিটিশদের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার।

এই শিল্পে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। রান্নাঘরের কর্মী, সার্ভিস স্টাফ, ব্যবস্থাপক, সরবরাহকারী এবং ক্যাটারিং কর্মী মিলিয়ে একটি বিস্তৃত কর্মসংস্থান কাঠামো গড়ে উঠেছে। অনেক পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এবং এটি তাদের জীবিকা ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।

খাতটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো, যুক্তরাজ্যের প্রচলিত ভারতীয় রেস্তোরাঁগুলোর প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই ব্রিটিশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন ও পরিচালিত। এসব রেস্তোরাঁ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের অবদানকে ব্রিটিশ সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। রেস্তোরাঁগুলো সাধারণভাবে ভারতীয় নামে পরিচিত হলেও, তাদের মালিকানা এবং রান্নার ঐতিহ্যের সঙ্গে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তবে এই শিল্প বর্তমানে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দক্ষ কর্মীর সংকট, খাদ্য উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, ভিসা নীতির পরিবর্তন এবং নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে উদ্যোক্তাদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। এরপরও অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবের দিক থেকে যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পের গুরুত্ব অটুট রয়েছে।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাজ্যে ৪.২ বিলিয়ন পাউন্ডের কারি শিল্প, ১০ হাজার রেস্তোরাঁর ৮৫ শতাংশের মালিক ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা

প্রকাশঃ ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ১৯:১৬

যুক্তরাজ্যের কারি শিল্প এখন খাদ্যসংস্কৃতির গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে। বার্ষিক প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের এই শিল্পে কাজ করেন প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষ। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রচলিত দক্ষিণ এশীয় রেস্তোরাঁগুলোর বড় অংশই পরিচালনা করছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তারা।

খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পের বার্ষিক মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড। এই হিসাবের মধ্যে রেস্তোরাঁর আয় ছাড়াও ক্যাটারিং সেবা এবং সুপারমার্কেটে বিক্রি হওয়া প্রস্তুত কারি খাবারের বাজারও অন্তর্ভুক্ত। ফলে কারি শিল্প এখন ব্রিটিশ খাদ্য অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বহু শহর ও নগরের খাদ্য পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার কারি হাউস ও দক্ষিণ এশীয় রেস্তোরাঁ সক্রিয়ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এসব রেস্তোরাঁ বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও উপশহরেও বিস্তৃত। সপ্তাহান্তে বাইরে খাওয়া, টেকঅ্যাওয়ে সংস্কৃতি এবং পারিবারিক আড্ডায় কারি এখন ব্রিটিশদের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার।

এই শিল্পে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। রান্নাঘরের কর্মী, সার্ভিস স্টাফ, ব্যবস্থাপক, সরবরাহকারী এবং ক্যাটারিং কর্মী মিলিয়ে একটি বিস্তৃত কর্মসংস্থান কাঠামো গড়ে উঠেছে। অনেক পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এবং এটি তাদের জীবিকা ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।

খাতটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো, যুক্তরাজ্যের প্রচলিত ভারতীয় রেস্তোরাঁগুলোর প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই ব্রিটিশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন ও পরিচালিত। এসব রেস্তোরাঁ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের অবদানকে ব্রিটিশ সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। রেস্তোরাঁগুলো সাধারণভাবে ভারতীয় নামে পরিচিত হলেও, তাদের মালিকানা এবং রান্নার ঐতিহ্যের সঙ্গে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তবে এই শিল্প বর্তমানে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দক্ষ কর্মীর সংকট, খাদ্য উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, ভিসা নীতির পরিবর্তন এবং নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে উদ্যোক্তাদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। এরপরও অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবের দিক থেকে যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পের গুরুত্ব অটুট রয়েছে।