ঢাকা ০৭:৪৮ , Sun, ২০ Sep ২০২৬

কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পিকনিক ও মিলনমেলা

ফারজানা নাজ কানাডা
  • প্রকাশঃ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৪৫
  • / 3
বিয়ার ক্রিক পার্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পিকনিক ও মিলনমেলা ছবি: প্রজন্ম কথা

সারি, ৫ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও স্মৃতির বন্ধন এখনও অটুট। কানাডার ভ্যাঙ্কুভার ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়ে ওঠা ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অব বিসি’র উদ্যোগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক পিকনিক ও মিলনমেলা।

৫ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারি শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বিয়ার ক্রিক পার্কে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে পার্কজুড়ে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্য থেকে কিছুটা সময় বের করে সাবেক শিক্ষার্থীরা আড্ডা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও পুরোনো স্মৃতিচারণে মেতে ওঠেন।

আড্ডায় ফিরে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসজীবনের নানা স্মৃতি। প্রিয় শিক্ষকদের স্নেহ, ক্যাম্পাসের প্রথম প্রেম, ঐতিহাসিক মধুর ক্যানটিনের আড্ডা এবং ছাত্রজীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে দীর্ঘ সময় গল্প করেন অংশগ্রহণকারীরা।

দিনটিকে আরও আনন্দময় করে তুলতে ছিল নানা ধরনের খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা। পুরুষদের জন্য আয়োজন করা হয় ফুটবল ম্যাচ। নারীদের জন্য ছিল মিউজিক্যাল পিলো ও মিউজিক্যাল চেয়ার। শিশু-কিশোরদের জন্য রাখা হয় ‘বল-ইন-দ্য-বাকেট’ প্রতিযোগিতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক স্থাপনা শনাক্তকরণের চিত্র-কুইজ। সাংস্কৃতিক পর্বে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় গান ও আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়।

খাবারের আয়োজনেও ছিল দেশীয় স্বাদের প্রাধান্য। সকালে পরিবেশন করা হয় চা ও বিস্কুট। দুপুরে অতিথিদের আপ্যায়নে ছিল পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস, ডিমের কারি, সালাদ ও ক্ষীর। বিকেলের আড্ডায় পরিবেশন করা হয় দেশি মসলায় তৈরি ঝালমুড়ি ও চা। অনুষ্ঠান শেষে র‍্যাফল ড্র এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের হাতেও তুলে দেওয়া হয় উপহার।

আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা দুটি ব্যানার ও একটি ফটোফ্রেম। এসব স্মারকে কার্জন হল, টিএসসি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, অপরাজেয় বাংলা, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, জগন্নাথ হল, মধুর ক্যানটিনসহ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও নান্দনিক স্থাপনার ছবি স্থান পেয়েছে। বর্ণিল ব্যানারটির নকশা ও পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন ম্যাক কবির (ম্যাক কবির খান)।

২০২২ সালে ‘এক্স স্টুডেন্ট পরিবার’ নামে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। পরে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অব বিসি’ রাখা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব উপলক্ষে পুনর্মিলনী আয়োজন করে আসছে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির উদ্যোগে বেশ কয়েকটি ঈদ পুনর্মিলনী ও পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিটি আয়োজন সফল করতে সংগঠনের সদস্যরা নিয়মিতভাবে কাজ করে আসছেন। ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদান এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁরা এসব অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেন। সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান সুমন, সৈয়দ নিজাম আহমেদ, শফিকুর রহমান, দিদার আহমেদ, মোহাম্মদ ইমন, রাসেল আমিন, রাশেদ মাহমুদ, জাহিদ লতিফ, ইমন বারী, সালমান মাহবুব, আবদুল মালেক, শাহাবুদ্দিন, লিমন, তাওলাদ হোসেন কাজল, মুনির ভূঁইয়াসহ অন্যান্য সদস্য।

হাসি, গান, খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তারুণ্যের স্মৃতিচারণে বিয়ার ক্রিক পার্কের এ আয়োজন ভ্যাঙ্কুভার ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য এক আনন্দমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়। দিনশেষে অংশগ্রহণকারীরা সঙ্গে নিয়ে ফেরেন ক্যাম্পাসজীবনের নানা স্মৃতিতে ভরা একটি আনন্দঘন দিনের অভিজ্ঞতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অব বিসির পক্ষ থেকে সৈয়দ নিজাম আহমেদ জানান, আগামী দিনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘শীতের পিঠা উৎসব’সহ আরও বিভিন্ন আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

❤️
👏
🙂
😞

কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পিকনিক ও মিলনমেলা

প্রকাশঃ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৪৫

সারি, ৫ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও স্মৃতির বন্ধন এখনও অটুট। কানাডার ভ্যাঙ্কুভার ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়ে ওঠা ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অব বিসি’র উদ্যোগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক পিকনিক ও মিলনমেলা।

৫ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারি শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বিয়ার ক্রিক পার্কে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে পার্কজুড়ে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্য থেকে কিছুটা সময় বের করে সাবেক শিক্ষার্থীরা আড্ডা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও পুরোনো স্মৃতিচারণে মেতে ওঠেন।

আড্ডায় ফিরে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসজীবনের নানা স্মৃতি। প্রিয় শিক্ষকদের স্নেহ, ক্যাম্পাসের প্রথম প্রেম, ঐতিহাসিক মধুর ক্যানটিনের আড্ডা এবং ছাত্রজীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে দীর্ঘ সময় গল্প করেন অংশগ্রহণকারীরা।

দিনটিকে আরও আনন্দময় করে তুলতে ছিল নানা ধরনের খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা। পুরুষদের জন্য আয়োজন করা হয় ফুটবল ম্যাচ। নারীদের জন্য ছিল মিউজিক্যাল পিলো ও মিউজিক্যাল চেয়ার। শিশু-কিশোরদের জন্য রাখা হয় ‘বল-ইন-দ্য-বাকেট’ প্রতিযোগিতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক স্থাপনা শনাক্তকরণের চিত্র-কুইজ। সাংস্কৃতিক পর্বে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় গান ও আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়।

খাবারের আয়োজনেও ছিল দেশীয় স্বাদের প্রাধান্য। সকালে পরিবেশন করা হয় চা ও বিস্কুট। দুপুরে অতিথিদের আপ্যায়নে ছিল পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস, ডিমের কারি, সালাদ ও ক্ষীর। বিকেলের আড্ডায় পরিবেশন করা হয় দেশি মসলায় তৈরি ঝালমুড়ি ও চা। অনুষ্ঠান শেষে র‍্যাফল ড্র এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের হাতেও তুলে দেওয়া হয় উপহার।

আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা দুটি ব্যানার ও একটি ফটোফ্রেম। এসব স্মারকে কার্জন হল, টিএসসি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, অপরাজেয় বাংলা, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, জগন্নাথ হল, মধুর ক্যানটিনসহ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও নান্দনিক স্থাপনার ছবি স্থান পেয়েছে। বর্ণিল ব্যানারটির নকশা ও পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন ম্যাক কবির (ম্যাক কবির খান)।

২০২২ সালে ‘এক্স স্টুডেন্ট পরিবার’ নামে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। পরে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অব বিসি’ রাখা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব উপলক্ষে পুনর্মিলনী আয়োজন করে আসছে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির উদ্যোগে বেশ কয়েকটি ঈদ পুনর্মিলনী ও পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিটি আয়োজন সফল করতে সংগঠনের সদস্যরা নিয়মিতভাবে কাজ করে আসছেন। ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদান এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁরা এসব অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেন। সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান সুমন, সৈয়দ নিজাম আহমেদ, শফিকুর রহমান, দিদার আহমেদ, মোহাম্মদ ইমন, রাসেল আমিন, রাশেদ মাহমুদ, জাহিদ লতিফ, ইমন বারী, সালমান মাহবুব, আবদুল মালেক, শাহাবুদ্দিন, লিমন, তাওলাদ হোসেন কাজল, মুনির ভূঁইয়াসহ অন্যান্য সদস্য।

হাসি, গান, খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তারুণ্যের স্মৃতিচারণে বিয়ার ক্রিক পার্কের এ আয়োজন ভ্যাঙ্কুভার ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য এক আনন্দমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়। দিনশেষে অংশগ্রহণকারীরা সঙ্গে নিয়ে ফেরেন ক্যাম্পাসজীবনের নানা স্মৃতিতে ভরা একটি আনন্দঘন দিনের অভিজ্ঞতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অব বিসির পক্ষ থেকে সৈয়দ নিজাম আহমেদ জানান, আগামী দিনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘শীতের পিঠা উৎসব’সহ আরও বিভিন্ন আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।